চট্টগ্রাম রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪

পর্ব-২৮ঃ ফিলিপাইন ত্যাগ

মো. ফারুক ইসলাম

১০ জুলাই, ২০২০ | ১২:০০ অপরাহ্ণ

২ জুলাই ২০১৯, সবেমাত্র সকাল হয়েছে। বিছানা থেকে উঠতে মন চাইছিল না। কারণ আগের দিন রাতে ঘুমাতে অনেক দেরি হয়েছিল। ব্যাগ গুছাতে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ট্যুর শিডিউলে সাড়ে সাতটায় নিনয় একুইনো এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে। আমি আর রকিব ভাই বিছানা ছেড়ে ফ্রেশ হয়ে ব্যাগ নিয়ে নিচে চলে আসলাম। হোটেল ক্যাফেটেরিয়ায় গিয়ে সকালের নাস্তা সেরে রিসিপশনের সামনে এসে অপেক্ষা করতে লাগলাম। বাহারুল ইসলাম স্যার আসার পর রুমের চাবি বুঝিয়ে দিয়ে দেনা-পাওনা মিটিয়ে সবাই হোটেল কর্তৃপক্ষ থেকে বিদায় নিলাম। বাইরে অপেক্ষারত গাড়িতে উঠে রওনা দিলাম নিনয় একুইনো এয়ারপোর্টের উদ্দেশে। মন কিছুটা খারাপ। কারণ গত ছয়দিনের আনন্দ আর হাসিখুশিতে ভরা কিছু স্মৃতি নিয়ে ফিরছি স্বদেশে। এই স্মৃতি আর কখনো ফিরে আসবে না। ২৫ জন মানুষের মধ্যে যে আন্তরিকতার বন্ধন গড়ে উঠেছে তা বলে বোঝাতে পারবো না। বাহারুল ইসলাম স্যার আর ফারুক আলম স্যারের মতো অসাধারণ মানুষের সান্নিধ্যে থেকে অনেক কিছুই শিখলাম। এমন ভালো মনমানসিকতার ব্যক্তি খুব কমই দেখা যায়। কিন্তু এভাবে মন খারাপ করে ফিলিপাইন থেকে বিদায় নেয়াটাও কেমন জানি বেমানান। তাই গাড়িতে কিছু একটা করা চাই। আলেয়া আপা, যুথি স্যানাল দিদি, কমল দা, শহিদুল ভাই, নাছির ভাই থেকে শুরু করে সবাই যে যার মতো করে গান গাইতে শুরু করলাম। জমজমাট গানের আসরে প্রাণ ফিরে পেলো ঘোমট বাধা পরিবেশটা। ম্যানিলা শহরের সৌন্দর্য দেখছি আর গানের আসরে অংশ নিচ্ছি। মেট্রো ম্যানিল্যার মেট্রো ট্রেনের গতি দেখে চিন্তা করতে লাগলাম ফিলিপাইন কতো এগিয়ে। আমাদের দেশে এখনো মেট্রো ট্রেন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। আর ফিলিপাইনে মেট্রো রেল অনেক আগেই চালু হয়েছে। চলতে চলতে পথ শেষের পথে। বৃষ্টি দিয়ে ট্যুরের শুরু হলেও রোদ দিয়ে সমাপ্তি। মানে আজ ফিলিপাইনের আকাশে সূর্য উঁকি দিচ্ছে। বিদায়টা স্মরণীয় করে রাখতেই কি সূর্যের হাসি দেখছিলাম সেটা বুঝতে পারলাম না। এয়ারপোর্টের ফ্লাইওভারে আমরা। ফ্লাইওভার থেকে এয়ারপোর্ট দেখা যাচ্ছিল। কয়েক মিনিট পর আমরা পৌঁছে গেলাম নিনয় একুইনো এয়ারপোর্টে। গাড়ি থেকে নেমে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে লাইনে দাঁড়ালাম এয়ারপোর্টের ভেতরে প্রবেশ করার জন্য। ভেতরে ঢুকার পূর্বে এয়ারপোর্টের বাইরে কিছু ছবি তুলে নিলাম।

ভেতরে প্রবেশ করে থাই এয়ারওয়েজের কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়ালাম। দীর্ঘলাইন, জনসমাগম বেশি। আস্তে আস্তে লাইনের শেষে এসে টিকিট চেকিং, ব্যাগের ওজন পরিমাপ করে এয়ারপোর্টের ১ নম্বর টার্মিনালের দিকে হাঁটতে লাগলাম। আমাদের যাত্রা ফিলিপাইন সময় ১২টা ৫৫ মিনিটে। হাতে এখনো কিছু সময় আছে। সবাই বিমানের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। আমরা ম্যানিলা থেকে যাবো ব্যাংকক। সেখানে ৬ ঘণ্টার যাত্রা বিরতি। এরপর ব্যাংকক থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দিবো। আজকের দিনটা বিমানেই কাটবে। ঘড়ি কাঁটা বলছিল বিমানের অপেক্ষার অবসান হয়েছে। এয়ারপোর্টের সাউন্ড বক্সে ঘোষণা আসলো থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৬২১ বিমানটি কিছুক্ষণের মধ্যে ম্যানিলা থেকে ব্যাংককের সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্টের উদ্দেশে যাত্রা করবে। সবাই বিমানে উঠার প্রস্তুতি নিলাম। প্রথমে বিজনেস ক্লাসের যাত্রীরা বিমানে উঠলেন। এরপর আমরা ইকোনমি ক্লাসের যাত্রীরা বিমানে প্রবেশ করলাম। সিটে বসে সিট বেল্ট বেধে বিমানের উড্ডয়নের অপেক্ষা করতে লাগলাম। ১২টা ৫৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৬২১ বিমানটি নিনয় একুইনো এয়ারপোর্টের রানওয়ে ছেড়ে ফিলিপাইনের আকাশে উড্ডয়ন করলো। পরবর্তী গন্তব্য থাইল্যান্ডের সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট।-(চলবে)
পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট