চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

নগর ও উত্তর জেলা বিএনপি ৩ বছরেও হলো না পূর্ণাঙ্গ কমিটি

মোহাম্মদ আলী 

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ | ১:১৫ অপরাহ্ণ

আংশিক আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই নগর ও উত্তর জেলা বিএনপির কমিটির কেটে গেলো তিন বছর। পূর্ণাঙ্গ কমিটি কিংবা সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের নেই কোন তোড়জোড়। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে হতাশা।

২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৩৯ সদস্যের এ কমিটিতে মহানগরে সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকে আহ্বায়ক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করকে সদস্য সচিব করা হয়েছিল।

অপরদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারকে আহ্বায়ক করে ৪৩ সদস্যের উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এ দুই কমিটি ঘোষণার তিন বছর দুই মাস অতিবাহিত হলেও পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি অথবা নতুন করে সম্মেলন করে মূল কমিটি গঠনের কোন প্রক্রিয়া না দেখায় হতাশায় ভুগছেন দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

বিএনপিসূত্র জানায়, আংশিক আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর কারণে দলের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসছে না। তাছাড়া দলের মধ্যে যারা সক্রিয় নেতা, তারাও দীর্ঘদিন ধরে আহ্বায়ক কমিটির শুধুমাত্র ‘সদস্য’ পরিচয় দিতে পারেন, কোন পদ-পদবির পরিচয় দিতে পারেন না। এ নিয়ে তাদের মধ্যেও রয়েছে হতাশা।

সূত্র জানায়, নতুন একটি কমিটি হয় দুই বছর মেয়াদের। কিন্তু মূল কমিটি গঠনের আগে ঘোষণা দেওয়া হয় আহ্বায়ক কমিটি। কয়েকমাস মেয়াদের এ আহ্বায়ক কমিটিকে কাজ করতে হয় বছরের পর বছর। তাতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে তেমন গতি আসে না। এ অবস্থায় কমিটির ভিতরে-বাইরে সবার মধ্যে একধরনের হতাশা বিরাজ করে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, নগরের ১৫ থানা ও ৪৩টি ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে নগর বিএনপি কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। যেকোন কমিটির ধারাবাহিকতা থাকলে সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি থাকে বেশি। শুধু নগর নয়, সব সাংগঠনিক জেলায় সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হলে নেতাকর্মীদের মাঝে তুলনামূলক সক্রিয়তা বাড়ে। ওয়ার্ড ও থানা কমিটি গঠনের পর সম্মেলনের মাধ্যমে নগর কমিটি করা হলে দলের মধ্যে সাংগঠনিকভাবে চাঙ্গাভাব সৃষ্টি হয়।

এদিকে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় উত্তর জেলা বিএপির নেতৃত্বের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ কারণে ‘কেন্দ্রীয় কর্মসূচি’ পালনের মধ্যে আটকে আছে আহ্বায়ক কমিটি। এ কমিটিতে নেই কোন ‘সদস্য সচিবে’র পদ। তাই আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকারের নেতৃত্বে এ কমিটির সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তিনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসলেই এ কমিটির তুলনামূলক সাংগঠনিক কার্যক্রম চলে বেশি। তিনি না থাকলে অনেকটা সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করে।

 

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট