চট্টগ্রাম সোমবার, ২০ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

লবণাক্ত পানি, চন্দনাইশে বোরো ধান উৎপাদনে কৃষকদের স্বপ্নভঙ্গ

নিজস্ব সংবাদদাতা, চন্দনাইশ

৫ মে, ২০২৩ | ৪:১৯ অপরাহ্ণ

চন্দনাইশে চলতি বোরো মৌসুমে বোরো ধানের জমিতে লবণাক্ততার কারণে ধানের শীষ মরে চিটা হয়ে গেছে। কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বরকল, বরমা, চন্দনাইশ পৌরসভার বেশ কিছু বিলে ধানের শীষ মরে চিটা হয়ে আছে। বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে, তবে চন্দনাইশে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয়নি। অনাবৃষ্টি, অতিরিক্ত তাপদাহ, নদীর পানিতে লবণ থাকার কারণে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকেরা জানালেন, প্রতি কানি (৪০ শতক) জমির পানি খরচ ২ হাজার ৫‘শ, জমির খাজনা ৩ হাজার, ধানের বীজ ৩ হাজার, কীটনাশক ও সার খরচ ৫ হাজার, ধান রোপণ ৪ হাজার, ধান কাটা ৫ হাজার, ধান মাড়াই ১ হাজার টাকাসহ প্রতি কানিতে ২২ হাজার ৫‘শ টাকা ব্যয় হয়। এরমধ্যে চলতি মৌসুমে বোরো ধানে অনাবৃষ্টি ও লবণাক্ততার কারণে চন্দনাইশের বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষ মরে চিটা হয়ে আছে।
তাছাড়া যেসব এলাকায় লবণাক্ততা কম সেখানে চার ভাগের এক ভাগ ধান উৎপাদন না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় লবণাক্ততা রোধে পটাশ সার ব্যবহার করে ও উপকার পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে চন্দনাইশে পৌরসভার আড়ালিয়া বিল, মগবিল, সুচিয়া বিল, পশ্চিম বিল, চাম্বার বিল, বরকল বিল, বরমা বিলে ধানের শীষ পরিপক্ষ হওয়ার আগেই শুকিয়ে চিটা হয়ে গেছে। দূর থেকে মনে হয়, জমির সব ধান পেকে গাছ মরে গেছে। বাস্তবে শুকিয়ে চিটা হয়ে গেছে। বোরো ধান চাষ ব্যয়বহুল, এরমধ্যে ফলন না হওয়ায় কৃষকের চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কেউ কেউ কৃষি বিভাগের পরামর্শে পটাশ (লাল) সার ব্যবহার করেও ফল পাননি বলে জানান।
পূর্ব জোয়ারার নূর মোহাম্মদ চৌকিদার এনজিও থেকে ৭ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে ১২ কানি বোরো ধানের চাষ করেছেন। তিনি বলেন, লবণাক্ততার কারণে জমিতে ধান কাটতে যেতে হবে না। এত টাকার ঋণ কিভাবে পরিশোধ করবেন তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না বলে জানন।
একইভাবে আবু সুফিয়ান জানালেন ৮ কানি জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছেন। তৎমধ্যে ৪ কানিতে লবণাক্ততার কারণে ধান হয়নি। বাকি তিন কানিতে ডিপ টিউবওলের পানি দিয়ে চাষাবাদ করায় ফলন ভালো হয়েছে। এমনিতে প্রতি বছর এক কানি জমিতে ৮০-১০০ আড়ি ধান উৎপাদন হত কিন্তু চলতি মৌসুমে লবণাক্ততার কারণে কিছু কিছু জমিতে ৩০-৪০ আড়ি ধান উৎপাদন হচ্ছে। ফলে কৃষকরা খচর তুলতে না পারায় হতাশ।
চন্দনাইশে গত কয়েক বছর ধরে মহেশখালী থেকে অর্ধ-শতাধিক কৃষক চাষাবাদের জন্য এসেছিলেন। তারাও এবার প্রচুর ক্ষতির শিকার হয়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ হোসেন বলেছেন, চলতি মৌসুমে চন্দনাইশে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৪‘শ ২০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ বেশি হয়েছে। চন্দনাইশে পৌরসভা, বরকল, বরমা এলাকায় বেশ কিছু জমিতে লবণাক্ততার কারণে ফসল ভালো হয়নি। অতিরিক্ত তাপদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে এ এলাকায় লবণাক্ততা বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।

 

পূর্বকােণ/ এ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট