চট্টগ্রাম রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪

সিয়াটল টু নিউ ইয়র্ক : উই আর দ্যা সিক্স গাইজ

আতিকুল ইসলাম 

২৬ এপ্রিল, ২০২১ | ১:৩২ অপরাহ্ণ

তিনি খুবই রাগ হয়ে বলেছিলেন তিনি আমার আইওয়া অঙ্গরাজ্যে পাঠিয়ে দেবেন। আজো ভাবি এত রাজ্য থাকতে আইওয়া রাজ্য কেন!

পনেরটি ছোট-বড় দ্বীপ নিয়ে হাওয়াই অঙ্গরাজ্য গঠিত। আদিবাসিদের নিকট ‘হাভাই-ই’ নামে পরিচিত এ রাজ্যটি। এর আর একটি নাম হচ্ছে ‘‘ The Big Island ” ১৯৫৯ সালে হাওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের ৫০তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। সত্তুর দশকে যারা টিভি সিরিজ Hawaii Five- O দেখেছেন, তাদের জন্য ‘গুরুত্বহীন’ কিছু তথ্য : হাওয়াইতে হাওয়াই ফাইভ-ও বলে কোন পুলিশ বাহিনী নেই, নিছক কাল্পনিক। Five-O এসেছে ৫০ থেকে। এদেশে জিরোকেও (letter ‘O’ বললেও ভুল হবে না। কারণ জার্মেনিক ভাষাগুলোতে শূন্যকে ও (letter O) এর মত দেখায়। যেমন একশো দুইকে আপনি ওয়ান ও টু বলতে পারেন। বাংলা ভাষার উৎপত্তি যেমন সংস্কৃত ভাষা থেকে, তেমনি ইংরেজি সহ প্রায় পঞ্চাশটি ইউরোপিও ভাষার উৎপত্তি জার্মেনিক ভাষা থেকে। হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে অন্য কোন অঙ্গরাজ্যের সীমান্ত নেই বিধায় স্টেট ট্রুপারের প্রয়োজন নেই। দু’জন পুলিশ আমাদের বাসে উঠলেন। আমরা সিটে সাট হয়ে বসে রইলাম। তারা আমাদের পাশ কাটিয়ে ওই কালো দম্পতিকে উঠিয়ে নিয়ে গেলেন। যাক, এ যাত্রা বাঁচা গেলো।

টলিডো এবং ক্লিভল্যান্ড দুটো শহরই লেক ইরির দক্ষিণ তীরে অবস্থিত। লেক ইরি ‘দি গ্রেট লেকস’ পাঁচটির একটি। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাবার জন্য নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ৩৯২ মাইল দৈর্ঘ্য ইরি খাল (Erie Canal) খনন করা হয়, যার খনন কর্ম ১৮১৭ সালে শুরু হয়ে ১৯২৮ সালে শেষ হয়। খালটি অন্যান্য শহর সহ এ দুই শহরের বাণিজ্যিক সফলতা এনে দেয়। আড়াই লক্ষ লোকের বসতি ক্লিভল্যান্ড শহরে আমরা যখন পৌঁছাই তখন ভোর সোয়া পাঁচটা। ছটারও একটু পরে স্পেশাল ব্রেকফাস্ট হল। দু’টুকরো পাউরুটি টোস্ট, কফি আর ডিম পোচ। ব্রেকফাস্ট স্পেশালের সাথে দু’টুকরো বেকন (Bacon) মচমচে শুকরের পাতলা মাংস ভাজা)। না জানবার কারণে কেউ কেউ বেকনকে গরুর মাংস মনে করে খেয়ে ফেললাম। মনে পড়লে আজো দু’বার করে দাঁত ব্রাশ করি। বাস বদল হল। সকাল পৌনে আটটায় আমরা রওনা হলাম পিটসবার্গ শহরের উদ্দেশ্যে।

পিটসবার্গ পেনসালভানিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি বড় শহর। ১৯৫৩ সালে ড. জোনার পোলিও রোগের টীকা আবিষ্কার করেন এ শহরটিতে। রয়েছে স্টিল মিল, নাম করা বিশ^বিদ্যালয় : ইউনিভার্সিটি অফ পিটসবার্গ, কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি ইত্যাদি। সকাল এগারোটার দিকে আমরা পিটসবার্গ পৌঁছাই। হাতে সময় কম তাই তাড়াহুড়া করে কিছু খেয়ে নিলাম। মনে হল এ দিকটায় কালো লোকের কোন কমতি নেই। যেদিকে তাকাই, শুধু কালো লোকের ছড়াছড়ি। অসাবধানতার কারণে একটি কালো লোক সহযাত্রী নিপুনের হাত থেকে তার হাতব্যাগ নিয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে গেলো।  (পরের অংশ দেখুন আগামিকাল)

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট