চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪

সেন্টমার্টিনে প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোরের যাত্রা শুরু

টেকনাফ সংবাদদাতা

৩০ অক্টোবর, ২০২৩ | ১১:০১ অপরাহ্ণ

সেন্টমার্টিনে ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোর’ উদ্বোধন করা হয়েছে। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দ্বীপে এখন বিকল্প মুদ্রা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। সেন্টমার্টিনে পরিত্যক্ত প্লাস্টিককে সবাই অবমূল্যায়ন করলেও এবার সেই প্লাস্টিককে মূল্যবান করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

 

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে সেখানে আর টাকার প্রয়োজন হচ্ছে না। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জমা দিয়েই সেন্টমার্টিনের অধিবাসীরা ব্যাগভর্তি বাজার বাসায় নিয়ে যেতে পারছেন।

 

সোমবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে সেন্টমার্টিনের জেটি সংলগ্ন সৈকতে ৩ মাসব্যাপী কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়ামিন হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড সদস্য মো. জামাল উদ্দিন।

 

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, প্লাস্টিক প্ল্যানেট ও মানবদেহের জন্য কী পরিমাণ ভয়াবহ তা যদি মানুষকে বুঝাতে সক্ষম হই তাহলেই এই আয়োজনের সার্থকতা। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন গত বছর এই আয়োজনের মাধ্যমে ২৩ ম্যাট্রিক টন প্লাস্টিক সেন্টমার্টিন থেকে মূল ভুখণ্ডে স্থানান্তর করেছিল। এ বছর আশা করছি এর চেয়েও বেশি পরিমাণ প্লাস্টিক এখান থেকে সরানো যাবে। এই কার্যক্রমে জেলা প্রশাসন একাত্মতা ঘোষণা করেছে।

 

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড সদস্য মো. জামাল উদ্দিন বলেন, সংগৃহীত প্লাস্টিক দ্বীপ থেকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে রিসাইকেল করা হয়। সংগৃহীত প্লাস্টিকের একটি অংশ দিয়ে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবীরা কক্সবাজারে করবে ‘সচেতনতামূলক প্রদর্শনী’। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন জনসাধারণের কাছে প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরবে।

 

সেন্টমার্টিনের সামুদ্রিক শৈবাল ও রঙিন প্রবাল সমৃদ্ধ বিশাল সমুদ্রের মনোরম দৃশ্য সবার নজর কাড়লেও প্রতিনিয়ত সমুদ্র ও দ্বীপের পরিবেশের অবনতি ঘটছে। যেখানে সেখানে এমনকি সমুদ্রের পানিতে প্লাস্টিক ফেলার কারণে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে দূষণ। হুমকির মুখে পড়ছে সামুদ্রিক জীব ও মানবজীবন। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কেবলমাত্র সরকারের একার পক্ষে করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দিন দিন বেড়েই চলেছে প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা। এছাড়াও পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের মূল্য দেওয়া বা রিসাইকেল করার মতো কোনো ব্যবস্থা সেন্টমার্টিনে না থাকায় সেখানকার মানুষ প্লাস্টিককে অপ্রয়োজনীয় মনে করে ফেলে দিত। সেন্টমার্টিন দ্বীপের এই প্লাস্টিক দূষণ কমানোর জন্য একদল স্বেচ্ছাসেবী গ্রহণ করেছে একটি নতুন উদ্যোগ।

 

জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই উদ্যোগের আওতায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে স্থাপন করা হয়েছে ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোর’। যেখানে মানুষ তাদের ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্যের খালি পাত্র বা বোতল এক্সচেঞ্জ করে নিতে পারছেন চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। এতে স্থানীয়দের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের চাহিদা যেমন পূরণ হবে, ঠিক তেমনই কমবে পরিবেশ দূষণ। এই ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোর’ প্রতি মাসে দুইবার করে চালু থাকবে। মানুষ তাদের জমানো প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ করে প্রয়োজন অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নিয়মিত নিতে পারবেন।

 

উল্লেখ্য, গত বছর সেন্টমার্টিনে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২৩ মেট্রিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য রি-সাইকেলিং করা হয়। দেশ বিদেশে ভিন্নতর ও অভিনব সব আইডিয়া নিয়ে সেবামূলক কাজ করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে কেউ যখন ভয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছে না তখন জীবনবাজি রেখে করোনা মহামারী মোকাবেলায় সম্মুখসমরে যুদ্ধ করে সাধারণ মানুষের ভালবাসা অর্জন করে নেয় এই প্রতিষ্ঠান। সমাজ সেবায় তাদের অসামান্য অবদানের জন্য ২০২৩ সালে সরকার তাদের একুশে পদকে ভূষিত করেন। এছাড়াও এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ২০২২ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কতৃক জাতীয় মানবকল্যাণ পদক ও ২০২১ সালে বৃটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ কর্তৃক ‘কমনওয়েলথ পয়েন্টস অফ লাইট’ পদকে ভূষিত হয়েছিল।

 

পূর্বকোণ/কাশেম/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট