চট্টগ্রাম সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪

সর্বশেষ:

টেকনাফে ২য় দিনে ৪৯ রোহিঙ্গা পরিবারের সাক্ষাৎকার গ্রহণ

টেকনাফ সংবাদদাতা

১ নভেম্বর, ২০২৩ | ৮:২৫ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের টেকনাফে ২য় দিনে ৪৯ রোহিঙ্গা পরিবারের শতাধিক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন মিয়ানমার প্রতিনিধি দল।

 

বুধবার (১ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটি দিয়ে কাঠের ট্রলারে বাংলাদেশ ত্যাগ করে প্রতিনিধি দলটি।

 

এদিন সকালে জেটি দিয়ে মিয়ানমারের ২৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ সফরে আসে। প্রথম দিন মঙ্গলবার টেকনাফের দু’টি সরকারি রেস্ট হাউসে ১৮০ রোহিঙ্গা পরিবারের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করে মিয়ানমারের এই প্রতিনিধি দলটি। ওইদিন দলটির ৩৬ সদস্য সকালে টেকনাফের বাংলাদেশ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটি দিয়ে কাঠের ট্রলারে করে তৃতীয় বারের মতো বাংলাদেশ আসেন। ট্রলারে ১১ জন মাঝিমাল্লা ছিলেন। যারা সবাই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক।

 

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) সামছু দৌজা বলেন, ২য় দিনের মতো প্রত্যাবাসনের তালিকায় থাকা ৪৯ পরিবারের রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ফিরে গেছে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল। যে কাজের জন্য তারা এসেছিলেন সেটি সম্পন্ন করেছেন।

 

বুধবার সকালে নদীপথ পাড়ি দিয়ে মিয়ানমারের ২৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল টেকনাফ জেটি ঘাটে পৌঁছায়। এ সময় তাদের স্বাগত জানানো হয়। এরপর তাদের সরকারি রেস্ট হাউসে নেওয়া হয়। সেখানে রোহিঙ্গাদের ৪৯ পরিবারের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলে। তবে আজকে যারা এসেছেন মূলত তারা রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করতে এসেছে। এখান থেকে যা যা তথ্য পেলেন তা তাদের কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধি দলটি।

 

মিয়ানমার প্রতিনিধি দল আগমনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে টেকনাফ রেস্ট হাউস এলাকায়। এপিবিএন, পুলিশের পাশাপাশি বিজিবিও দায়িত্ব পালন করেছে।

 

এর আগে ১৫ মার্চ ও ২৫ মে মিয়ানমার প্রতিনিধি দল দুই দফায় বাংলাদেশে আসে। সে সময় প্রায় ৭০০ রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে মিয়ানমার ফিরে যায় দলটি। তবে রাখাইনে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ দেখতে ৫ মে বাংলাদেশ সরকার ও রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধি দল রাখাইন সফর করে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ আট লাখ ৮৮ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর তালিকা মিয়ানমারের কাছে পাঠিয়েছিল। এরপর মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ৬৮ হাজার রোহিঙ্গার একটি ফিরতি তালিকা পাঠানো হয়। গত বছর জানুয়ারিতে ওই তালিকা থেকে পরিবারভিত্তিক প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১১৪০ জনকে বাছাই করা হয় পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে। এর মধ্যে ৭১১ জনকে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমার সম্মতি দিলেও বাকি ৪২৯ জনের ব্যাপারে তাদের আপত্তি ছিল। সে সময় ৪২৯ জনের তথ্য যাচাই-বাছাই করতেই মিয়ানমারের ১৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছিল।

 

মিয়ানমার প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন রাখাইন প্রাদেশিক সরকারের ইমিগ্রেশন ডিরেক্টর স নাইং। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার বিষয়ক সেলের মহাপরিচালক মিয়া মো. মাইনুল কবির। এ সময় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত আরআরআরসি মো. সামছু-দ্দৌজা, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিজিবি, জেলা পুলিশ ও এপিবিএন পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রত্যাবাসন চুক্তির পর ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর ও ২০১৯ সালের ২৩ আগস্ট দিনক্ষণ ঠিক হলেও প্রত্যাবাসন ভেস্তে গিয়েছিল মিয়ানমারের ছলচাতুরিতে। এরপর চলতি বছর চীনের মধ্যস্থতায় নতুন করে আলোচনায় আসে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। ৩ দফায় দেশটির প্রতিনিধি দল আসলেও প্রশ্নের মুখেই রয়েছে মিয়ানমারের অবস্থান। এর আগে চলতি বছর দুবার মিয়ানমার প্রতিনিধি দল আসে টেকনাফে। গত ১৫ মার্চ প্রথম দফায় এবং গত ২৫ মে দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে মিয়ানমার প্রতিনিধি এসেছিলেন। এরই মধ্যে গত ৫ মে বাংলাদেশের ৭ সদস্য এবং রোহিঙ্গাদের ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলও মিয়ানমারের মংডুর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে গিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে কয়েক দফায় ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারকে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ। তারমধ্যে মাত্র এক লাখ ১ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা ভেরিফাই করে মিয়ানমার সরকার। উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয়ে রয়েছেন। কিন্তু গত ৬ বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি মিয়ানমার।

 

সাক্ষাৎকার দিতে আসা টেকনাফের জাদিমুরা রোহিঙ্গা শিবিরের নেতা বজলুল রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে প্রায় একই রকমের বিষয় জানতে চাওয়া হয়। ২য় দিন বুধবার ৪৯ পরিবারের শতাধিক মানুষের সাক্ষাৎ নেন তারা। এখানে (বাংলাদেশে) আমরা আর থাকতে চাই না। নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। কিন্তু এমনভাবে যেতে চাই যাতে আর মিয়ানমার থেকে ফিরতে না হয়।

 

পূর্বকোণ/কাশেম/জেইউ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট