চট্টগ্রাম রবিবার, ২৬ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে গরু নিয়ে পালিয়ে যেত ওরা

সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা

১৯ এপ্রিল, ২০২৪ | ৯:০২ অপরাহ্ণ

দিন দুপুরে পর্যটকের বেশে দামি মডেলের মাইক্রোগাড়ি নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরত ৭-৮ জনের দুর্ধর্ষ গরু চোরের দল। ঘুরতে ঘুরতেই টার্গেট করত কোন একটা গরুর গোয়াল অথবা খামার, যেখান থেকে নিরাপদে গরু চুরি সম্ভব হবে। এরপর একজন থেকে যেত এলাকায়। অন্যরা চলে যেত নিরাপদ স্থানে।

 

রাতে তারা আবারও ফিরে আসত একটি ঢাকা দেওয়া পিকআপ ভ্যান নিয়ে। এরপর পূর্বনির্ধারিত গোয়ালে হানা দিয়ে চুরি করত গরুগুলো। এই চুরির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারা আগ্নেয়াস্ত্র সাথে রাখত। কেউ বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে গুলি চালাতেও দ্বিধা করত না।

 

এভাবেই চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডসহ আশপাশের উপজেলাগুলোতে ব্যাপক হারে গরুচুরি করতে থাকে চক্রটি। আর চুরি করা এসব গরু তারা নিয়ে যেত কক্সবাজারের চকরিয়ায়। সেখানে একজন জনপ্রতিনিধিসহ কিছু ক্রেতা গরুগুলো কিনে নিয়ে তাৎক্ষণিক জবাই করে বিক্রি কিংবা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতেন।

 

এভাবেই বিগত কয়েকমাস চুরি করলেও অবশেষে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে সীতাকুণ্ডের পার্শ্ববর্তী মিরসরাই উপজেলা থেকে গরু চুরি করে ফেরার সময় খবর পেয়ে যায় সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ।

 

খবর পেয়ে পুলিশের তিনটি টহল দল ধাওয়া করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সদরে একটি গলিতে ঢুকে পড়ার পর তিনজন চোরকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও পালিয়ে যায় চক্রের কয়েকজন। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি গরু উদ্ধার হয়। এসব তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল উদ্দিন।

 

গ্রেপ্তাররা হল- কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভা এলাকার লক্ষ্যরচর গ্রামের বাসিন্দা মো. আমির হোসেনের ছেলে মো. মুবিন উদ্দিন (৩২), চকরিয়া তরছঘাটা ইউনিয়নের পশ্চিম ভাটাখালী গ্রামের নবাব মিয়ার ছেলে মো. সোহেল (২৪) ও চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড ভাড়ামুড়ি গ্রামের কালু সর্দার বাড়ির, ভাড়ামুড়ি গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. আব্দুল শুক্কুর (৩৪)। গ্রেপ্তার তিনজনই বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানার গ্যাইস্যাপাড়া এলাকায় বাস করেন।

 

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল উদ্দিন বলেন, অত্যন্ত পেশাদার ও আধুনিক পদ্ধতিতে চুরি করত তারা। গ্রেপ্তারের পর চোরদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে চকরিয়ায় অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে আরও দুটি গরু উদ্ধার করা হয়।

 

তিনি বলেন, গ্রেপ্তাররা জানিয়েছে তারা প্রতিদিন চুরি শেষে পিকআপটির রং বদলে ফেলত। পরদিন অন্য রংয়ের পিকআপ নিয়ে আবার চুরি করত। চুরিকালীন সবসময় আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে রাখত তারা।

 

ওসি কামাল উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি, গরু চুরির ঘটনায় দুটিসহ মোট তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদেরকে আজ শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় চক্রের পালিয়ে যাওয়া অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

 

পূর্বকোণ/সৌমিত্র/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট