চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

টাকার বিনিময়ে ‘নমুনা কবর’!

এস.এম মোরশেদ মুন্না, নাজিরহাট

১ এপ্রিল, ২০২৪ | ১:৩৫ অপরাহ্ণ

কুচক্রী মহলের কালো থাবা এবার কবরস্থানের উপর। ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের ঐতিহ্যমণ্ডিত বন্দেরাজা মসজিদ সংলগ্ন প্রায় আড়াই শত বছরের পুরাতন কবরস্থানে লাশবিহীন ‘নমুনা কবর’ তৈরি করে তা বিভিন্ন প্রলোবনে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুল কাদের চৌধুরী গং বাদী হয়ে ফটিকছড়ি সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

 

মামলার এজাহার ও সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানা যায়, লেলাং বন্দেরাজা মসজিদ সংলগ্ন লেলাং মৌজার (বিএস-৩০১৭) দাগে সরকারি খাস জায়গার উপর আনুমানিক ১’শ শতাংশ জায়গায় উক্ত কবরস্থানটি প্রতিষ্ঠিত। দীর্ঘ প্রায় আড়াই শত বছর ধরে বংশ পরম্পরায় অতি পুরাতন কবরস্থানটিতে এলাকাবাসীরা মৃত ব্যক্তিদের দাফন করে আসছে। অনেক বেওয়ারিশ লাশও এলাকাবাসীদের অনুমতিক্রমে উক্ত কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে জানা যায়।

 

কবরস্থানটি সরকারি খাস জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত। এ সুযোগে গত কয়েক বছর ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কুনজরে আসে কবরস্থানটি। ওই মহলটি কবরস্থানে লাশবিহীন ১০ ফুট বাই ১০ ফুট ‘নমুনা কবর’ তৈরি করে বিভিন্ন জায়গার মানুষের কাছে তা কৌশলে প্রচার করে কবরস্থান ভরাট, পরিষ্কার এবং মামলা খরচের কথা বলে মোটা অংকের টাকায় বিক্রি করছে। পরিদর্শনে কবরস্থানে একাধিক লাশবিহীন কবরের দেখা মিলেছে। কয়েকটি ‘নমুনা কবর’ একেবারে পাকা দেওয়াল করে রেখেছে। বুঝার উপায় নেই এটি কি আসল নাকি ‘নমুনা কবর’। এমন কর্মকান্ডে ক্ষোভে ফুঁসছে কবরস্থানের আশপাশের এলাকাবাসী।

 

স্থানীয় বাসিন্দা, লেদু চৌধুরী, মুহাম্মদ সেলিম জানিয়েছেন- যুগের পর যুগ বংশপরম্পরায় আমরা মৃত ব্যক্তিদের এই কবরস্থানে দাফন করে আসছি। কবরস্থানে কবর দিতে আমাদের আপত্তি নেই। আপত্তি হচ্ছে- কবরস্থান থাকার পরও দূর-দূরান্ত হতে এসে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কবর দেওয়া, কবরস্থানের একাধিক কবরের জায়গা দখল করে একেবারে পাকা দেওয়াল দিয়ে ‘নমুনা কবর’ তৈরি করে তা বিক্রি করা ইত্যাদি। এই নিয়ে আমরা মামলা করেছি। আশাকরি বিজ্ঞ আদালত হতে আমরা সু-বিচার পাবো।

 
লেলাং ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার উদ্দিন চৌধুরী শাহিন বলেন- কবরস্থানটি অতি প্রাচীন এবং সরকারি খাস জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত। উক্ত কবরস্থানে কবরের জায়গা দখল করে আগেভাগে নমুনা কবর করা হয়েছে। যা অত্যন্ত আপত্তিকর। কবর বিক্রি করার বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে নিশ্চিত নই। এ নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

পূর্বকােণ/এসএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট