চট্টগ্রাম সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪

মহেশখালীতে মানুষকে নিরাপদ স্থানে নিতে সিপিপি সদস্যদের মাইকিং

মহেশখালী সংবাদদাতা

১২ মে, ২০২৩ | ১১:৪২ অপরাহ্ণ

ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে মহেশখালীর উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ স্থানে অথবা আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। তবে লোকজন তাতে সাড়া দিচ্ছে না।

 

অপরদিকে শুক্রবার (১২ মে) চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে রাত ৮টার দিকে ৪ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৮ নম্বর স্থানীয় মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তার পরেও পাহাড়ে ও সাগরের কিনারে বসবাসরত লোকজন দুর্যোগের সময়ও ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের ঘরে অবস্থান করছেন। তবে লোকজন না সরলে ৪ নং হুঁশিয়ারি সংকেত থেকে ৮ নং মহাবিপদ সংকেত দিলে দ্বীপের লোকজন আতঙ্কে রয়েছে। হয়তো শনিবার সকাল থেকে আশ্রয় কেন্দ্র ছুটতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজন।

 

শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ধলঘাটা,মাতারবাড়ী, কালারমারছড়া, হোয়ানক, বড় মহেশখালী, কুতুবজোম ও শাপলাপুর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, এখানকার এলাকায় লোকজনকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। এতে মাইকিং করতে সহযোগিতা করছেন স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।

 

জানা গেছে, উপকূলীয় এলাকার মানুষ বেশিরভাগই দরিদ্র এবং দৈনন্দিন মাছ ধরার কাজের ওপরই তাদের সংসার চলে। সেখানে দুর্যোগ মোকাবেলায় বিভিন্ন প্রস্তুতির মধ্যে তারা যেমন উদ্বৃত্ত খাবার সংগ্রহে রাখতে পারে না তেমনি পারে না নিরাপদ স্থানে পরিবার পরিজন সরিয়ে আনতে।

 

তবে এর বতিক্রম দেখা গেলো কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা মহেশখালীর কুতুবজোমের সোনাদিয়া ও ধলঘাটা ইউনিয়নে। এ দুই এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত সমুদ্রের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে।

 

কুতুবজোম ইউনিয়নের সাগরের কুল ঘেঁষে একটি ওয়ার্ড এটি হচ্ছে সোনাদিয়া ওই এলাকার স্থানীয় এমইউপি সদস্য একরাম জানান, তার এলাকার লোকজন ৮নং মহাবিপদ সংকেত কিংবা ৪ নম্বর বিপদ সংকেতসহ বিভিন্ন ধরনের সংকেত পায়। তবে কোনটার জন্য কোনভাবে কাজ করতে হবে, নিরাপদ স্থানে যেতে হবে কিনা কিংবা বিপদসংকেত আরও বাড়তে পারে কিনা তা তারা বুঝে উঠতে পারে না। সোনাদিয়া গ্রামে শতখানিক মানুষ নিরাপদ স্থানে চলে গেলেও অধিকাংশ লোকজন নিজ ঘরে রয়ে গেছে বলে তিনি শুক্রবার রাত সাড়ে ১০ টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় জানান।

 

তিনি আরও জানান, পূর্বেরপাড়া যে আশ্রয় কেন্দ্রটি আছে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে লোকজন আশ্রয় নিতে পারছে না। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য বার বার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

 

ধলঘাটার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, পুরো ইউনিয়ন থেকে ২ শতের মত লোকজন অন্যত্র সরে আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। বাকি লোকজন নিজ ঘরে রয়েছে। অনেকে গৃহপালিত পশু জিনিস পত্র ফেলে যেতে চায় না।

 

তিনি আরও জানান, পুরো ইউনিয়নে ১২টি সাইক্লোন সেন্টার আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। তার মধ্যে ৫ টি পরিত্যাক্ত আর ২টি পন্ডিত ডেইল আর খাতুর পাড়া সংস্কার কাজ চলমান। ১টি দক্ষিন মুহুরী ঘোনা এক সাবেক চেয়ারম্যানের দখলে রয়েছে। ৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে কোন মত আশ্রয় নেওয়া যাবে তবে পর্যাপ্ত নয় বলে জানান তিনি।

 

উল্লেখ, ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত: বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি বা তার বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

 

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। মেডিকেল টিম সার্বক্ষনিক তদারকি করছেন। এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে চলে আসার জন্য বলা হচ্ছে সার্বক্ষনিক। এবং আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসার জন্য বলা হচ্ছে।

 

মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক পূর্বকোণকে জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা থেকে যত কম ক্ষতি হয় সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শুকনা খাবার পানি ইত্যাদি মজুদ রাখা হয়েছে।

 

 

পূর্বকোণ/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট