চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২১

সর্বশেষ:

১৬ অক্টোবর, ২০২১ | ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের দার্জিলিং সাজেকভ্যালি

সাজেকভ্যালি এখন বাংলাদেশের দার্জিলিং। ইতোমধ্যে দেশে বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে সাজেকভ্যালি। সাজেকে গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক পর্যটন রিসোর্ট। এখন আনন্দ ভ্রমণে সেখানে প্রতিনিয়ত ছুটছেন পর্যটক, বিনোদন ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। তাদের পদচারণায় মুখর সাজেকভ্যালি।

সাজেকভ্যালির অবস্থান রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার ভারতের মিজোরাম সীমান্তবর্তী এলাকায়। ওপারে ভারত আর এপারে বাংলাদেশের ভূখন্ড সাজেকেভ্যালির প্রকৃতির ভূস্বর্গ। মেঘে ছুঁয়ে যায় আকাশছোঁয়া পাহাড় চূড়ায়। ছুঁয়ে যায় হিমেল বাতাস। চারদিকে ঘন সবুজের সমারোহ। পাদদেশে মাঝখানে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি নদী সাজেক। সেই অপরূপ পাহাড়ি নদীর নাম ঘিরেই সাজেকভ্যালি।

জানা যায়, সাজেকভ্যালি ঘিরে পর্যটন স্থাপনার আবিস্কার ২০০৮ সালের দিকে । ওই সময় স্থানীয় লোকজন এবং বিজিবির উদ্যোগে নির্মিত হয় কয়েকটি সাধারণ কটেজ। পরে পরিচিতি পাওয়ায় ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে পর্যাপ্ত রিসোর্ট। যেখানে রয়েছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ স্থানীয় লোকজনের বহু স্থাপনা। সরকারিভাবে সাজেকভ্যালিকে পর্যটন জোন ঘোষণা করা হলে দ্রুত এ এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থা পাল্টে যাবে বলে মন্তব্য বিভিন্ন মহলের।

সাজেকের প্রকৃতি এখন সজীব। প্রকৃতির ছোঁয়া, হিমেল বাতাসের পরশ নিতে আর মেঘের বিশাল রাশিমালা ছুতেঁ এবং সকাল বিকেল দৃষ্টিনন্দন কুয়াশা উপভোগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। সড়কপথে সাজেক যাওয়া যায় সরাসরি ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা হয়ে। চট্টগ্রাম থেকেও যাওয়া যায় সরাসরি খাগড়াছড়ি জেলা হয়ে সড়কপথে। বিভিন্ন মহলের মন্তব্য, সরকারিভাবে পর্যটন জোন ঘোষণা করা হলে সাজেকভ্যারি হবে বাংলাদেশের দার্জিলিং। স্থানীয় বাসিন্দা এরিন্টা ত্রিপুরা বলেন, সাজেক থেকে সামান্য দূর পায়ে হেঁটে গেলেই ভারতের মিজোরাম।

বাংলাদেশ এবং ভারত সরকার সফল উদ্যোগ নিলে দুই দেশের মধ্যে ট্রানজিট পয়েন্ট তৈরি করে পর্যটকদের ভ্রমণে অনেক ধাপ এগিয়ে যাবে সাজেকভ্যালি। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের উদ্যোগে মোটেল, রিসোর্ট গড়ে তোলা হলে এবং রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, পানির ব্যবস্থাসহ সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হলে সাজেকভ্যালি থেকে আয় হবে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা নয়ন জানান, সাজেককে পর্যটন জোনে পরিণত করতে সরকারের সুদূর প্রসারি পরিকল্পনায় অভাব রয়েছে। সাজেকের রাস্তা-ঘাটগুলো সমতলের মতো উন্নত করা হলে এখানে আর দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকবে না। এখন মানুষ রাস্তাঘাটে দুর্ঘটনার ভয়ে অনেকে সাজেকে যেতে চাইছে না। বর্তমানে সাজেকে প্রায় দেড়শ পর্যটন রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু এসব রিসোর্ট সবগুলো ব্যক্তি মালিকানায়।  সাজেকে পর্যটক মোটেল এন্ড হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া বলেন, পর্যটকরা অনেকেই এখন সাজেকভ্যালি যাচ্ছেন ঘুরতে। পর্যটক টানতে সাজেকে নতুন নতুন উন্নতমানের রিসোর্ট গড়ে তোলা উচিত বলে মনে করি। খবর: যুগান্তর

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 409 People

সম্পর্কিত পোস্ট