চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪

শিল্প উদ্যোক্তারা ঝুঁকছেন উপকূলীয় অঞ্চলে

নিজস্ব সংবাদদাতা

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ৮:৪৮ অপরাহ্ণ

সরকারের উদ্যোগে সারাদেশে ১০০ অর্থনেতিক জোন স্থাপন করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপক‚লীয় অঞ্চলে হচ্ছে বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক জোন। জেলার মিরসরাইয়ের পর মহেশখালী, মাতারবাড়ি হতে বাঁশখালী ছনুয়া, গণ্ডামারা, বাহারছড়া, খানখানাবাদ উপকূলীয় ১২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার জন্য শিল্প উদ্যোক্তারা জমি ক্রয় করতে শুরু করেছে।

 

কর্ণফুলী টানেল চালু হওয়ার পরে বাঁশখালী উপকূলীয় এলাকার চিত্র পাল্টে যাবে। দেশ বিদেশের বিনিয়োগ ও শিল্পমালিকরা ছনুয়া ও খানখানাবাদ, গন্ডামারায় বিনিয়োগ শুরু করেছেন। কলকারখানা গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিল্প মালিকরা প্রায় ৩ হাজার একর জমি ক্রয় করে নিয়েছেন। গণ্ডামারা ইউনিয়নের চর বড়ঘোনা ও পশ্চিম বড়ঘোনা বেড়িবাঁধের ভিতরে ও বাইরে নিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল এক (১) এবং গণ্ডামারা মৌজা বলদার চর এলাকা নিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল দুই (২) করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে অর্থনৈতিক জোন হিসেবে গড়ে তুলতে বাঁশখালীতে দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কৃর্তপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-সচিব আবু হেনা মো. মুস্তাফা কামাল সম্প্রতি বাঁশখালীর উপক‚লীয় গণ্ডামারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

 

বাঁশখালী হয়ে কর্ণফুলী টানেল চালুর পরবর্তী সময়ে কক্সবাজারের দুরত্ব ৫০ কিলোমিটার কমবে। বাঁশখালী উপজেলা সড়ক যোগাযোগ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে প্রশাসনিকভাবে। যাতায়াতে বাঁশখালী হয়ে কতুবদিয়া-মহেশখালী মাতারবাড়ির দূরত্ব কম। এই দূত্বকে কেন্দ্র করে শিল্প উদ্যোক্তারা নজর দিয়েছে বাঁশখালীর দিকে। মাতারবাড়ি জ্বালানি কেন্দ্রকে ঘিরে মহেশখালী দ্বীপে বেজা কর্তৃপক্ষ ৫টি অর্থনৈতিক জোন স্থাপন করবে। বাঁশখালীর মুখে শঙ্খ নদীর তীরে শিল্পজোন স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বিভিন্ন সংস্থা মাঠ পর্যায়ে তদন্তশেষে বাঁশখালী উপক‚লকে অর্থনৈতিক জোন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০১৪ সাল থেকে বাঁশখালী গণ্ডামারা এলাকায় অর্থনৈতিক জোন হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যক্রম শুরু হয়। এস আলম গ্রুপ বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনার পর সরকারিভাবে অর্থনৈতিক জোন করার সিদ্ধান্ত একনেকে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। চুক্তি হয় চায়না কোম্পানির সাথে এস আলম গ্রæপের। ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চুক্তি অনুযায়ী ১৩২০ মেগাওয়াট এস এস পাওয়াার প্ল্যান্টের ৭০ ভাগ এস আলম গ্রুপ ৩০ ভাগ চায়না দুইটি কোম্পানি মালিকানায় কার্যক্রম শুরু হয়। এ কার্যক্রমটি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২২ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে ২০২৩ সালের মার্চে উৎপাদনে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী জানান, গণ্ডামারা এলাকায় বিদ্যুৎ প্রকল্পটি চালু হলে এলাকার কয়েক হাজার বেকার যুবক চাকরির সুযোগ পাবে। এ এলাকাটি ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক জোন হিসেবে বেছে নিয়েছে। বিভিন্ন বিদেশি উদ্যোক্তা চীন, ভারতসহ বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানি এবং দেশীয় নামকরা শিল্প ও ব্যবসায়ী গ্রুপ বাঁশখালী এলাকাকে জোন হিসেবে বেছে নিয়ে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সরল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ চৌধুরী বলেন, সরল উপক‚লীয় এলাকায় শিল্প ব্যবসায়ীরা জায়গা জমি ক্রয় করতে শুরু করেছেন। অনেকে জায়গা বিক্রি না করে নিজেরা শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন বড় বড় ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে সরল ও পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নগুলোতে পরিদর্শন করে জায়গা জমি পরিমাপ ও দর দাম করে কয়েক একর জমি মালিক বনে গেছেন।

এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রকল্প সমন্বয়কারী ফারুক আহমদ বলেন, এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ও চায়না গ্রুপের যৌথ মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি শীঘ্রই উৎপাদনে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে পুরো এলাকায় আমূল পরিবর্তন আসবে। তার প্রভাব পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও পড়বে। এখানে ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ করতে শুরু করেছেন।

 

ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, উপক‚লীয় এলাকাটিতে ব্যবসায়ী জোন হিসেবে শিল্প কারখানা গড়ে উঠলে নদী ও সাগর কূলবর্তী এলাকা হওয়ায় যোগাযোগ ক্ষেত্রে ব্যাপক সুযোগ সুবিধা থাকবে।

 

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাঁশখালী উপক‚লীয় এলাকার পরিবেশ শিল্পবান্ধব। সরকারিভাবেও উপক‚লীয় এলাকাকে অর্থনৈতিক জোন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেজা ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তারা শিল্প কারখানা গড়ে তোলার উপযোগী স্থান হিসেবে মতামত ব্যক্ত করেছেন।

 

মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপি বলেন, বাঁশখালী উপকূলীয় এলাকায় গণ্ডামারা, ছনুয়া, বাহারছড়া, খানখানাবাদ এলাকা অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হলে এখানে কয়েক লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান হবে। ফলে এলাকার জনগণ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বাবলম্বী হবে। ইউনিয়নগুলোতে সরকারিভাবে মাঠ পর্যায়ে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় মিরসরাই থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়কটি আনোয়ারা বাঁশখালী উপকূল হয়ে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, কক্সবাজারে যাতায়াত শুরু হবে। বাঁশখালী অর্থনৈতিক জোন হিসেবে ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীরা নজর দিয়েছে। মেরিন ড্রাইভ সড়কটি সরকারিভাবেও মাঠ পর্যায়ে জরিপ শেষে সড়কটি নির্মাণে একনেকে পাস হয়েছে।’

 

 

পূর্বকোণ/জেইউ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট