চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪

কেএনএফকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বম সম্প্রদায়ের ভিডিও বার্তা

বান্দরবান সংবাদদাতা

১০ মে, ২০২৪ | ৭:১৩ অপরাহ্ণ

পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন কুকিচিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট কেএনএফ’র বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে বম সম্প্রদায়ের সংগঠন বম সোশ্যাল কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ।

 

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বান্দরবানের রুমা উপজেলার সোনালী ব্যাংকের লুট হওয়া ১৪টি অস্ত্র ফেরত ও সন্ত্রাসী তৎপরতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসলে তাদের বিরুদ্ধে গ্রামে গ্রামে জন প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন।

 

শুক্রবার (১০ মে) বান্দরবানের নিউ গুলশান এলাকার বাংলাদেশ খ্রিস্টান চার্চ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভার পর ভিডিও বার্তায় নেতৃবৃন্দ কেএনএফ’র প্রতি এই হুঁশিয়ারি বার্তা দেন।

 

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি লাল জারলম বম, সাধারণ সম্পাদক লাল থান জেল বম, বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য জুয়েল বমসহ বম সম্প্রদায় ও ইয়ং বম অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। বম সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষায় ভিডিও বার্তাটি দেওয়া হয়।

 

সংগঠনের সভাপতি লালজারলম জানিয়েছেন, কেএনএফ’র সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণে বম সম্প্রদায় অধ্যুষিত পাড়াগুলোতে এখন খাদ্য সংকটসহ মানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেখানকার লোকজন এখন জুম চাষ করতে পারছে না, বাগানে উৎপাদিত ফল বিক্রি করতে পারছে না। টিকতে না পেরে দু শ’র অধিক বম সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ পার্শ্ববর্তী ভারতের মিজোরামে আশ্রয় নিয়েছেন। এ অবস্থায় আমরা কেএনএফ’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছি তারা যাতে অবিলম্বে ব্যাংকের লুট হওয়া ১৪টি অস্ত্র ফেরত দেয়। এছাড়া সন্ত্রাসী তৎপরতা ছেড়ে তারা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। আর যদি তারা তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায় তবে তাদের বিরুদ্ধে গ্রামে গ্রামে সাধারণ বম সম্প্রদায় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। ইতোমধ্যে ২ শ’ যুবক প্রতিরোধে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

 

বম সোশ্যাল কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ আরও জানিয়েছেন, কেএনএফ অস্ত্র ফেরত দিয়ে আলোচনায় বসতে চাইলে বম সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ সহায়তা করবে এবং আলোচনার জন্য সরকারের দুয়ার সব সময় খোলা রয়েছে।

 

উল্লেখ্য, পাহাড়ে নতুন গজিয়ে ওঠা সশস্ত্র সংগঠন কুকিচিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) গত ২ ও ৩ এপ্রিল বান্দরবানের রুমা ও থানচি উপজেলায় সোনালী ও কৃষি ব্যাংকের তিনটি শাখায় হামলা চালিয়ে অস্ত্র-গুলি ও টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৭৮ জন কেএনএফ সদস্য ও তাদের সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে নিহত হয়েছে কেএনএফ সংশ্লিষ্ট তিনজন।

 

 

পূর্বকোণ/মিনার/জেইউ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট