চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

দক্ষিণ জেলা যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে ধোঁয়াশা

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

২৯ মার্চ, ২০২৪ | ২:১৬ অপরাহ্ণ

দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। মাসখানেক আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য কেন্দ্রে তালিকা জমা দেয় জেলা কমিটি। কিন্তু জেলার মন্ত্রী-এমপি ও আওয়ামী লীগের জেলা-উপজেলা নেতাদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার অভিযোগে আটকে রয়েছে যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি।
২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান মো. দিদারুল ইসলামকে সভাপতি ও বোয়ালখালী পৌরসভার মেয়র মো. জহুরুল ইসলাম জহুরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির মধ্যে ৪১ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কমিটি ঘোষণার পর থেকেই শনির দশায় পড়েছে যুবলীগ। নানা বিতর্কের পর ঘোষিত কমিটির দুই সহ-সভাপতি পদত্যাগ করেছেন।
যুবলীগের নেতা-কর্মীরা জানান, সাবেক এক মন্ত্রীর অনুগতদের নিয়ে দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ওই মন্ত্রী মন্ত্রিত্ব হারালে যুবলীগের কমিটি নিয়ে টালমাটাল শুরু হয়। বর্তমানে এক প্রতিমন্ত্রীর ইশারায় যুবলীগের কমিটির মোড় ঘুরে যায়।
যুবলীগের একাধিক নেতা জানান, মাসখানেক আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য কেন্দ্রে তালিকা পাঠানো হয়। কিন্তু নানা অভিযোগের কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন আটকে যায়। জেলার আওতাধীন বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য-মন্ত্রী, জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় না করেই কেন্দ্রে তালিকা জমা দেওয়া হয়। এতে বেঁকে বসেছেন দলের শীর্ষ নেতারা। তাদের মৌখিক অভিযোগের কারণে ঝুলে যায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা যুবলীগের তিন সদস্য বলেন, ‘কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় না করেই কেন্দ্রে তালিকা পাঠানো হয়েছে। আমাদের অন্ধকারে রেখে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।’
কেন্দ্রীয় যুবলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মীর মো. মহিউদ্দিন পূর্বকোণকে বলেন, ‘মাসখানেক আগে জেলা কমিটি থেকে তালিকা পাঠানো হয়েছে বলে শুনেছি। তবে কী ধরনের তালিকা জমা দিয়েছেন তা স্পষ্ট করেনি জেলা যুবলীগ কমিটির নেতারা।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি মো. দিদারুল ইসলাম পূর্বকোণকে বলেন, ‘বিভিন্ন পদে যারা আবেদন করেছেন তাদের সিভি (জীবনবৃত্তান্ত) কেন্দ্রে জমা দিয়েছি। কেন্দ্র যাচাই-বাছাই করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবে।’
গত ৯ মার্চ সরকারের অর্থ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর ওয়াসিকা আয়শা খান প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। পরে নিজ এলাকা আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এসব অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জহুর।
বাঁশখালীর কমিটি নিয়ে বিতর্ক : গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালী উপজেলার যুবলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটি ঘোষণার পর তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন ও টাকার বিনিময়ে কমিটি ঘোষণার অভিযোগ করে কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন এক যুগ্ম আহ্বায়ক সহ ৫ জন। অতীত রাজনীতির মিথ্যা পদবি ব্যবহার ও অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছে দাবি করে পদত্যাগ করেছেন তারা।
এই কমিটি নিয়ে আপত্তি জানান বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল গফুর। কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে যৌথ স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ আপত্তি জানান তারা। চিঠিতে তারা উল্লেখ করেছেন, ৩১ সদস্য বিশিষ্ট যুবলীগের কমিটির ৩০ জনই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কাজ করেছেন। অতীতে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত লোকজনও যুবলীগের কমিটিতে স্থান পেয়েছে। এছাড়াও হত্যা মামলার আসামি, ভূমিদস্যু ও মাদক-ইয়াবা কারবারির সঙ্গে সম্পৃক্ত লোকও কমিটিতে স্থান পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিটি নিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্যের বিষয়টি বহুলভাবে প্রচারিত হয়েছে। এতে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা হতাশ ও মর্মাহত। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
১৫ ফেব্রুয়ারি ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে বিতর্কিতদের নিয়ে উপজেলা যুবলীগের কমিটি গঠনের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পদত্যাগ করা ৫ যুবলীগ নেতা। সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, কোটি টাকার লেনদেনের মাধ্যমে বিতর্কিত ভুয়া জন্মসনদ ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করা ১৪ জনকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। এছাড়াও কমিটির আহ্বায়ক হত্যা মামলার আসামি এবং কমিটিতে চাঁদাবাজি মামলার আসামি, ভূমিদখলবাজদের রাখা হয়েছে।
বাঁশখালী উপজেলা যুবলীগের সেই ৫ নেতার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে নালিশি মামলা করেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে করা মামলা আমলে নেয় আদালত। শুনানি শেষে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বাঁশখালী উপজেলা যুবলীগের কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘ওটা গত হয়ে গেছে। এ বিষয়ে বাদ দেন।’

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট