চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪

টেকনাফ স্থলবন্দরে ডাকা ধর্মঘট বৈঠক শেষে প্রত্যাহার

টেকনাফ সংবাদদাতা

১০ জুলাই, ২০২৩ | ৯:০৫ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরের অচল অবস্থা নিরসনকল্পে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভা শেষে দাবি পূরণের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

সোমবার (১০ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি সিআইপি প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন টেকনাফ উপজেলা পরিবহন ট্রাক এসোসিয়েশনের সভাপতি ও কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য জাফর আহমদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরফানুল হক চৌধুরী।

 

উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ স্থলবন্দর রাজস্ব কর্মকর্তা এএসএম মোশাররফ হোসেন, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ওয়াসিম বিল্লাহ, টেকনাফ স্থলবন্দর ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্টের জেনারেল ম্যানেজার জসিম উদ্দিন, টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম, ডিজিএফআই কর্মকর্তা মো. পারভেজ রহমান, এনএসআই কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান, এক্সিকিউটিভ কর্মকর্তা (এডমিন) মো. সাইফুল ইসলাম, টেকনাফ ট্রাক পরিবহণ এসোসিয়েশনের অফিস সহকারী আব্দুর রাজ্জাক, এনএসআইয়ের ফিল্ড অফিসার ছৈয়দ নাঈম উদ্দিন প্রমুখ। দীর্ঘ দুই ঘণ্টাব্যাপী স্থলবন্দরের চালক-শ্রমিকদের ডাকা কর্মবিরতি সংক্রান্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়।

 

টেকনাফ উপজেলা ট্রাক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব জাফর আহমেদ বলেন, চালক-শ্রমিকদের বিশ্রামাগার, পার্কিংয়ের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হলে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। তাই আমরা অনির্দিষ্টকালের কর্মরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছি। আমাদের দাবিগুলো বন্দর কর্তৃপক্ষ শিগগিরই বাস্তবায়ন করবেন।

 

টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর বলেন, ট্রাক না পাওয়ায় আমরা (ব্যবসায়ীরা) মালামাল খালাস করতে পারিনি। বৈঠকের মধ্যমে স্থলবন্দরের অচলা অবস্থা নিরসন হয়েছে।

 

বৈঠক শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের দেয়া প্রেস ব্রিফিংয়ে আবদুর রহমান বদি সিআইপি বলেন, স্থলবন্দরের অচলবস্থা নিরসনকল্পে চালক ও শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে মৌলিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে চালক ও শ্রমিকদের জন্য ক্যান্টিন, আগামী চারমাসের মধ্যে আউট এবং ইন গেইট চালুকরণ, পরিবহণ ট্রাক পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, স্ক্যানিং মেশিন চালুকরণ, আমদানি পণ্য পরিবহন ট্রাকে চালক ও হেলপারদের মাদক পাচার রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, বন্দর গেইটে যানজট নিরসন।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান বলেন, স্থলবন্দরে কর্মবিরতির খবর শুনে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের সাথে আলোচনাক্রমে দ্রুত ট্রাক মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। ট্রাক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বন্দরের অভ্যন্তরে নিরাপত্তাসহ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি সুবিবেচনার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। বৈঠকে ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে। টেকনাফ স্থলবন্দর সরকারি রাজস্ব আয়ের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থান। দাবিগুলো পূরণসহ বন্দর ব্যবহারকারীদের সুযোগ-সুবিধার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

পূর্বকোণ/কাশেম/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট