চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০২৫

কর্ণফুলীর ভাঙনরোধে ১৩৩ কোটি টাকার প্রকল্প

স্বপ্নপূরণ হচ্ছে বোয়ালখালীবাসীর

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

১৯ মার্চ, ২০২৫ | ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

কর্ণফুলীর ভাঙনরোধে ২০১৩ সালে ৭২ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছিল বোয়ালখালী ও রাউজানে। এরপর কেটে গেল এক যুগ। ভাঙনরোধের আশ্বাস ছাড়া কাজ দেখেনি এলাকাবাসী। অবশেষে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বড় প্রকল্পের স্বপ্নপূরণ হচ্ছে বোয়ালখালীবাসীর।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী স্বপন কুমার বড়ুয়া পূর্বকোণকে বলেন, কর্ণফুলীর ভাঙনে বোয়ালখালীর শত শত মানুষের ঘর-বাড়ি, জমি-জমা, হাট-বাজার ও নানা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন পর বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। আর আশ্বাস নয়, এবার আস্থা ফিরে আসবে মানুষের মনে।’ ঈদের পর জোরেশোরে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী বর্ষায় মানুষের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক কমে আসবে।

 

এলাকাবাসী জানান, স্বাধীনতার পর থেকে বোয়ালখালীতে নদী ও খালের ভাঙন ছিল। ৮০ ও ৯০-দশকের পর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। ভাঙনে ঐতিহ্যবাহী চৌধুরী হাট ও সরকারি খাদ্য গুদামসহ শত শত মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। উদ্বাস্তু হয়েছে শত শত মানুষ।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বোয়ালখালী ও রাজউান অংশে ২০১৩ সালে ৭২ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছিল। নির্বাচনে আগে তড়িঘড়ি করে ছোট আকারের এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। এরপর ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে ভাঙনরোধে ৩৫১ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী-সময়ে তা আলোর মুখ দেখেনি। ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর ভাঙনরোধে আশ্বাস দিয়েছিলেন তৎকালীন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী। সেই আশ্বাসও গুড়েবালি।

 

গত বছরের (২০২৪ সাল) ২৭ মে একনেক সভায় বোয়ালখালী উপজেলায় ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প পাস করা হয়। ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৪ কোটি নয় লাখ টাকা। ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে প্রকল্পের মেয়াদ-কাল ধরা হয়। ২০২৭ সালের ৩০ জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (রাঙামাটি বিভাগ) তয়ন কুমার ত্রিপুরা পূর্বকোণকে বলেন, ১৩৪ কোটি টাকার প্রকল্প ১১০ কোটি টাকায় কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রায় ২৪ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।’ ১০ প্যাকেজে ভাগ করে কাজের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ৪-৫ জন ঠিকাদার কাজ শুরু করেছেন। ট্রাস্কফোর্স কমিটির পরিদর্শন, গণনা ও অনুমতির পর জিও ব্যাগ ফেলা হবে।

 

প্রকল্পে দেখা যায়, ভাঙনকবলিত ৬ ইউনিয়নে ৬ দশমিক ৪৭০ কিলোমিটার এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে। ২৮টি স্থানে ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক বসানো হবে। এরমধ্যে কধুরখীল ইউনিয়নে কর্ণফুলী নদীর ভাঙনরোধে সৈয়দ খালে ৩১০ মিটার। পশ্চিম গোমদণ্ডীতে বোয়ালখালী খালের ভাঙনে ননাইয়ারমার ঘাট, দুমুখো খাল, ধুমঘাট ট্যাঙ্ঘর এলাকায় এক কিলোমিটার। পৌরসভার পূর্ব গোমদণ্ডীর ছন্দরীয়া খালের শেখপাড়া, নোয়াবপাড়া, বড়–য়াপাড়া, বিনয় বাঁশী এবং নাজিরখালী খালের সিপাহী নায়েব আলী ও রায়খালী খালে এক দশমিক ৮৭৫ কিলোমিটার। শাকপুরা ইউনিয়নের রায়খালী খালের কৈবর্ত্য জেলে পাড়া, আনিস তালুকদারপাড়া ও বোয়ালখালী খালের আজগর আলী, মিলিটারি পুল, আমু মাঝি পাড়া, মোজাফ্ফর তালুকদারপাড়া, শেখ আহমদ, মুন্সিবাড়ি পাড়ায় এক দশমিক ৬৯০ কিলোমিটার। চরণদ্বীপ ইউনিয়নের মসজিদ ঘাট, বড়ুয়াপাড়া, ফকিরখীল বড়–য়াপাড়া, ইব্রাহীম খাল এলাকায় ৬৫৫ মিটার। শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের ভারাম্বাঘাট ও শেখপাড়া, জেলেপাড়া, আমিরপাড়া ও আমিরপাড়া মসজিদ এলাকায় ৯৪০ মিটার।

 

পূর্বকোণ/ইব

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট