চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪

বিয়ে বাড়িতে সামাজিক চাঁদা নিয়ে সংঘর্ষ, বরসহ আহত ১৭

লামা-আলীকদম সংবাদদাতা

২৫ অক্টোবর, ২০২৩ | ১০:০১ অপরাহ্ণ

বান্দরবানের লামায় বিয়ে বাড়িতে সামাজিক চাঁদা নিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষে বরসহ ১৭ জন আহত হয়েছে। এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে।

 

বুধবার (২৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব শিলেরতুয়া গ্রামে কনের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

 

জানা যায়, ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে বর, কনের বাবা-মা, সমাজের সর্দারসহ তিন পক্ষের ১৭ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৯ জনকে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে ৫ জনকে ভর্তি রেখে বাকী ৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বরের বাড়ি পার্শ্ববর্তী আলীকদম উপজেলায় হওয়ায় অনেকে আলীকদম গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বর নাজমুল ইসলাম।

 

খবর পেয়ে লামা থানা পুলিশের ২০ জনের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ একে একে আহতদের উদ্ধার করে লামা হাসপাতালে নিয়ে আসে।

 

কনের বাবা মো. হাসান ও পাশের বাড়ির মোবারক হোসেন জানান, আলীকদম উপজেলা সদরের বাজার পাড়া এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে নাজুমল ইসলামের সাথে তার মেয়ে ইয়াছমিন আক্তারের (১৮) বিয়ে ঠিক হয়। বুধবার পূর্ব শিলেরতুয়া মেয়ের নানার বাড়িতে অনুষ্ঠান করে মেয়েকে তুলে দেয়া হচ্ছিল। ইতোমধ্যে অধিকাংশ মেহমান খাওয়া দাওয়া শেষ করেছে। কিছু মেহমান খাচ্ছিল। এলাকার মৌলভী ডেকে বর-কনের উপস্থিতিতে বিবাহ হচ্ছিল। এ সময় কথা উঠে সামাজিক চাঁদা নিয়ে। তখন মেয়ের বাবা মো. হাসান বলেন এলাকার মুরুব্বি সাইফুল ইসলামসহ সামাজিক চাঁদা নিয়ে কথা হয়েছে। তখন পূর্ব শিলেরতুয়া সমাজের সর্দার আব্দুল মন্নান ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘আমি সমাজের সর্দার। আমি ছাড়া অন্য কেউ কিভাবে সমাজের চাঁদা ঠিক করে।’ এ সময় কথাবার্তার কাটাকাটি হলে বর ও কনে পক্ষের কয়েকজন সর্দার মন্নানের গায়ে হাত তোলে। অনুষ্ঠানে সর্দারের ছোট ভাই মো. রফিকও উপস্থিত ছিলেন। সে প্রতিবাদ করায় তাকেও মারধর করা হয়।

 

বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে মুহূর্তে সমাজের ৬০/৭০ জন লোক এসে বর পক্ষের মেহমান ও কনের লোকজনের উপর হামলা চালায়। অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায় এবং প্রচুর খাবার নষ্ট হয়। স্থানীয়দের হামলার ভয়ে আলীকদম থেকে আসা কিছু মেহমান ৫/৬টি মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী শিলেরতুয়া নয়া পাড়া গ্রামে আশ্রয় নেয়। পূর্ব শিলেরতুয়া গ্রামের রজ্জব আলীর ছেলে মো. শফির নেতৃতে ২০/২৫ জন ছেলে লাঠি হাতে নিয়ে তাদের ধাওয়া করে এবং শিলেরতুয়া নয়া মার্মা পাড়ার দক্ষিণে ঠান্ডাঝিরি নামকস্থানে তাদের মারধর করে। এ সময় আরো অনেকে আহত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
শিলেরতুয়া নয়া পাড়ার বাসিন্দা খতিজা বেগম বলেন, আলীকদমের মেহমানগুলোকে শিলেরতুয়া গ্রামের লোকজন নৃশংসভাবে মেরেছে।

 

আহতরা হলেন, বর নাজমুল হোসেন (২১), কনের বাবা মো. হাসান (৫০), মা সালমা বেগম (৪০), সর্দার আব্দুল মন্নান (৪৮), এলাকার মুরুব্বি মো. রফিক (৪২), সাইফুল ইসলাম (৫২), বর পক্ষের মো. বাদশা মিয়া (২৫), মো. রবিউল (১৭), ঈমাম মেহেদী (১৮), মো. এরফান (২২), ইমরান (১৮), মোজাম্মেল (২১), সাঈম (১৭), মনি আক্তার (৫০), রেজিয়া বেগম (৬৫) ও পূর্ব শিলেরতুয়া এলাকার মো. ইউসুফ (৩০), মো. আবু দাউদ (৪০)।

 

কনের মা সালম বেগম বলেন, এলাকার সবাই ডাকাত। এলাকার সবাইকে দাওয়াত দিতে পারি নাই বলে এই ঘটনা ঘটেছে। কনে পক্ষের অভিযোগ হামলাকারী ভাংচুরের পাশাপাশি বিয়ের মালামাল ও মেয়েদের গায়ের স্বর্ণ লুট করে নিয়ে গেছে। মেয়ের মামা মো. ইলিয়াছ বলেন, মন্নান সর্দার ঘটনা সূত্রপাত করেছে। কনের খালা জাহেদা বেগম বলেন, বিয়ে ভাঙতে তারা এই হামলা করেছে। মেহমানকে কেউ এভাবে মারে!

 

গুরুতর আহত মো. রফিক বলেন, সমাজের চাঁদা নিয়ে কথা হচ্ছিল। সামান্য বিষয় নিয়ে বর পক্ষের লোকজন বড় ভাই সর্দারের গায়ে হাত তোলে। আমাদের তিনজনকে মেরে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। পরে এলাকার লোকজন শুনে কি করেছে আমরা জানি না।

 

লামা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শামীম বলেন, আমরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে থানায় নিয়ে এসেছি। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ এসে তারপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পরে কনে কে তার বাবা মায়ের উপস্থিতিতে নিরাপদে বরের গাড়িতে তুলে দেয়া হয় এবং তারা নতুন বউকে নিয়ে চলে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন থানায় মামলা করলে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 

পূর্বকোণ/রফিক/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট