চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম-৮ আসন: ‘গোছানো মাঠ’ হারাতে চায় না জামায়াত!

তাসনীম হাসান

১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১২:৩৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম-৮ আসনে (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) প্রার্থিতা নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এনসিপির নেতাদের দাবি, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় পাওয়া ৩০টি আসনের মধ্যে এই আসনটি একটি। সে কারণে চট্টগ্রামে একমাত্র এই আসনেই তারা প্রার্থী দিয়েছেন। তবে জামায়াতের নেতাদের মতে, এই আসনে মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন। এখানে তাদের অবস্থান ভালো, মাঠও গোছানো। আর তাদের প্রার্থী এই আসনের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ায় গ্রহণযোগ্যতাও বেশি।

 

গত ২৯ ডিসেম্বর জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতার ঘোষণা আসে। তখন এনসিপির নেতারা জানান, এনসিপিকে দেওয়া ৩০টি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ রয়েছে। সেই অনুযায়ী এই আসনে দলটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও চট্টগ্রাম অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক জোবাইরুল হাসান আরিফ মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে এই আসনে জোটের শরিক জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাছেরও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এমনকি ওই জোটে থাকা ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থীরাও পৃথকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাই শেষে জোটে থাকা এই চার দলের প্রার্থীরই মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। তবে জোটের আলোচনায় মূলত জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীই আছেন।

 

১১ দলের নির্বাচনী আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। গতকাল এটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা ঝুলে যায়। ফলে চট্টগ্রাম-৮ আসনে জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী কে হবেন, তা এখনো অস্পষ্ট। তবে জামায়াত ও এনসিপির দুই প্রার্থীই মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। জামায়াতের চট্টগ্রাম-৮ আসনের নির্বাচনী সমন্বয়ক ও মহানগর কমিটির সহকারী সেক্রেটারি মো. মোরশেদুল ইসলাম পূর্বকোণকে বলেন, ‘এই আসনে আমরা একজন মানবিক চিকিৎসককে মনোনয়ন দিয়েছি। যিনি দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে এলাকার মানুষের সুখ দুঃখের সঙ্গী। সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করায় জাতিধর্ম-নির্বিশেষে তাঁর সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা আছে। এছাড়া বোয়ালখালীর মানুষের প্রাণের দাবি কালুরঘাট সেতু, স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কাজ করে আসছেন। তিনি এলাকার সন্তান-মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর নাড়ির সম্পর্ক। এলাকাবাসী তাই দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাতে চান।’

 

এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আগে এনসিপি চট্টগ্রামের ৯টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও জোটভুক্ত হওয়ার পর শুধু চট্টগ্রাম-৮ আসনেই মনোনয়পত্র জমা দিয়েছে। অন্য কোনো আসনে ঘোষিত প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম জমা দেননি। পার্টির সিদ্ধান্ত ছিল, চট্টগ্রাম থেকে আমরা শুধুমাত্র একটি আসনেই জমা দেব। কেননা এই আসন নিয়ে সমাঝোতা হচ্ছে। এখানে এনসিপিই থাকবে। এটা নিয়ে ঘোষণা আসবে, তখন সবকিছু স্পষ্ট হবে।’

 

চট্টগ্রাম নগরের সঙ্গে যুক্ত চারটি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ অন্যতম। চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় শহরে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চট্টগ্রাম-৮ আসনটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। অন্যদিকে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে এনসিপির একমাত্র প্রার্থী থাকায় জেলায় দলের অস্তিত্ব ধরে রাখতে এই আসনটি ছাড়তে চায় না দলটিও। শেষ পর্যন্ত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে কার কপাল খুলে-সেটিই এখন দেখার বিষয়।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট