চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

দেড় কোটি টাকা দিয়েও ঘাটে ভিড়তে পারছে না ইজারাদাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ মার্চ, ২০২৪ | ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরের বাংলা বাজার স্ট্যান্ডরোডের এপিসি রেলীঘাটসহ ১২৬ কাটা জায়গা সরকার থেকে চুক্তিমূলে নতুন করে ভাড়া নেওয়ার পর বিপাকে পড়েছেন ইজারাদার সাইফুল ইসলাম। বাংলাদেশ জুট করপোরেশন (বিজেসি) থেকে ইজারা পাওয়ার ৫ মাস অতিবাহিত হলেও ঘাটে ভিড়তে পারছেন না তিনি। তার অভিযোগ- একটি অবৈধ দখলদারচক্র পেশীশক্তি খাটিয়ে ঘাটটি দখল করে রেখেছেন। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাছে। তার মাসে লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে।  

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তৈয়ব শাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাসুদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলা বাজার স্ট্যান্ডরোডের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন এপিসি রেলীঘাটসহ ২ হাজার ৭৫০ একর পরিত্যক্ত জায়গা ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর পিএস শিপিংকে ৩ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়। তাদের মেয়াদ শেষ হয় ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এরপর প্রতিষ্ঠানটির সাথে পুনরায় চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় বিজেসি নতুনভাবে টেন্ডার আহ্বান করে। এতে ১১৬ টাকা সর্বোচ্চ দরদাতা আমাদের প্রতিষ্ঠান তৈয়ব শাহ এন্টারপ্রাইজ জায়গার লিজ পায়। ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর ইচ্ছাপত্র অনুসারে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার ১০৮ টাকা পে-অর্ডারে বাংলাদেশ জুট করপোরেশনকে ইজারাদার পশ্চিম মাদারবাড়ির নজমুল ইসলামের ছেলে আমার বড় ভাই সাইফুল ইসলাম পরিশোধ করেন।

সাইফুল ইসলামের ভাই মাসুদুল ইসলামের অভিযোগ, সমস্ত নিয়ম মেনে আমার প্রতিষ্ঠান এপিসি রেলীঘাট ইজারা নেয়। তবে এ ঘাটের পূর্বের ইজারাদার পিএস শিপিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল আলম মাসুদ আমার ভাই সাইফুল ইসলাম, শাহিদুল ইসলাম ও মো. জাহিদুল ইসলামকে ইজারাকৃত জায়গায় যেতে বাঁধা দিয়ে আসছেন। আমাদের সন্ত্রাসী দিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) তসলিমা কানিজ নাহিদা স্বাক্ষরিত এক আদেশে বিজেসি মালিকানাধীন ২৭৫০ একর জায়গা অবৈধ দখলদার মেসার্স পিএস শিপিংয়ের ব্যবস্থাপনা অংশীদার আশরাফুল আলম মাসুদকে ৭ দিনের মধ্যে সংস্থাকে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য ‘উচ্ছেদ নোটিশ’ প্রেরণ করে। এর মধ্যে পিএস শিপিংয়ের পক্ষে হাইকোর্টে স্ট্রে অর্ডার এনে জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেয়। সর্বশেষ গত ১১ মার্চ হাইকোর্টের সিভিল ডিভিশন নং-৪১২ আগামী ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দেন। ফলে উচ্ছেদে আর কোন বাধা না থাকা সত্ত্বেও আদৃশ্য কারণে জেলা প্রশাসন অবৈধ দখলদার মুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছেন না।

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট