চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

টেকনাফে রোহিঙ্গার পেট থেকে দেড় হাজার ইয়াবা উদ্ধার

টেকনাফ সংবাদদাতা

২২ মে, ২০২৩ | ৯:৫৭ অপরাহ্ণ

ইয়াবা গিলে পাচারের সময় গ্রেপ্তার রোহিঙ্গা আবদুর রশিদের পেট থেকে দুই দফায় ১ হাজার ৫৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২২ মে) টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

 

টেকনাফের মুছনি রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের রোহিঙ্গা আবদুর রশিদ (৪৫) স্কচটেপে মুড়িয়ে কলার ভেতরে ইয়াবা ঢুকিয়ে তা গিলে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় চড়ে কক্সবাজার শহরে যাচ্ছিলেন।

 

টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জরপাড়ায় পৌঁছালে পুলিশ অটোরিকশার যাত্রীদের তল্লাশি শুরু করেন। এ সময় সন্দেহ হলে আবদুর রশিদকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। রাতে আবদুর রশিদ ছটফট শুরু করলে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

 

এক্স-রে করে তার পেটে ইয়াবার অস্তিত্ব ধরা পড়ে। তখন আবদুর রশিদও পুলিশের কাছে স্বীকার করেন তার পেটে ইয়াবার কয়েকটি পোঁটলা রয়েছে। পরে তার পেট থেকে পায়ুপথ দিয়ে ১ হাজার ৫৫০ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় দুপুরে আবদুর রশিদকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়।

 

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম বলেন, এক্স-রে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা রবিবার বিকেলে রোহিঙ্গা রশিদের পেটে থাকা ইয়াবার কয়েকটি পোটলা পায়ুপথ দিয়ে বের করেন। স্কচটেপে মোড়ানো পোটলায় পাওয়া যায় ১ হাজার ৩৫০ ইয়াবা।

সোমবার সকালে একই পদ্ধতিতে বের করা হয় আরও ২০০টি ইয়াবা। সব মিলিয়ে রশিদের পেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১ হাজার ৫৫০ ইয়াবা। ইয়াবাগুলো রোহিঙ্গা শিবির থেকে সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য কক্সবাজার শহরের দিকে যাচ্ছিলেন রোহিঙ্গা আবদুর রশিদ। প্রথমে ইয়াবাগুলো পাকা কলার ভেতরে লুকানো হয়। তারপর কলা গিলে ফেলেন রশিদ। একই পদ্ধতিতে আরও কয়েকবার আবদুর রশিদ ইয়াবা পাচার করেন বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

 

গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ইয়াবার বিষক্রিয়ায় মারা যান টেকনাফ পৌরসভার বাজারপাড়ার শুকুর আলী। ময়নাতদন্তের সময় তার পেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল ১ হাজার ৫৫০ ইয়াবা। গত ৩ এপ্রিল টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের রুহুল্যারডেপা এলাকায় পেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে পাচারের সময় মাসুদ রানা ওরফে ইদ্রিস পাটোয়ারী নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। পরদিন পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তের সময় মাসুদ রানার পেটে স্কচটেপ ও কনডম মোড়ানো অবস্থায় আট পোঁটলা ইয়াবা পাওয়া যায়। এর মধ্যে তিনটি পোঁটলার ইয়াবা গলে বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে তখন জানিয়েছিলেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আশিকুর রহমান। মাসুদ রানার বাড়ি রাজবাড়ীর আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামে।

 

 

পূর্বকোণ/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট