চট্টগ্রাম বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

সর্বশেষ:

পাকা সড়ক নেই রত্মপুর গ্রামে

নিজস্ব সংবাদদাতা

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ৮:৫৭ অপরাহ্ণ

বাঁশখালীর বাহারছড়া রত্মপুর গ্রামে কাঁচা সড়কগুলো যেন এলাকাবাসীর অভিশাপ। বর্ষাকালে ডুবে থাকে সড়কসমূহ। তাতে অধিকাংশ সড়কে যানবাহন চলাচলে থাকে অনুপযোগী। এর মধ্যে ৪টি সড়কে কিছু অংশে ইট বিছানো থাকলেও কার্পেটিং করা কোন সড়ক নেই। রত্মপুর গ্রামের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর ও পূর্ব পাশে জলকদর খাল। বর্ষা মৌসুমে ডুবে থাকে গ্রামটি। কোমর পানি অতিক্রম করে মানুষ চলাচল করে থাকে। এই গ্রামে অনেক গুণীজ্ঞানীর জন্ম। কিন্তু গ্রামটির দিকে কেউ ফিরে তাকায়নি। গ্রামে রয়েছে ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১টি মাদ্রাসা, ১টি কমিউনিটি ক্লিনিক। জনসংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার, ভোটার ৪ হাজার। শিক্ষার হার প্রায় ৯০ শতাংশ।

 

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারিভাবে সড়কগুলোতে মাটি ফেলে সংস্কার করে উন্নয়ন করা ছাড়া কোন অবস্থায় হাঁটাচলা করা যাবে না। স্বাধীনতার পরবর্তী থেকে রত্মপুর গ্রামটি অবহেলিত। স্থানীয় ব্যবসায়ী ওমর সেলিম জানান, একজন সরকারি চাকরিজীবী আবুল হোছেন দীর্ঘদিন প্রচেষ্টায় সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে কিছু অংশে ইট বিছানো কাজ সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু অবশিষ্ট সড়কের কাজ এখনো করা হয়নি। বর্ষাকালে এই সড়ক দিয়ে হাঁটাচলা করা যায় না। রমজান আলী সড়ক কিছু অংশের কাজ হয়েছে।

 

স্থানীয় ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমিন শরিফ জানালেন, বখতিয়ার রোডে কিছু অংশ ইট বিছানো হয়েছে অবশিষ্ট অংশের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। তিনি কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে সম্পন্ন করবেন বলে জানান।

 

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষাকালে মাটির রাস্তা দিয়ে চলাফেরা কষ্টকর হয়ে পড়ে। স্কুলে আসা যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটু পরিমাণ পানি রাস্তার উপর উঠে যায়।’

 

শিশুটি জানায়, ‘আবুল হোছন সড়ক দিয়ে চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাই আধা কিলোমিটার সড়ক ঘুরে স্কুলে আসতে হয়। কাদায় সয়লাব থাকায় অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে পারে না। বৃষ্টির পানিতে সড়ক ডুবে থাকায় মা বাবারা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না।’

 

নজরুল ইসলাম নামের এক কৃষক জানান, ‘ভঙ্গুরদশা সড়কের কারণে যানবাহনে চলাচল করতে পারি না। পায়ে হেঁটে মোশারফ আলী হাট গিয়ে যানবাহনে উঠতে হয়। নতুবা আশরফ আলী সড়ক হয়ে ঘুরে আসতে হয়। কার্পেটিং সড়ক কল্পনাও করা যায় না। বর্ষাকাল যেন এলাকাবাসীর জন্য অভিশাপ।’

 

ইউপি সদস্য মো. সাহাব উদ্দীন বলেন, ‘গ্রামীণ সড়কগুলো ইট বিছানোর জন্য পরিষদের মাসিক সভায় আলোচনা হয়েছে। পূর্ব থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমে সাগর ও পূর্বে পাহাড়ের পানি জলকদর খাল ঢলের পানিতে ভরে থাকা এবং বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় লোকজন বর্ষাকালে পানিবন্দী থাকে। পশ্চিমে সাগরের জোয়ারের পানি অনেক সময় বাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে প্রবেশ করে। পুরো এলাকা পানিবন্দী হয়ে পড়ে।’

 

৩নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য এবাদুল হক জানান, ‘২০১৮ ও ২০১৯ এবং ২০২১ সালে কাবিখা ও এলজিএসপির মাধ্যমে ৩টি সড়কে কিছু অংশ ইট বিছানো হয়েছিল। প্রকৌশলী বিভাগে তালিকাভুক্তি করে পরবর্তীতে সড়কের নাম পরিবর্তন হওয়ায় সড়ক নির্মাণকাজ পিছিয়ে পড়ে। এতে এলাকাবাসী দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।’

 

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম জানান, ‘সরকারিভাবে বরাদ্দ কম থাকায় গ্রামীণ সড়কগুলো সংস্কার ও উঁচু করে ভরাট করতে সময় লাগছে। সরকারিভাবে বরাদ্দ পেলেই মাটি ভরাট করে সড়কে ইট বিছানো হবে। আগামীতে বরাদ্দ পেলে রত্মপুর গ্রামে নতুনভাবে ৫টি কাজ হাতে নেওয়া হবে। এক কোটি টাকা ব্যয়ে রত্মপুর গ্রামের উপর দিয়ে কাথারিয়া চুনতি বাজার বেড়িবাঁধ সীমান্ত পর্যন্ত ইট বিছানোর মাধ্যমে আশরফ আলী সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এই সড়ক ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হচ্ছে। বর্তমান সরকার গ্রামের সড়কগুলোতে কাজ করে যাচ্ছেন।’

 

বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহামুদ বলেন, ‘প্রকৌশলী বিভাগের আইডিতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বাহারছড়া ইউনিয়নের রত্মপুর গ্রামের অনেকগুলো সড়ক। তবে রত্মপুর গ্রামের বিভিন্ন সড়কে কার্পেটিং সড়ক নির্মাণ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কাঁচা সড়কগুলো প্রথম পর্যায়ে ভরাট করে ইট বিছানো হবে। পরবর্তীতে কার্পেটিং করা হয়। কার্পেটিং এর তালিকায় তিনটি সড়ক চিহ্নিত করা হয়েছে।’

 

লেখক : নিজস্ব সংবাদ, বাঁশখালীৎ

 

 

পূর্বকোণ/জেইউ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট