চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০২৪

ফটিকছড়িতে প্রসূতির মৃত্যুর জেরে ক্লিনিকে হামলা-ভাংচুর

ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট সংবাদদাতা

৫ জুলাই, ২০২৩ | ১২:২৬ অপরাহ্ণ

ফটিকছড়ি উপজেলা সদরে ‘সেবা ক্লিনিক এন্ড ল্যাব ইনে’ নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় জান্নাত মাওয়া রুনি (২২) নামের এক প্রসূতি তার গর্ভে থাকা সন্তানসহ মারা গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের লোকজন, আত্মীয় স্বজনসহ উত্তেজিত জনতা উক্ত হাসপাতালে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে। পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

গতকাল রাত সাড়ে ৮টা থেকে চলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এ পরিস্থিতি সামাল দিতে ফটিকছড়ি ও ভূজপুর থানার ব্যাপক পুলিশ কাজ করে। ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সুদিপ্ত সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ (হাটহাজারী সার্কেল) সোয়েব আহমদ খান, ফটিকছড়ি ইউএনও সাব্বির রহমান সানি, ফটিকছড়ি থানা ওসি মাসুদ ইবনে আনোয়ার, ভূজপুর থানা ওসি হেলাল উদ্দিন ফারুকী।

 

নিহত জান্নাত মাওয়া রুনি ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়ন ৮ নং ওয়ার্ডের মানিকপুর গ্রামের পুকুর পাড়ার বাসিন্দা মো. রুমানের স্ত্রী। তার ঘরে রিহান নামের দুবছরের ছেলে সন্তান রয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী, হাসপাতাল ও নিহত পরিবারের সূত্রে জানা যায়, নিহত রুনি ওই হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুলফি আরা জুলির নিয়মিত রোগী ছিলেন। তার পরামর্শে রুনিকে  ঘটনার দিন সকালে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। ভর্তি অবস্থায় রোগীর বিভিন্ন চিকিৎসা চলছিলো। সন্ধ্যায় অপারেশান থিয়েটারে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুনি মৃত্যুবরণ করেন। অপারেশান থিয়েটারে ডা. জুলফি আরা জুলিসহ আরো কয়েকজন চিকিৎসক ছিলেন বলে জানা যায়।

 

এদিকে এ ঘটনার কথা বিবিরহাট বাজারে ছড়িয়ে পড়লে বাজারের বিভিন্ন শ্রেণির লোকজন দলে দলে এসে উক্ত ক্লিনিকের উপর হামলে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানার ওসি মাসুদ ইবনে আনোয়ারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে মারমুখী জনতাকে নিবৃত করার চেষ্টা চালায়। এসময় উত্তেজিত জনতার হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশও কমবেশি আহত হন।

 

নিহতের স্বামী রুমান জানান, আমার স্ত্রী ভাল ছিল। তাকে ডাক্তার ভুল চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলেছে।

 

নিহতের মা কুনসুমা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলেছে।

 

সেবা ক্লিনিক এন্ড ল্যাব ইন চেয়ারম্যান স্বপন কুমার দত্ত বলেন, হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যু নিয়ে উত্তেজিত জনতা হাসপাতালে ভাংচুর চালিয়েছে।

 

এ নিয়ে ঘটনাস্থলে আসা চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সুদিপ্ত সরকার বলেছেন, উক্ত হাসপাতালে উত্তেজিত জনতা রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। রোগীর লোকজন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে পুলিশ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

 

ইউএনও বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ওসি বলেন, প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সেবা ক্লিনিকে ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের স্বজনরা লাশ নিয়ে গেছে। এখনো কেউ মামলা দিতে থানায় আসেনি।

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট