চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪

সর্বশেষ:

মিটানো হচ্ছে স্থানীয় চাহিদা

খামারিদের ডিম সাতকানিয়া ছাড়িয়ে চট্টগ্রাম-বান্দরবানে

সৈয়দ মাহফুজ-উননবী খোকন 

১৩ অক্টোবর, ২০২৩ | ১:৩৪ অপরাহ্ণ

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে প্রতিদিন অন্তত অর্ধ লাখ ডিমের জোগান দিচ্ছে সাতকানিয়া উপজেলার খামারিরা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, সাতকানিয়ায় দৈনিক দেড় লাখেরও বেশি ডিমের উৎপাদন হয়। তারমধ্যে স্থানীয় বাজারে চাহিদা রয়েছে ১ লাখ। বাকি অর্ধ লাখ ডিম প্রতিদিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও চট্টগ্রাম শহরের বাজার ধরছে।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার কাঞ্চনা, কেঁওচিয়া, সাতকানিয়া সদর, বাজালিয়া, পুরানগড়, ছদাহা, কালিয়াইশ, ধর্মপুর ইউনিয়নসহ আশপাশে বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় খামার গড়ে উঠছে। এসব খামারে সর্বনি¤œ ৮ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ডিম উৎপাদন হচ্ছে দৈনিক। সবমিলিয়ে দৈনিক দেড় লাখের মতো ডিম উৎপাদন হয়। উপজেলার কেরানীহাট, চন্দনাইশ, দোহাজারী, লোহাগাড়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, বান্দরবান, চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন আড়তদারের কাছে বিক্রি হয় এসব ডিম। এরমধ্যে সাতকানিয়া উপজেলাতেই ডিমের চাহিদা ১ লাখ। বাকি ডিম পাশর্^বর্তী উপজেলা ও বান্দরবানে বিক্রি হয়। খামারিরা ভ্যানগাড়ি ও পিকআপযোগে আড়তদারের কাছে ডিম পাঠান। এদিকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পাঠানো হিসাবমতে, সাতকানিয়ায় ডিমের দৈনিক উৎপাদন চাহিদা আরও অর্ধলাখ বেশি। তার এ তালিকায় গরমিল রয়েছে বলে অভিযোগ খামারিদের।

খামারিদের অভিযোগ, যোগদানের ৭-৮ মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত তিনি একটি খামারও পরিদর্শন করেননি। যোগাযোগ রাখেন নি কোন খামারির সঙ্গেও। তার কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায় না নিয়মিত।

আড়তদার মো. আমিন সওদাগর বলেন, লাল ডিমের শতভাগ জোগান আসে সাতকানিয়ার খামারিদের কাছ থেকে। বাইরে থেকে কোন ডিম সাতকানিয়ায় ঢুকে না। কক্সবাজার, রামু, চকরিয়া থেকে কিছু সাদা ডিম আসে। এছাড়া হাঁস, কোয়েল পাখির ডিমেরও মোটামুটি বাজার রয়েছে। রেয়াজুদ্দীন বাজার সমিতির দাম ধরে খামারিদের কাছ থেকে ডিম সংগ্রহ করা হয়।

বায়তুশ শরফ এগ্রো ফার্মের মালিক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দৈনিক ২০ হাজার ডিম উৎপাদন হয় আমাদের খামারে। এরপর সাতকানিয়াসহ আশপাশের আড়তদারদের কাছে তা বিক্রি করি। ৬ কানির এই খামারে উৎপাদন খরচ অনুযায়ী মোটামুটি লাভজনক।

সাতকানিয়া লেয়ার ফার্মস এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খামারিদের চরম ঝুঁকি, অক্লান্ত শ্রম আর সাধনায় ধীরে ধীরে ডিমের উৎপাদন বাড়ছে। উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভায় চাহিদার জোগান দেওয়ার পাশাপাশি আশপাশের উপজেলাসহ পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও চট্টগ্রামে পাঠানো হচ্ছে। খামারিদের এ সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে আরও অগ্রগতির পথে যেতে প্রাণিসম্পদ দপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের আরও সচেষ্ট হতে হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে ডিম উৎপাদনে সাতকানিয়ার খামারিদের সফলতাকে প্রাণিসম্পদ দপ্তর কিভাবে দেখছে, খামারিদের অভিযোগসহ নানা বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে পরপর দু’দিন গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

 

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট