চট্টগ্রাম রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪

তাবাক্ষ গুহা নয় যেনো এভারেস্ট জয়

নাঈম উদ্দিন

২৫ অক্টোবর, ২০২১ | ৩:০২ অপরাহ্ণ

২৪ অক্টোবর ২০২১। কি এক্সাইটম্যান্টেই না কাটিয়েছি! খাগড়াছড়িতেই প্রায় ১০ কিলো হেঁটে গিয়েছি এই ঝর্ণায়। ইচ্ছা ছিল, সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ি অতিক্রম করব। কিন্তু কারণে অকারণে প্রায় পৌণে বারোটা লেগে গেল।

মাটিরাঙ্গা থেকে সেলিম ভাই ও আমার বাইকে মাহবুব সুমন ও চম্পাকে নিয়ে রওনা দেবার কথা। কিন্তু আমার বাইকের ঝামেলায় হয় নি। মাহিন্দ্রা থ্রী হুইলার নিয়ে যাত্রা করি। পথে খাগড়াছড়িতে দেরি হয়। রাস্তার দূর্গমতার জন্য দীঘিনালা রোড থেকে ৫ কিলো ঢুকার পর, মাহিন্দ্রা রেখে হেঁটে রওনা।

রাস্তা হেরিংবন্ড কিন্তু মাঝে মাঝে ভীষণ ভাঙ্গা, সম্ভবত ৪ হুইল ড্রাইভের জিপ চলবে। রাস্তার পাশে ঘরবাড়ি বা দোকান নেই। পুরা এলাকায় কোন বাঙ্গালী চলাচলও নেই। ত্রিপুরাদের বাসের অঞ্চল। মাঝে এক ত্রিপুরা পরিবারে পানি খাওয়ার জন্য থামি। তারা শুধু পানি নয়, ঘরে থাকা কলা দিয়ে আপ্যায়ন করল। এই আপ্যায়ন ও সমাদর প্রমাণ করে, রাজনৈতিক নিপীড়ন না থাকলে, বৈষম্যের রাজনীতি না থাকলে, আধিপত্য বিস্তার না থাকলে, জাতিসমূহের মানুষদের পারস্পরিক বিদ্বেষ নেই।

তারপর হাঁটা এবং হাঁটা। প্রায় ৩টায় সেখানে পৌঁছলাম। ঝর্ণা পেলাম। এখন নামার জটিলতা। ৪০/৫০ ফুট প্রায় খাড়া স্থান, মাটিতে একটু পিচ্ছিলতা আছে। আমাদের সাথে মাউনটেনিং এর কোন সাহায্য নেই। এমনকি দঁড়িও নেই। প্রায় ২/৩ ইঞ্চি পা রাখার সুযোগ নিয়ে তৃণসম লতা ইত্যাদি ধরে নামলাম ছড়ায়।

ভেবেছিলাম, পারব না। কিন্তু আমাদের গাইড ধর্মেঞ্জয় ত্রিপুরা, সেলিম ভাই ও আমি আগে নামলাম। ভয় ছিলাম, চম্পা পারবে না। কিন্তু সুমনের দেখভালে চম্পাও নেমে এল। এর মাঝে ঝর্ণার ২/৩ টা ছবি তুলতেই আমার মোবাইল চার্জ শেষ হয়ে গেল।

এর পর তাবাক্ষ গুহায় প্রবেশ। তাবা অর্থাৎ বাদুর, খ মানে গুহা। এটা ত্রিপুরা ভাষায়। কি সরু গুহা। অন্ধকার ও দুর্গম। মোবাইলের টর্চ সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এক পর্যায়ে ক্লাইম্ব করে উচু সরু জায়গা পেয়ে ফেরত এলাম। পরে শুনলাম, আরও বেশ অনেক স্থান বাকী রয়ে গেছে। আমরা ৪:১০ মিনিটে আবার ফেরত আসা শুরু করলাম। প্রায় ৬ টায় গাড়ির কাছে ফিরতে পারলাম। মনে হচ্ছে, এভারেস্ট জয় করেছি।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট