চট্টগ্রাম সোমবার, ২৭ মে, ২০২৪

ঈদের ৩য় দিনে পর্যটকের ঢল, হোটেল-মোটেলে মিলছে না রুম

কক্সবাজার সংবাদদাতা

১৩ এপ্রিল, ২০২৪ | ১০:০৯ অপরাহ্ণ

 ঈদুল ফিতর এবং বৈশাখের টানা ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের ঢল নেমেছে। ঈদের দিন তুলনামূলকভাবে পর্যটক কম হলেও ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই বেড়েছে পর্যটকের সংখ্যা। শনিবার (১৩ এপ্রিল) ঈদের তৃতীয় দিনে সৈকতের বিভিন্ন স্পট লাবনী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, কলাতলী পয়েন্ট সহ ইনানী বিচেও পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সৈকতের কিটকটে বসে, ওয়াটার বাইক, বিচ বাইক ও ঘোড়ায় চড়ে ঘুরতে দেখা গেছে পর্যটকদের। জেলার ইনানী, পাটুয়ারটেক, মহেশখালী, রামুর বৌদ্ধ মন্দিরসহ অন্যান্য স্পটেও পর্যটকদের পদচারণা লক্ষ্য করা গেছে। এই বিপুল সংখ্যক পর্যটকের চাপে হোটেল-মোটেলে রুমের অভাব দেখা দিয়েছে।

 

হোটেল মালিকরা জানাচ্ছেন, ঈদের ছুটির চার দিনে কক্সবাজার সৈকত ভ্রমণ করবেন অন্তত চার লাখ পর্যটক। এর ফলে হোটেল–রেস্তোরাঁসহ পর্যটন–সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অন্তত ৭০০ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে। গত বছরের তুলনায় এবার তীব্র গরমেও ঈদের তৃতীয় দিনে কক্সবাজারে পর্যটকদের সমাগম দিগুন হয়েছে।

 

টুয়াকের সেক্রেটারি নুরুল কবির পাশা বলেন, “ঈদের ১ম ও ২য় দিনের তুলনায় ৩য় দিনে কক্সবাজারে পর্যটকদের সমাগম দিগুন হয়েছে। প্রায় হোটেল-মোটেলে পর্যটকে ভরপুর।” ঈদের ছুটিতে ব্যাপক পর্যটক সমাগমের কথা মাথায় রেখে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক টহল চালাচ্ছে। সৈকতে পর্যটকদের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। বিপদাপন্ন কোনো পর্যটক একটি বাটন টিপেই সেবা নিশ্চিত করতে পারবেন।

 

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আপেল মাহমুদ বলেন, “পর্যটকের নিরাপত্তা ও সেবায় সৈকত এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক টহল রয়েছে। ঈদের ছুটিতে ব্যাপক পর্যটক সমাগমের কথা মাথায় রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে। সৈকতে পর্যটকদের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করেছি আমরা। বিপদাপন্ন কোনো পর্যটক একটি বাটন টিপেই সেবা নিশ্চিত করতে পারবেন।”

 

ঈদের ছুটির বাকি দুই দিনেও কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল ঠেকানোর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। হোটেল মালিকরা জানান, ইতোমধ্যে অগ্রিম বুকিং শেষ হয়ে গেছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পর্যটকদের চাহিদা ও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করে হোটেল মালিকরা রুমের ভাড়া কিছুটা বাড়িয়েছেন। রোজার মাসে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের দেওয়া হয়েছিল সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। কিন্তু ঈদের ছুটিতে কোনো ছাড়ই পাচ্ছেন না পর্যটকরা।

 

এদিকে, ঈদের আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি স্থানীয় খাবারের রুচি উপভোগ করতেও ভিড় করছেন পর্যটকরা। সৈকত এলাকার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে সামুদ্রিক মাছ, চিংড়িসহ নানান রকমের খাবারের চাহিদা বেড়েছে। তবে পর্যটকদের এই আনন্দ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং চালিয়ে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন। সৈকত এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, অতিরিক্ত মূল্য আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। গরমের সঙ্গে লড়াই করেও লাখো লাখো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সমুদ্র সৈকত।

 

 

পূর্বকোণ/এরফান/আরআর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট