চট্টগ্রাম শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

অপচনশীল আর্বজনা প্রক্রিয়াজাতকরণ

আয়বর্ধক প্রকল্পে ব্যাপক সাড়া

নিজস্ব সংবাদদাতা

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ৩:৫৬ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রাম হবে শহর’ এই স্বপ্নকে শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব, মডেল ও আধুনিক পৌরসভা গড়ে তুলতে সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে নগদ অর্থে পলিথিন, প্লাস্টিক ও অপচনশীল আবর্জনা ক্রয় করছে পৌরসভা। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিন বৃহস্পতিবার ছাড়াও বিশেষ দিনে দুস্থ নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সীদের কুড়িয়ে আনা অপচনশীল বর্জ্য প্রতি বস্তা ২শ টাকায় কিনে সংগ্রহ করছেন মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ।

এছাড়াও ৯টি ওয়ার্ড ও কাঁচা বাজারে সৃষ্ট তরকারির অবশিষ্টাংশ, হোটেল,    বাসাবাড়ির খাবারের উচ্ছিষ্ট, পচা ফলমূলের মতো বর্জ্য প্রতিদিন সংগ্রহ করে ময়লার ভাগাড়ে এনে ফেলছেন পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। ইতোমধ্যে লক্ষাধিক বস্তা অপচনশীল আবর্জনা সংগ্রহ করে পৌরসভার বিভিন্নস্থানে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এদিকে রাউজান পৌরসভার এ ব্যতিক্রমী কার্যক্রম সারাদেশে প্রশংসিত হয়েছে। পৌরসভাকে সুন্দর ও মডেল করে তুলতে অপচনশীল আবর্জনা সংগ্রহ করে রাউজান পৌরসভার মতো পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সারাদেশের পৌরসভার মেয়রদের চিঠি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। ওই চিঠিতে রাউজান পৌরসভার উদাহরণ উল্লেখ করা হয়।

 

বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় ও মাঝারি কয়েকশ আধুনিক এবং বিভিন্ন ধরনের ডাস্টবিন বসানো হয়েছে। এছাড়াও শতাধিক পোল্ট্রি ও ডেইরি খামারি মালিককে তাদের বর্জ্য সংগ্রহের জন্য ‘বালতি’ প্রদান করা হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকেও নগদ অর্থে আবর্জনা সংগ্রহ এবং এ কাজে তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সংগ্রহকৃত অপচনশীল বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা প্রক্রিয়াজাত করে দুটি পৃথক ধারায় আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এরমধ্যে একটি হচ্ছে ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই প্রকল্প। এটির মাধ্যমে ময়লা আবর্জনা থেকে তৈরি হবে জৈব সার, হাঁস-মুরগি ও মাছের খাবার। আর অন্যটিতে প্লাস্টিক, পলিথিনের মত অপচনশীল বর্জ্য থেকে তৈরি করা হবে প্লাস্টিক দানা। এসব প্লাস্টিক দানায় তৈরি করা হবে নিত্য ব্যবহার্য্য প্লাস্টিক জিনিসপত্র। ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই থেকে প্যারোট পোকা উৎপন্ন করতে দরকার মশারি নেট, কয়েকটি পাতিল ও কয়েকটি কাঠের টুকরো। একজন খামারি বড় পরিসরে এই পোকা চাষ করলে প্রতিদিন ১০০ থেকে ৫০০ কেজি পর্যন্ত পোকা উৎপাদন করে লাভবান হতে পারবেন। ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই থেকে প্যারোট পোকা উৎপাদন করার পর বর্জ্যরে যে অংশ অবশিষ্ট থাকে, তা দিয়ে তৈরি হবে উৎকৃষ্টমানের জৈব সার। এ সার শাক-সবজি ও ফসলের মাঠে ব্যবহার করতে পারবে। ময়লা-আবর্জনা, তরকারির অবশিষ্টাংশ, খাবারের উচ্ছিষ্ট, পচা ফলমূলের মতো ময়লার ভাগাড় ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের জন্য উপযুক্ত আবাস। দেশে এ ধরনের পরিবেশ খুবই সহজলভ্য বিধায় ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই পোল্ট্রিশিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

২০২১ সালে পৌরসভাকে সুন্দর ও মডেল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপির নির্দেশে এবং উৎসাহে অপচনশীল আবর্জনা সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেন মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ। ওই সংগ্রহকাজের উদ্বোধন করেন এমপি ফজলে করিম চৌধুরী। প্রায় একবছর সপ্তাহের ৩-৪ দিনও প্রতিবস্তা আবর্জনা ২শ টাকা করে কিনে নিতেন মেয়র। তবে এ বছরের মাঝামাঝি থেকে তিনি প্রতি বৃহস্পতিবার এবং বিশেষ দিনে নগদ অর্থে এ আবর্জনা কিনছেন।

 

এ প্রসঙ্গে মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ বলেন, ‘জনগণকে পরিবেশ সম্পর্কে এবং শহরকে পরিষ্কার রাখার জন্য সচেতনতা সৃষ্টির জন্য অপচনশীল আবর্জনা সংগ্রহ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। বিশাল অংকের অর্থ এতে ব্যয় হলেও জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি। মানুষ এখন পৌরসভার নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ময়লা বা অপচশীল আবর্জনা ফেলে। তাছাড়া সংগ্রহ করা প্লাস্টিক, পলিথিনের মত অপচনশীল বর্জ্য রিসাইক্লিন করে দানাদার প্লাস্টিক তৈরির পর নিত্য ব্যবহার্য্য পণ্য তৈরি করা হবে। এতে পৌরসভা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে এবং ওই প্রকল্পের কারণে কর্মসংস্থান হবে বহু বেকারের। প্রকল্পটি শীঘ্রই চালু হবে। এর জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।’

লেখক : নিজস্ব সংবাদদাতা, রাউজান।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট