চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪

সর্বশেষ:

চকরিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে

মুরগির বাসায় ময়ূরের ছা !

এম জাহেদ চৌধুরী

১৩ অক্টোবর, ২০২৩ | ৮:৩১ অপরাহ্ণ

ময়ূরের রঙ্গীন পেখমের রঙের বিন্যাস, সৌন্দর্য্য এবং চালচলনে আভিজাত্য নজর কাড়ে সবার। ময়ূরের সৌন্দর্যে বিভোর হয়ে তাকে আঁকা হয় ক্যানভাসে, লেখা হয় কবিতায়, তার পালক স্থান পায় শখের সংগ্রহে। সেই নজর কাড়া ময়ূরের বংশ বৃদ্ধি পেয়েছে কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে। একসাথে ফুটেছে ১০টি ছানা। এই ছানাগুলোর মধ্যে ৪টি বন্যপ্রাণী হাসপাতালের আইসিইউতে, ৩টি মা ময়ূরের সাথে, ৩ টি আলাদা সেইফ হোমে রাখা হয়েছে। নিজ নিরাপত্তা শক্তি অর্জনের পর ছানাগুলো অপরাপর ময়ূরের পাখিশালায় ছেড়ে দেওয়া হবে।

 

প্রবাদ আছে, ‘কাকের বাসায় কোকিলের ছা’। কারণ কন্ঠে মানুষের মন কাড়লেও কোকিল তৈরি করে না নিজের নিবাস। ফলে, কোকিল ডিম পাড়ে কাকের বাসায়। তাও কাকের ডিম নষ্ট করেই নিজের ডিম দিয়ে আসে। সেখানেই কাক তা দিয়ে ফুটায় কোকিলের ছানা। এভাবেই বংশবৃদ্ধি করে চলে কোকিল। অনুরুপভাবে চকরিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ছানা ফুটেছে। ৩টি ময়ূরের দেয়া ১৭টি ডিমের মধ্যে ১০ টি ডিম রাখা হয়েছিল বন মুরগির তা রত ডিম অদলবদল করে। অপর ৭টি ডিম রাখা হয় ইনকিউবেটরে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কৃত্রিম প্রজননে মাত্র ১টি ডিম থেকে ছানা ফুটে। অপর দিকে বনমুরগী তা দিয়ে ছানা ফুটিয়েছে ৯টি। এ ঘটনা যারাই জানছেন তাদের মুখে নতুন প্রবাদ শুরু হয়েছে, ‘মুরগির বাসায় ময়ূরের ছা’।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের তত্ত্বাবধায়ক মাজহারুল ইসলাম জানান, ময়ূর ছানাগুলো পর্যাপ্ত শক্তি সঞ্চয়ের পর পাখিশালায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ২৯টি ময়ূর রয়েছে। তন্মধ্যে ১০টি গত বছরের ডিসেম্বরে গাজীপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক থেকে আনা হয়েছে। অপর ১৯টি ময়ূর বিগত ওয়ান ইলেভেন( তত্ত্বাবধায়ক) সরকারের শাসন আমলে ভিআইপি নেতাদের বাসা থেকে জব্দ করে সাফারি পার্কে হস্তান্তর করা হয়েছিল। নতুন ছানাসহ পার্কে এখন ৩৯টি ময়ূর রয়েছে।

 

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বন্যপ্রাণী হাসপাতালের সেইফ হোমে মা ময়ূরের পিছু নিয়েছে ৩টি ছানা। মাঝেমধ্যে ভয় পেয়ে পাখার নিচে লুকিয়েও যাচ্ছে। খাবার পেলে মা ময়ূর বিশেষ শব্দে ছানাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ছানাগুলো শব্দ শুনে দ্রুত পৌঁছায় মায়ের কাছে। ময়ূরছানার এমন উচ্ছল ছোটাছুটি বেশ উপভোগ করছেন সেবায় নিয়োজিত পার্কের কর্মীরা। এইসময় পাখিশালায় রাখা ময়ূর দেখতে দর্শনার্থীদের বেশ আগ্রহ দেখা গেছে। তাদের মধ্যে বাঁশখালী থেকে আসা শাকিল নামে এক যুবক বলেন, ‘শুনেছি আরো ১০টি ময়ূর ছানা ফুটছে। সেই ছানাগুলো পাখিশালায় আনলে আরো বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠবে ময়ূর দর্শন।’

তত্ত্বাবধায়ক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘৩৫ দিন পূর্বে ৩টি ময়ূর ডিম দিয়েছিল। সেখান থেকে কৃত্রিম উপায়ে ১টি ও উন্মুক্ত স্থানে থাকা বনমুরগির দেয়া ডিমের সাথে অদলবদল করে ৯টিসহ ১০টি ময়ূর ছানা ফুটছে। ময়ূরের গড় আয়ু ২০ বছর। এরা সাধারণত বীজ, পোকামাকড়, সরীসৃপ, ফল এবং ছোট প্রাণী খেয়ে থাকে। তবে সেইফ হোমে রাখা ছানাগুলোকে ভুট্টার গুঁড়া দেয়া হচ্ছে।’

 

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে দেশের প্রথম সাফারি পার্ক হিসেবে কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এই পার্কে প্রায় সাড়ে ৩০০ পশু-পখি রয়েছে বেষ্টনীতে। উন্মুক্ত রয়েছে হরিণ, বানর, খরগোশসহ প্রায় ৩ হাজার প্রাণী।

 

পূর্বকোণ/জাহেদ/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট