
আগামী অর্থবছর থেকে করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন থেকে আর রিটার্ন জমার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা ৩০ নভেম্বরের বাধ্যবাধকতা থাকবে না; বরং করদাতারা সারা বছরই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
সম্প্রতি সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) নেতাদের সঙ্গে এক প্রাক্-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এই তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, নতুন নিয়মে রিটার্ন জমার সময় বাড়ানোর বর্তমান ব্যবস্থাও বাতিল হয়ে যাবে।
এনবিআরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, করদাতারা অর্থবছরের যত শুরুতে রিটার্ন দেবেন, তত বেশি সুবিধা পাবেন। যারা অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) রিটার্ন দেবেন, তাদের জন্য কর ছাড়ের সুবিধা থাকবে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর–ডিসেম্বর) রিটার্ন দিলে নিয়মিত কর দিলেই হবে। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি–মার্চ) জমা দিলে নিয়মিত করের পাশাপাশি বাড়তি অর্থ এবং চতুর্থ প্রান্তিকে (এপ্রিল–জুন) জমা দিলে সেই বাড়তি অর্থের পরিমাণ আরও বাড়বে।
সারা বছর রিটার্ন জমার সুবিধার পাশাপাশি এনবিআর সম্পদ কর এবং উত্তরাধিকার সম্পদ হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও কর আরোপের কথা চিন্তা করছে।
চলতি বছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় আজ ৩১ মার্চ রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে। এবার সবাইকে অনলাইনে রিটার্ন দিতে হচ্ছে এবং গতকাল সোমবার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন। যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিতে পারেননি, তারা এনবিআরের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৯০ দিন পর্যন্ত সময় নিতে পারছেন।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ