চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

সর্বশেষ:

মধুর প্রতিশোধ, নাকি অন্য কিছু ?

মোহাম্মদ আলী

৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩ | ৫:১৭ অপরাহ্ণ

মধুর প্রতিশোধ, নাকি অন্য কিছু ? এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ফটিকছড়িবাসীর মনে। নির্বাচনের ৯ দিন আগে প্রচারণার মাঠ থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা মানতে পারছে না চট্টগ্রাম- (ফটিকছড়ি) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনির অনুসারীরা। তবে সনি গতকালও গণসংযোগ করেছেন। ভুজপুরে গণসংযোগকালে তিনি বলেছেন, ‘আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচন থেকে সরে যেতে হলে তিনি আমাকে বলবেন, অন্য কেউ নন। এটা স্রেফ গুজব।’

 

ফটিকছড়ি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনি দলের মনোনয়ন পেয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে মাঠে প্রচার- প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনে ৮ প্রার্থীর মধ্যে অন্যরাও কমবেশি মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ অবস্থায় নির্বাচনের ৯দিন আগে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান ও একতারা প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদকে আওয়ামী লীগের সমর্থন এবং নির্বাচনী মাঠ থেকে খাদিজাতুল আনোয়ার সনিকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা মানতে পারছে না সনির অনুসারীরা। সনিকে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টিকে কেউ কেউ অন্যভাবেও দেখছেন। এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে নির্বাচনী মাঠে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক নেতা দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফকিকছড়ি আসনে প্রার্থী হতে পারেননি সনির পিতা সাবেক সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ার। ওই সময়ে রাজনীতির মাঠে গুজব ছিল তার পিতা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে তেমন একটা ভূমিকা পালন করেননি। তাই বিষয়টি ভালভাবে দেখেননি আওয়ামী লীগের কিছু নেতা। ওইদিনের পুষে রাখার কষ্ট আওয়ামী লীগ নেতাদের কয়েকজন এবার সুযোগ বুঝে সনির বিপক্ষে নির্বাচনে অন্য কোনো খেলা খেলেছেন কিনা, এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নির্বাচনের মাঠে। তবে এ মুহূর্তে ফটিকছড়ির নির্বাচনী মাঠে যত প্রশ্ন ঘুরপাক করুক না কেন, সনি কিন্তু বসে নেই। গতকাল দুপুর পর্যন্ত তিনি ভুজপুরে গণসংযোগ করেছেন। এরপর দুপুরে তিনি উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আসেন। সেখানে দলের নেতাকর্মীর সাথে কথা বলেন।

 

এদিকে অন্য একটি সূত্র বলেছে, গতরাতে সনির সাথে চট্টগ্রাম শহরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে এটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে সনি নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা সত্য কিংবা গুজব যাই হোক না কেন, প্রকৃত ঘটনা আজকালের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে যাবে। তবে সনি সরে যাওয়ার নাটকের ঘটনায় এ মুহূর্তে মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন মুহাম্মদ আবু তৈয়ব। তিনি তরমুজ প্রতীক নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের অভিমত হচ্ছে, কোনো কারণে নির্বাচনী মাঠ থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনি সরে গেলে তার সুফল যাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসাইন মুহাম্মদ আবু তৈয়বের ঘরে। তখন সনির বেশিরভাগ অনুসারী চলে যাবে তৈয়বের দিকে।

 

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আমাকে ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ফোন দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচনী মাঠ থেকে ফটিকছড়ি আসনের নৌকার প্রার্থীকে সরে যেতে হবে। তার পরিবর্তে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান ও একতারা প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদকে সমর্থন দিয়েছে।’

 

পূর্বকোণ/জেইউ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট