চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪

সীতাকুণ্ডে খাদ্য সংকটে লোকালয়ে নেমে আসছে বন্যপ্রাণী

সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা

১৪ জুলাই, ২০২৩ | ১২:১৪ অপরাহ্ণ

সীতাকুণ্ডে ক্রমেই বিলুপ্ত হচ্ছে পাহাড়ের বন্যপ্রাণী। অব্যাহত বনভূমি নিধনের কারণে এখনো বানর ও হরিণসহ বেশ কয়েকটি প্রজাতি  পাহাড়ে  থাকলেও খাদ্য সংকটে তারা লোকালয়ে নেমে আসছে।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার পাহাড় থেকে বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের ভায়েরখীল এলাকার লোকালয়ে খাদ্যের অন্বেষণে ছুটে আসে একটি বানর। লোকালয়ে আসা বানরটিকে দেখতে  উৎসুক জনতা ভিড় জমালেও কোন ধরনের ভয় না পেয়ে এক স্থানে চুপটি করে বসে থাকে বানরটি। এ সময় উৎসুক জনতার অনেকে ক্ষুধার্ত বানরটিকে কলাসহ নানা ধরনের ফল খেতে দেন।

 

স্থানীয়রা জানান, গত তিন মাস ধরে পাহাড় থেকে বানর, হনুমানসহ বিভিন্ন বণ্যপ্রানী লোকালয়ে নেমে আসছে। ঢুকছে এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে। এলাকার বাড়ি,ঘরে ঢুকে পড়া এসব বণ্যপ্রানীকে খাবার দিলে,তারা তা অনায়াসেই হাত থেকে নিয়ে খেয়ে নিচ্ছে।  সর্বশেষ গত একমাসে ভায়েরখীল এলাকার পাশাপাশি এলাকার পাশে থাকা গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও  বন্ধ থাকা শিল্প প্রতিষ্ঠান কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে খাদ্য অনুসন্ধানী বানরের দলের দেখা মিলেছে।

 

স্থানীয়রা আরও জানান, জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে বসতি ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে নির্বিচারে পাহাড় কাটা, পাহাড়ের গাছপালা উজাড় করা হচ্ছে। সে সাথে পাহাড়ে বিচরণ বেড়েছে বন্যপ্রাণী শিকারি দলের। ফলে ক্রমেই বিলুপ্ত হয়ে পড়ছে পাহাড়ের বন্যপ্রাণী।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আইনে বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় বন বিভাগের ভূমিকা নেওয়ার কথা থাকলেও এ ব্যাপারে তারা একেবারেই উদাসীন। উপজেলার পৌরসদর এলাকায় বিট অফিস এবং বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের রেঞ্জ অফিসে বন বিভাগের কর্মকর্তারা থাকলেও বন্যপ্রাণী-সংক্রান্ত কোনো পরিসংখ্যান জানেন না তারা। ফলে তাদের উদাসীনতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে নির্বিচারে বন ধ্বংস করছে একশ্রেণির অসাধু চক্র।

 

বাড়বকুণ্ডের ভায়েরখীর এলাকার বাসিন্দা খুরশীদ আলম জানান, সত্তরের দশকেও হিংস্র জীবজন্তুসহ বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণীতে ভরপুর ছিল সীতাকুণ্ডের পাহাড়।

 

ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম জানান, পাহাড়ের ঝোপ-ঝাড় পরিষ্কার,নির্বিচারে গাছপালা উজাড়ের কারণে খাদ্যসংকটের পাশাপাশি ক্রমে আবাসস্থল হারাচ্ছে বন্যপ্রাণীরা। ফলে খাদ্যসংকটে থাকা এসব প্রাণী যখন লোকালয়ে নেমে আসছে, তখন অনেকেই ভয়ে তাদের পিটিয়ে মারছে। গাছপালা উজাড় ও পাহাড় কাটা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে অচিরেই বন্যপ্রাণীশূন্য হয়ে পড়বে সীতাকুণ্ডের পাহাড়।

 

সীতাকুণ্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. বেলাল হোসেন জানান, পাহাড়ি বনজঙ্গল ধ্বংস করে রাস্তাঘাট ও স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকায় ক্রমে কমছে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা। যার ফলে খাদ্য সংকটে থাকা প্রাণীরা খাদ্যর সন্ধানে প্রতিনিয়ত নেমে আসছে লোকালয়ে।

 

বন বিভাগের বারৈয়ারঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা সৌমেন বড়ুয়া বলেন, সীতাকুণ্ড পাহাড়ে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল। তাই বন বিভাগের কাছে বন্যপ্রাণী সম্পর্কে কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে বন্যপ্রাণীদের অভয়ারণ্য গড়ে তুলতে সাম্প্রতিক সময়ে বৃক্ষশূন্য পাহাড়ে সামাজিক বনায়ন গড়ে তোলা হচ্ছে।

পূর্বকোণ/মাহমুদ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট