চট্টগ্রাম শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪

সগৌরবে আলো ছড়াচ্ছে শতবর্ষী সমবায় ‘ব্যাংক’ ধলঘাট আর্বান

নিজস্ব সংবাদদাতা

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ১২:৫০ অপরাহ্ণ

বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের স্মৃতিধন্য পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়ন। সেই ধলঘাট আরও একটা কারণে সবার কাছে পরিচিত। সেটি শতবর্ষী সমবায় ‘ব্যাংক’ ধলঘাট আর্বান সমবায় সমিতি লিমিটেডের কারণে। পটিয়া উপজেলার উত্তরের শেষ সীমান্তে কোলাহলমুক্ত নিরিবিলি পরিবেশের জনপদে সগৌরবে আলো ছড়াচ্ছে শতবর্ষী এই আর্বান। এখানকার মানুষ ব্যাংক বলতে বুঝেন এই সমিতিকেই।

 

অসহায়-দরিদ্র মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ১৯১৮ সালের ৩ জুলাই কবি শশাঙ্ক মোহন সেন, যামিনী রঞ্জন চৌধুরী, হিমাংশু বিমল দাশ, দ্বিজেন্দ্রনাথ দাশ, হরিলাল দত্তসহ বেশ কয়েকজনে মিলে এই সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। গত ২০১৮ সালের মার্চে এ সমিতির শতবর্ষ উদযাপন করা হয়। বর্তমানে এ সমিতির বয়স ১০৫ বছর। ফলে পটিয়ার অন্যতম ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে এ সমবায় ব্যাংকটি।

 

মাত্র ১৭ জন সদস্য নিয়ে এই সমিতির যাত্রা শুরু হলেও সময়ের বয়স যতই বেড়েছে ততই বিস্তৃত হয়েছে পরিসর। এখন সমিতির সদস্য সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৮৯ জনে। সঞ্চয়ী গ্রাহক আছেন এর তিন গুণ- প্রায় ১১ হাজার। সব মিলিয়ে এলাকার গরিব মানুষের প্রয়োজনে এই সমিতি টাকা জুগিয়ে যাচ্ছে যুগের পর যুগ ধরে।

 

বর্তমানে দোতলা ভবনে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করছে নির্বাচিত পর্ষদ। তিন বছর পর পর এ সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সদস্যরাই নির্বাচিত করেন সমিতির সভাপতি, সহ-সভাপতি, সম্পাদক ও সদস্যদের। ২০১০ সালের ৩১ জানুয়ারি নির্মিত দোতলা ভবন উদ্বোধন করেন পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী এমপি।

 

সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর গ্রামীণ পরিষেবার যথেষ্ট বিস্তার হলেও এখনো ধলঘাটের গরিব মানুষের কাছে বড় ভরসার নাম হয়ে আছে এই সমিতি। সমিতিতে বর্তমানে ৮জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দৈনিক গ্রাহকদের ঋণ দেওয়া আর সঞ্চয়ের টাকা জমা নিতে ব্যস্ত সময় পার করেন তারা। সমিতির তহবিলে বর্তমানে পাঁচ কোটি টাকা জমা আছে। বর্তমানে পটিয়া ও বোয়ালখালীর ৯টি ওয়ার্ডের মানুষ যুক্ত আছেন এই সমিতির সঙ্গে।

 

সমিতির সাবেক সদস্য শিক্ষক প্রবোধ রায় চন্দন বলেন, এ সমিতি হাজারো মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। সহজ সুদে ঋণ দিয়ে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। গরিব-মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এ সমিতি এলাকার উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রেখে চলেছে। স্বচ্ছতা, দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহি থাকায় এ সমিতির সুনাম সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

সমিতির সভাপতি সমীর চৌধুরী বলেন, এই সমিতি হাজারও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। সমিতি থেকে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ১০০ টাকা কিস্তিতে ১০ বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া হয়। ৭৫ হাজার টাকা ঋণ নিলে কিস্তি ৫০০ টাকা। ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প, নারীদের স্বনির্ভর করে তোলাসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই ঋণ দেওয়া হয়। আশা করছি, এলাকার উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে এভাবেই বছরের পর বছর ধরে কাজ করে যাবে আমাদের ধলঘাট আর্বান সমিতি।

 

 

পূর্বকোণ/জেইউ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট