চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

জলদস্যুদের কবলে মিরসরাইয়ের শাকিল-অভি, জিম্মিদের বাঁচানোর আকুতি পরিবারের

মিরসরাই সংবাদদাতা

১৪ মার্চ, ২০২৪ | ৮:৪৫ অপরাহ্ণ

‘আঁর হুতে আঁতুন কথা লুআইছে, হরযে আঁর ফোনে এমবি নাই আঁই ১৫- ২০ দিন কথা কইতাম হাইরতাম ন, তোঁয়ার ওষুধ আব্বার আতায় আনাইয়ো’- এটাই ছিল মায়ের সাথে সোমালিয়া জলদস্যুদের হাতে অপহৃত বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর ফায়ারম্যান মোশারফ হোসেন শাকিলের (২৪) শেষ কথা। বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) শাকিলের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়- মা আনোয়ারা বেগম এসব বলে কান্না করছেন।

আনোয়ারা বেগম কান্না করতে করতে বলেন, ‘তোমরা আমার আদরের ছোট ছেলেকে আমার বুকে ফিরিয়ে দাও। কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে আমার অনুরোধ আমার সন্তানসহ যারা একসাথে জিম্মি সবাইকে তাদের মায়ের বুকে যেন ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

সোমালিয়া জলদস্যুদের হাতে অপহৃত বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর ফায়ারম্যান মোশারফ হোসেন শাকিল। তিনি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাই গ্রামের শামসুল হক বাড়ির শামসুল হকের ছোট ছেলে। শামসুল হকের ৬ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট শাকিল। জলদস্যুদের হাতে আটকের পর শাকিলের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সন্তানের জীবিত ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন শাকিলের অসুস্থ বাবা মা।

মোশারফ হোসেন শাকিলের বড় ভাই আবু বক্কর জানান, এইচএসসিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ৪ বছর আগে আমার ছোট ভাই চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জাহাজে যোগ দেয়। সর্বশেষ ৪ মাস আগে দেশ থেকে ছুটি কাটিয়ে জাহাজে ফিরেছে। এবার ছুটিতে দেশে আসলে বিয়ে করানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেল। আমাদের সকলের আদরের একমাত্র শৌখিন ছোট ভাই এমন বিপদের মুখোমুখি হবে তা ভাবতেই পারছি না। সর্বশেষ ভয়ার্ত কণ্ঠে আমাকে জানায়, সোমালিয়ান জলসদস্যুরা তাদের জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। সবাইকে একটি কক্ষে আটকে রেখেছে। এ কথা বলে কল কেটে দেয়। পরবর্তীতে রাতে ল্যাপটপের সাহায্যে আমাদের বার্তা পাঠায় সবার মোবাইল কেড়ে নিয়েছে। হয়তো ল্যাপটপ নিয়ে নিবে। আমার জন্য দোয়া করিয়েন।

জানা গেছে, জিম্মি থাকা ২৩ জনের মধ্যে ২ জনের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। এরমধ্যে একজন ইছাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূইয়া গ্রামের সুজাউল হক ভোলা মিয়ার ছেলে আইনুল হক অভি। তবে তারা সপরিবারে চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউড়ি এলাকায় থাকেন। আইনুল হক অভি ওয়েলম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আইনুল হকের বড় ভাই মুন্না বলেন, আমাদের সাথে মঙ্গলবার রাত ৮টায় শেষ কথা হয়েছে। তখন সে বলেছে আমাদেরকে সোমালিয়ার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ওইখানে যেতে দুই থেকে তিন দিন লাগবে। আমাদের মোবাইল সহ সবকিছু নিয়ে ফেলবে। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন বলেন, আমার ইউনিয়নের মোশারফ হোসেন শাকিল নামে একজন সোমালিয়ায় আটক জাহাজে রয়েছে। তাকে ফিরে পেতে পরিবারের লোকজন আকুতি করছে। আমরা যতটুকু দেখছি সরকার তাদের ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করছি আটক হওয়া সবাই দেশে ফিরে আসবে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভারত মহাসাগরে জলদস্যুরা বাংলাদেশের পতাকাবাহী এমভি আবদুল্লাহ নামের জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সোমালিয়া উপকূলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পণ্যবাহী জাহাজটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কবির গ্রুপ অব ইন্ড্রাস্ট্রিজ। ২৩ বাংলাদেশি নাবিকসহ বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ সোমালিয়ার কাছে ভারত মহাসাগরে সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়ে। গত রবিবার মোজাম্বিক থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছিল জাহাজটি। সোমবার জলদস্যুদের কবলে পড়ে এটি।

পূর্বকোণ/মিঠু/আরআর/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট