চট্টগ্রাম সোমবার, ২০ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

সীতাকুণ্ডে নেই প্রত্যাশিত গরু, নেই ক্রেতাও

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড

২৫ জুন, ২০২৩ | ৮:০১ অপরাহ্ণ

ঈদুল আযহার আর মাত্র পাঁচদিন বাকি। কিন্তু এখনো জমে উঠেনি সীতাকুণ্ডের পশুর হাটগুলো। বেশিরভাগ হাটই এখনো ফাঁকা। হাটে পশু যেমন আসছে না, তেমনি আসছেন না ক্রেতারাও। তবে আর দু-তিনদিন পরেই হাট জমে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাট ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর অন্তত ১১টি অস্থায়ী হাটে কোরবানির পশু বেচাকেনা চলে। এছাড়া স্থায়ী পশুরহাট আছে তিনটি। সব মিলিয়ে ১৪টি হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয় করেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। উপজেলার বড়দারোগারহাট থেকে সলিমপুর পর্যন্ত এলাকায় এসব হাটের বাইরেও বেশ কিছু ব্যক্তি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পশু এনে রেখে ব্যক্তি উদ্যোগে বিক্রি করেন। রয়েছে বেশ কিছু খামারও।

সব মিলিয়ে নানা মাধ্যমে এখানে প্রতিবছর লাখো পশু ক্রয়-বিক্রয় হয়। এদিকে, ঈদুল আযহার আর বেশিদিন না থাকলেও এবার এখনো পশুর হাটগুলো জমে উঠেনি।

সরেজমিনে উপজেলার বড় দারোগারহাট ও বাঁশবাড়িয়া পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে দুটি হাটের কোনটিই জমেনি। হাট দুটিতে নামমাত্র ৩০-৪০টি করে গরু এসেছে। আর পুরো হাট ফাঁকা। বাঁশবাড়িয়া হাট পরিদর্শনকালে কথা হয় এক ক্রেতা মো. সাইফুলের সাথে। তিনি বলেন, প্রতিবছর সীতাকুণ্ডের সব হাট কোরবানের দুয়েকদিন আগে জমে উঠে। বেশিদিন আগে কেউ গরু কিনে রাখতে চান না। তাই শেষ মহূর্তে কিনে কোরবানি দেন। আমরাও সেভাবেই তিন-চার দিন আগে কিনতে চাই। এখন কয়েকটি হাটে ঘুরলাম। দেখলাম গরু তেমন নেই। ৩০-৪০টি গরুর মধ্য থেকে বেছে নেয়া কঠিন। এতে দামও বোঝা যায় না, আবার পশুও মনমতো পাওয়া যায় না।

একই কথা বলেন বড় দারোগারহাট বাজারের এক ক্রেতা মো. রবিউল হোসেন। তিনি বলেন, বাজারে এসেছিলাম পরিস্থিতি দেখতে। যদি অনেক গরু আসত, আর দামও হাতের নাগালে হতো, তাহলে নিয়েই নিতাম। কিন্তু অল্প কিছু গরুর মধ্যে গরু পছন্দ করা যায় না। অথচ বিক্রেতারা এসব গরুর দাম হাঁকছে ইচ্ছেমতো। তাই আরো দুয়েকটি হাট ঘুরে তারপর কোরবানির দুই-তিন দিন আগে কিনে নেবার ইচ্ছা আছে। এদিকে, বড় দারোগারহাটে গরু নিয়ে এসে ক্রেতা নেই দেখে হতাশ এক ব্যবসায়ী মো. রহিম। তিনি বলেন, ৩টি গরু এনেছিলাম। গরু কম, ক্রেতাও কম।

আশা করেছিলাম, তবুও আমার গরুগুলো বিক্রি হবে হয়ত। কিন্তু হলো না। গরু নেই, তবুও ক্রেতারা তেমন একটা দাম দিচ্ছে না। হয়ত আরো দেখে কিনতে চায় তারা। তবে তিনি আশা করেন, পরের হাট সোমবার এখানে আরো অনেক গরু এবং ক্রেতা আসবে। তখন বাজার জমে গেলে দামও মিলবে ভালো। ফকিরহাট গরুর বাজারের ইজারাদার মো. শফি বলেন, কোরবানির আগে রবি ও বুধবার তারা হাট বসান। তবে স্বাভাবিক সময়ে যা গরু হাটে ওঠে, তা-ও ওঠেনি এবার।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, কোরবানি উপলক্ষে সীতাকুণ্ডে গরু রয়েছে ৩০ হাজার ৮৬৮টি, ছাগল রয়েছে ৭ হাজার ৬৯০টি, মহিষ রয়েছে ৩৪১টি ও ভেড়া রয়েছে ৪ হাজার ৮৮৫টি। কিন্তু এর বিপরীতে চাহিদা রয়েছে গরু ২৫ হাজার ২৫৪টি, ছাগল ৭ হাজার ৫২০, মহিষ ৯৯৪ ও ভেড়া ৩৫৮টি। সেই হিসেবে কোরবানি উপলক্ষে চাহিদার তুলনায় ১২ হাজার ৩৫৮টি পশু বেশি রয়েছে এখানে। ফলে দাম স্বাভাবিক থাকার কথা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তাহমিনা আরজু বলেন, এবার বাইরের গরু-ছাগল বাজারে না এলে কৃষক ও খামারিরা তাদের পশুর ন্যায্যমূল্য পাবেন।

আর বাইরের পশু এলে ক্রেতারা হয়ত কম মূল্যে পাবেন, কিন্তু খামারিরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এদিকে, দূরাগত ব্যবসায়ীরা উপজেলাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে সীতাকুণ্ডসহ চট্টগ্রাম ও অন্যান্য স্থানে যেন নিরাপদে গরু নিয়ে যেতে পারেন সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবার কথা জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, কোন পশুবাহিত গাড়ি যেন মহাসড়কে অসুবিধার মুখে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে আমরা মাঠে থাকব সবসময়।

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট