চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪

শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনা

নিজস্ব সংবাদদাতা

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ৪:১৬ অপরাহ্ণ

প্রকৌশল শিক্ষার অনন্য একটি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। রাউজানে এটির অবস্থান। কাপ্তাই সড়কের পাশে প্রাকৃতিক ছায়ায় আর পাহাড়ের পাদদেশে মনোরম পরিবেশে চুয়েট উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। এই চুয়েটেই বহুল প্রতীক্ষিত ও দেশের বিশ^বিদ্যালয় পর্যায়ে সর্বপ্রথম স্থাপিত ‘চুয়েট শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর’ ২০২২ সালের ৬ জুলাই ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি শেখ জামাল ডরমিটরি ও রোজী জামাল ডরমিটরিরও উদ্বোধন করা হয়।

 

চুয়েট শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর প্রকল্প দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সফল উদ্যোক্তা তৈরি, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশনকে আরও সম্মৃদ্ধ করা এটির মূল উদ্দেশ্য। একই সাথে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের সুযোগ আরও অবারিত করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আয় প্রত্যাশিত মাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সর্বপ্রথম শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন করা হয়েছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ স্নাতক (গ্র্যাজুয়েট) তৈরির মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে এই ইনকিউবেটর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।

 

যা রয়েছে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরে : শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর প্রকল্পের আওতায় চুয়েট ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে প্রায় ৫ একর (৪.৭ একর) জমির উপর ৫০ হাজার বর্গফুট আয়তনের ১০ তলাবিশিষ্ট একটি ইনকিউবেশন ভবন এবং ৩৬ হাজার বর্গফুটের ৬ তলাবিশিষ্ট একটি মাল্টিপারপাস প্রশিক্ষণ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ইনকিউবেশন ভবনের মধ্যে রয়েছে, স্টার্টআপ জোন, আইডিয়া/ইনোভেশন জোন, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিক জোন, ব্রেইনস্ট্রর্মিং জোন, ই-লাইব্রেরি, ডাটা সেন্টার, রিসার্চ ল্যাব, বঙ্গবন্ধু কর্নার, এক্সিবিশন/প্রদর্শনী সেন্টার, ভিডিও কনফারেন্সিং কক্ষ, সভাকক্ষ প্রভৃতি। উদ্যোক্তা ও গবেষকদের কাজের সুবিধার্থে এখানে একটি করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ল্যাব, মেশিন লার্নিং ল্যাব, বিগ ডাটা ল্যাব, অপটিক্যাল ফাইবার ব্যাকবোন, সাব-স্টেশন ও সোলার প্যানেল রয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ও আইটি ফার্মের জন্য পৃথক কর্নার, অত্যাধুনিক সাইবার ক্যাফে, ফুড কোর্ট, ক্যাফেটেরিয়া, রিক্রিয়েশন জোন, মেকার স্পেস, ডিসপ্লে জোন, প্রেস/মিডিয়া কাভারেজ জোন, নিজস্ব পার্কিং সুবিধা প্রভৃতি।

 

অন্যদিকে মাল্টিপারপাস প্রশিক্ষণ ভবনে ২৫০ জনের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন সুসজ্জিত অডিটোরিয়াম এবং ৩০ জনের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন পৃথক ৮টি কম্পিউটার ল্যাব কাম সেমিনার কক্ষ রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ২০ হাজার বর্গফুট আয়তনের ৪ তলাবিশিষ্ট পৃথক দুইটি (১টি নারী ও ১টি পুরুষ) আবাসিক ডরমিটরি ভবন নির্মিত হয়েছে। প্রতিটি ডরমিটরিতে ৪০টি কক্ষ রয়েছে। এছাড়া দুুটি মিনি সুপার কম্পিউটার সম্বলিত অত্যাধুনিক গবেষণা ল্যাব শীঘ্রই স্থাপিত হচ্ছে।

 

চুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, ‘শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর প্রযুক্তি খাতে বৈপ্লবিক অবদান রাখবে। চুয়েটে এ ধরনের একটি ‘তথ্যপ্রযুক্তি খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টায় দেশ প্রযুক্তিখাতে এগিয়ে চলেছে, তার একটি উদাহরণ এই চুয়েট শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর।’

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট