চট্টগ্রাম রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩

১২ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

পতেঙ্গার আদলে কর্ণফুলীর তীরে ‘পর্যটন স্পট’ করছে সিডিএ

নান্দনিক পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের আদলে বাকলিয়া এলাকায় নতুন ‘পর্যটন স্পট’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে বাস্তবায়নাধীন ‘কালুরঘাট-চাক্তাই সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের’ একপাশে সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই ‘পর্যটন স্পট’ গড়ে তোলা হবে। এতে খরচ হবে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা।

 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন- বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে প্রাকৃতিক জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা এবং নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে ‘কালুরঘাট-চাক্তাই সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। এখন এই প্রকল্পে কিছুটা সংশোধনী এনে নির্মাণাধীন সড়ক এবং কর্ণফুলী নদী তীরের মাঝখানে ওয়াকওয়ে, পর্যটকদের বসার স্থান এবং সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের আদলেই এটি বাস্তবায়ন করবে সিডিএ।

 

সিডিএ’র প্রকল্প পরিচালক রাজিব দাশ পূর্বকোণকে বলেন, শাহ আমানত সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে বলিরহাট পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এছাড়া সেখানে সৌন্দর্যবর্ধন এবং বসার ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে ওই এলাকায় পতেঙ্গার মত পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে। পরবর্তীতে সেখানে শিশুদের জন্য বিশেষ বিনোদনের ব্যবস্থাসহ পর্যটকবান্ধব রেস্টুরেন্ট করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

এক সময় নগরীর সবচেয়ে অনগ্রসর ও অনুন্নত এলাকা হিসেবে পরিচিত বাকলিয়ায় সিডিএ’র এমন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুরো বাকলিয়া এলাকার চিত্র বদলে যাবে বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। এছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাকলিয়াসহ আশপাশের মানুষের জন্য নতুন বিনোদনের স্থান গড়ে উঠার পাশাপাশি এই এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

 

জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ ও সিডিএ’র বোর্ড সদস্য স্থপতি আশিক ইমরান পূর্বকোণকে বলেন, পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে নদীর তীরকে কেন্দ্র করে বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। ফান্সের প্যারিস শহরের ‘সেন’ নদী, জার্মানির বন শহরের ‘রাইন’ নদীর তীরে গড়ে উঠা বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্র বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। বাকলিয়া এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে এ ধরনের একটি প্রকল্প নিয়েছে সিডিএ।

 

তিনি বলেন, এক সময় নগরীর অন্যতম অবহেলিত এলাকা ছিল বাকলিয়া এলাকা। এখন সেখানে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বাকলিয়া এলাকার চিত্র পাল্টে যাচ্ছে। ফলে বাকলিয়াবাসীর জীবনযাত্রার মানও উন্নত হচ্ছে। কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে পর্যটনবান্ধব নতুন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তা বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হবে। এই এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে।

 

সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ পূর্বকোণকে বলেন, বাকলিয়া এলাকায় লোকসংখ্যা বেশি হলেও বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিনোদন স্পট করার পরিকল্পনা নিয়েছি। এই সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকায় মানুষ পতেঙ্গার মতো সময় কাটাতে পারবেন। নগরবাসীর চিত্তবিনোদনের একটি জায়গা হবে।

 

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নেওয়া ‘কালুরঘাট-চাক্তাই সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প’ ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল একনেকে অনুমোদন পায়। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এতে ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। পরে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা। এখন ফের সংশোধনী আনলে এই প্রকল্পের ব্যয় আরও দেড়শ কোটি টাকা বাড়বে।

 

প্রকল্পের অধীনে সাড়ে ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে একটি সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য থাকছে ১২টি স্লুইস গেট। ইতোমধ্যে ৯টি স্লুইস গেটের স্ট্রাকচারাল কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে এসব স্লুইস গেটের আনুষঙ্গিক কাজ চলছে। এছাড়া চাক্তাই, রাজাখালী, বলিরহাট, ইস্পাহানি, কালুরঘাট ও নোয়াখালে ৫টি রেগুলেটার বসানো হবে। বর্ষার আগেই এসব রেগুলেটর বসানোর কাজ শেষ হবে।

 

তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের এখন পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে ৬৫ শতাংশ। প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কিছু এলাকায় কাজের গতি কিছুটা থমকে আছে বলে দাবি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট