চট্টগ্রাম রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪

সাতকানিয়ায় স্বাস্থ্যসেবা বেসরকারি হাসপাতাল-নির্ভর

নিজস্ব সংবাদদাতা

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

সাতকানিয়া উপজেলায় ৫ লক্ষ মানুষের বসবাস। সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এদের জন্য ৫০ শয্যার বলা হলেও মূলত রয়েছে   ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ডাক্তার সংকট, ল্যাব, টেকনোলজিস্ট, ইপিআই টেকনেশিয়ানের অভাব দীর্ঘদিন ধরে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত সিটের ব্যবস্থা এবং কেবিন না থাকায় রোগীরা ঝুঁকছেন বেসরকারি হাসপাতালের দিকে। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা মিলে  ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে ৪১টি। এরমধ্যে জনবল না থাকায় ৩টির কার্যকম বন্ধ রয়েছে।

 

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা স্বাধ্যমতো সেবা দিচ্ছি এবং সেবার মান বাড়ানোর চেষ্টায় আছি সবসময়। উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রুবায়াত আলী তার বাবার ঘন ঘন জ্বর ও  শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে কোথায় চিকিৎসা করবেন এমন ভাবনার শুরুতে  বেসরকারি হাসপাতালে ছুটে যান।

 

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও ডাক্তারের অবহেলা পর্যাপ্ত সিটের ব্যবস্থা আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা না থাকায় বাধ্য হয়েই বেসরকারি হাসপাতালের উপর নির্ভর করতে হয়। বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, ডাক্তাররা চেম্বার করেন বেসরকারি হাসপাতালে, সরকারি হাসপাতালে লম্বা লাইন ধরতে হয়। সব মিলিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল আমাদের জন্য ভাল। দেখা যায়, বাংলাদেশে সরকারি হাসপাতালগুলো অতি দরিদ্রদের হাসপাতাল হিসেবেই পরিচিত। আর্থিক সামর্থ্য কিছুটা যাদের ভালো, তারা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে মোটেও ইচ্ছুক না, আবার যারা চিকিৎসা নিতে যান তাদের অধিকাংশকে শারীরিক পরীক্ষা করাতে হয় বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে। একারণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বেসরকারি খাতের দাপট এখন বেশ জোরালো। করোনা মহামারীর সময়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলো যখন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলো তখন একমাত্র ভরসার জায়গা হয়েছে সরকারি হাসপাতালগুলো। বাংলাদেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের কোন কমতি নেই। উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মানুষের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় রয়েছে আলফা প্রাইভেট হাসপাতাল লিমিটেড। সেবার মান ভাল, আর অভিজ্ঞ ও সিনিয়র ডাক্তাররা হাসপাতালটিতে প্রতি সপ্তাহে চেম্বার করেন। তাই রোগীরাও চিকিৎসা সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট এমনটাই জানালেন চিকিৎসা নিতে আসা রেহেনা আক্তার।

 

তিনি বলেন, আমার বাচ্চার বয়স ২ বছর। আলফা হাসপাতালে সেবার মান ভাল এবং বাচ্চাদের চিকিৎসা অভিজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে হয়। আমি নিজের অসুস্থতাসহ আজকে ৪ বছর আলফা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। তথ্যমতে, সাতকানিয়ায় ৯টি হাসপাতাল এবং ১৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। আবার ৯টি হাসপাতালের মধ্যে নয়টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে কিন্তু নয়টি হাসপাতাল সবগুলো রেজিস্টার্ড না। আলফা প্রাইভেট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাস্টার ফরিদুল আলম বলেন, সাতকানিয়ার অধিকাংশ মানুষ বিলাসবহুল জীবনযাপন পছন্দ করে। দেখা যাচ্ছে একজন দিনমজুর অসুস্থ হলে যে জেনারেল বেডে ভর্তি হচ্ছে না, সেও কেবিন চাচ্ছে, আমরা দিচ্ছি। সাতকানিয়া উপজেলার মধ্যে আমরা রোগীদের উন্নত সেবা প্রদান করছি,আমার কাছে যদি কোন পরিক্ষা-নিরিক্ষা না থাকে তাহলে স্যাম্পল কালেকশন করে রিপোর্ট সংগ্রহ করে দিচ্ছি।আমাদের হাসপাতালে নিয়মিত ডাক্তার থাকে, তারা সবসময় মনিটরিং করে রোগীদের।

 

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কে, এম আবদুল্লাহ-আল মামুন বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় মানুষের জন্য সরকার নিয়মিত সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। আমাদের হাসপাতালে রোগী নিয়মিত আসছে, আমরা তাদের যথেষ্ট সেবা দিচ্ছি। আমাদের হাসপাতালটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট, যেটিকে ১শ শয্যা করার জন্য আবেদন করেছি। মনে করেন বাজালিয়া থেকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসার পথে কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে চোঁখে পড়ে তখন রোগীরা সেখানে ভর্তি হয় বা চিকিৎসা নেয়। আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা প্রদান করা হয়। কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’টি মাত্র কেবিন রয়েছে যা সব রোগীরা খুঁজলে সবাইকে দিতে পারি না কারণ সেখানে রোগী ভর্তি থাকে। ইউনিয়ন ও পৌরসভায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছে, ৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ রয়েছে জনবল সংকটের কারণ সেটি খুব দ্রুতই সমাধান হবে। দূর থেকে ছোটখাটো যেকোনো চিকিৎসার জন্য মানুষ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসতে চায় না। তারা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে।

লেখক: নিজস্ব সংবাদদাতা, সাতকানিয়া

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট