চট্টগ্রাম সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় লোহাগাড়া

এম এম আহমদ মনির

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ১২:৩৯ অপরাহ্ণ

খাল-বিল, পাহাড়-পর্বত ও নৈসর্গিক শোভামণ্ডিত লোহাগাড়া উপজেলা। প্রাচীনকাল থেকে এ অঞ্চলটি ছিল প্রাকৃতিক প্রাচুর্যে ভরপুর। একইসাথে অর্থনৈতিক এলাকা হিসেবে এ উপজেলার খ্যাতিও অনেক। বনজসম্পদ ও কৃষিজপণ্য উৎপাদন করে এলাকার অনেক পরিবার স্বাবলম্বী। প্রাণী ও মৎস্য সম্পদের দিক দিয়ে এক উপজেলার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।

 

বর্তমানে লোহাগাড়া উপজেলা দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় উপজেলা। শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে এ উপজেলা সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে লোহাগাড়া।

 

লোহাগাড়ায় রয়েছে অসংখ্য মৎস্য চাষী। উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া টংকাবতী, হাঙ্গর ও চাম্বী খালের উপর মির্মিত হয়েছে রাবার ড্যাম। এসব খালে মৌসুমী মৎস্য চাষ হচ্ছে। বড়হাতিয়ার হরিদার ঘোনায় গভীর পাহাড়ি অঞ্চলে রয়েছে মৎস্য খামার। এছাড়া ছোট-বড় একাধিক মৎস্য খামার গড়ে ওঠেছে চুনতি, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা, কলাউজান ও পদুয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে। অপরদিকে, এ উপজেলার পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বে রয়েছে গভীর বনাঞ্চল। বনাঞ্চলে রয়েছে প্রচুর মূল্যবান বনজসম্পদ। এর মধ্যে কোনটা সরকারি, আবার কোনটা বেসরকারি বা অংশিদারিত্ব বাগান।

 

এ উপজেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম সহায়ক হল পোলট্রি ও ডেইরি ফার্ম। প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক পোলট্রি ফার্ম রয়েছে। খামারের মালিকরা প্রযুক্তিগতভাবে হাঁস-মুরগি পালন করে প্রচুর লাভবান হচ্ছেন। বিশেষ করে লাভবান হয়েছেন হাঁস-মুরগির ডিম বিক্রি করে।

 

লোহাগাড়া উপজেলার অন্যতম অর্থনৈতিক উন্নয়নের খাত হল প্রাণিসম্পদ। এ উপজেলার চুনতি, আমিরাবাদ. পুটিবিলা, কলাউজান, চরম্বা প্রভৃতি ইউনিয়নে প্রায় ৪৬ টি ডেইরি ফার্ম গড়ে উঠে।

 

এ উপজেলার অন্যতম অর্থকরি ফসল হল ধানসহ তরি-তরকারি, শাক-সবজি ও ফলের চাষ। উপজেলার প্রায় এলাকার খালের চর বা পাহাড়ি এলাকার সমতল ভূমিতে প্রচুর পরিমাণ তরি-তরকারি ও শাক-সবজি উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড় বা টিলা জায়গায় প্রচুর পরিমাণ আম, কাঁঠাল, লিচু ও লেবু উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে পদুয়ার জঙ্গল পুদয়া, ফরিয়াদিকূল, নাওঘাটা ও কলাউজানের আদার চর এবং বড়হাতিয়ার হরিদার ঘোনাসহ তৎসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকার সমতল ভূমিতে প্রচুর পরিমাণ শাক-সবজি ও তরি-তরকারি উৎপাদন হচ্ছে।

 

অপরদিকে, জঙ্গল পদুয়া, কলাউজান হরিণাবিল, পুটিবিলার গৌড়স্থান, চুনতির পানত্রিশা ও বিভিন্ন এলাকায় এবং বড়হাতিয়া হরিণা ঘোনার পাহাড়ি এলাকায় আম, লিচু, লেবু ও কাঁঠাল বাগান গড়ে ওঠেছে। মাটির উর্বরতা শক্তি ও সেচের ব্যবস্থা থাকার কারণে ওইসব জায়গায় গড়ে ওঠেছে শাক-সবজি ও ফলের বাগান। এসব শাক-সবজির ক্ষেত ও ফলমূলের বাগান হতে মালিকেরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করছেন। কলাউজান হরিণা বিল এলাকার গাজী মুহাম্মদ ইছহাক, কেয়াজুর পাড়া এলাকার বাগান মালিক মুজিবুর রহমান দুলু, চুনতি পানত্রিশা এলাকার বাগান মালিক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধূরী, বড়হাতিয়ার হরিদার ঘোনার বাগান মালিক সাবেক মেম্বার আবদুল মোতালেব জানান, আমসহ বিভিন্ন ফলের বাগান করা তাদের খুবই সখ। কোন কোন বছর এ ফলমূল বিক্রি করে তারা লাভবান হন। আবার কোন কোন বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্তও হন।

 

বাগানের মালিকেরা জানান, সঠিকভাবে এবং সঠিক সময়ে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা ফলমূল, শাক-সবজি ও তরি-তরকারি খাত হতে প্রচুর টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবেন। বিশেষ করে পাহাড়ের অনাবাদি জায়গাগুলো সংষ্কার করলে ক্ষেত-খামারের সংখ্যা আরো বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। তাতে অসংখ্য পরিবার অর্থনৈতিকভাবে লাভবানও হবেন।

 

শিল্প-কারখানার দিক দিয়ে লোহাগাড়া অনগ্রসর। ছোট-খাটো ২/৩টি উৎপাদনমুখী কারখানা রয়েছে। শিল্প কারখানার দিক দিয়ে অনগ্রসর থাকার অন্যতম কারণ হল গ্যাসের অভাব। সরকার যদি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করে, তাহলে লোহাগাড়ার অনেক আগ্রহী ধনাঢ্য ব্যক্তি শিল্প-কারাখানা গড়ে তুলতে আগ্রহী হবেন।

লেখক : নিজস্ব সংবাদদাতা, লোহাগাড়া।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট