চট্টগ্রাম সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪

বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত রায়খালী খাল সেচ দিয়ে বিপাকে বোরো চাষিরা

পূজন সেন, বোয়ালখালী

১ এপ্রিল, ২০২৪ | ১:২২ অপরাহ্ণ

বোয়ালখালীর রায়খালী খালে ছড়িয়ে পড়া কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যরে দূষিত পানি দিয়ে সেচ দেওয়ায় ধ্বংসের মুখে বোরো ধানক্ষেত। এতে বিপাকে পড়েছেন বোরো চাষিরা। খালের দূষিত পানির কারণে উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের প্রায় ২২৮ একর জমির বোরো ধানের ক্ষেত ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফসল উৎপাদনে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

 

এ ব্যাপারে গত ২৫ মার্চ সারোয়াতলী ইউনিয়নের পাঁচজন স্কিম ম্যানেজার কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। এতে কৃষক মো. নুরুল আবছার, মো. ইদ্রিছ, মো. ইউছুপ, মো. হামিদুল হক চৌধুরী ও ইমাম শরিফ জানান, তাদের সেচ স্কিমের আওতায় প্রায় ২২৮ একর জমির বোরো ধানক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

স্থানীয় সেচ স্কিম ম্যানেজার কৃষক নুরুল আবছার বলেন, সারোয়াতলী মাঝির পাড়া হাজী বিলে প্রায় ৬০ একর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। রায়খালী খালের পানি দিয়ে সেচ দেওয়ার পর স¤প্রতি এসব জমির ধানক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ক্ষতির মুখে পড়া এই বিলের কৃষকেরা সেচ খরচ দিতে এখন অপরাগতা প্রকাশ করছেন। নিজের চাষ করা বোরো ধানক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত। এবারের মতো ক্ষতি আর কখনও হয়নি।

 

তিনি জানান, সারোয়াতলীর ৭টি স্কিমের আওতায় অন্তত ৫শ কৃষক বোরো ধানের চাষ করেছেন। এতে ব্যবহার করেন রায়খালী খালের পানি। কল-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য খালে ফেলার কারণে পানি দূষিত হয়ে গেছে। ফলে ফসল উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক উল্লাহ বলেন, খালের দূষিত পানি দিয়ে সেচ দেওয়ার ফলে সারোয়াতলী ও বেঙ্গুরা এলাকার কয়েকটি বিলের বোরো ধানক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে খালের পানি দিয়ে সেচ প্রদানের ক্ষেত্রে সর্তকতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, এছাড়া বোরো মৌসুমে বৃষ্টি না হলে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যায় নদী ও খালের পানিতে। লবণাক্ততার কারণে ফলন কিছুটা কম হয়। তাই পুকুর বা জলাশয়ের পানি ব্যবহার করতে হবে। তবে নদী ও খালের পানির দূষণরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আন্তরিকতার সাথে উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানান এ কৃষিবিদ।

পূর্বকোণ/এসএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট