চট্টগ্রাম রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪

পর্ব-৭ঃ নিনয় একুয়েনো এয়ারপোর্টে অবতরণ

মো. ফারুক ইসলাম

১৫ জুন, ২০২০ | ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ

আমরা গন্তব্যের প্রায় কাছাকাছি এসে গিয়েছি। সিটের সামনের টিভি স্ক্রিনের ম্যাপে ফিলিপাইনের আকাশসীমায় বিমানের উড্ডয়ন দেখা যাচ্ছিল। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার আকাশ ভ্রমণ শেষে ফিলিপাইনের সময় দুপুর বারোটায় ফিলিপাইনের নিনয় একুয়েনো আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৬২০ বিমানটি অবতরণ করলো। খুশিতে তখন মন নেচে উঠল। আসবে, আসবে করে অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটি এসে গেলো। সবাই ক্লান্তি ভুলে মহাখুশি। চাকরি জীবনে এমন প্রাপ্তি সত্যি গর্বের। কারণ সবার ক্ষেত্রে এমন সুযোগ আসে না। মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া যে খুব অল্প সময়ে আমি সেই সুযোগটা পেয়েছি। বিমান থেকে নেমে আমরা বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশনে প্রবেশ করলাম। সাধারণ পাসপোর্টধারী, অফিসিয়াল পাসপোর্টধারী ও ফিলিপাইনের জনগণের জন্য ইমিগ্রেশনে ছিল আলাদা আলাদা লাইন। আমাদের যেহেতু অফিসিয়াল পাসপোর্ট তাই আমাদের লাইনটা ছিল আলাদা। ইমিগ্রেশনে সবার পাসপোর্ট চেক করে একটা করে সিল দিচ্ছিলেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা। আমাদের ছিল অন এরাইভল ভিসা। তাই পাসপোর্টে সিলটা ভিসার পরিবর্তে দেয়া হয়ে ছিল। ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে ঢুকলাম লাগেজের সন্ধানে। বিমান বন্দরের বেল্টে আমাদের আগেই ব্যাগ আর লাগেজগুলো চলে এসেছিল।

সবাই নিজেদের লাগেজ ও ব্যাগ নিয়ে বিমান বন্দর ত্যাগ করার উদ্দেশে হাঁটা শুরু করলাম। এয়ারপোর্টের বাইরে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন আমাদের প্রোগ্রাম ম্যানেজার উৎ. ঔঁহ অপবফড়। সবাই বিমান বন্দর থেকে বের হলাম। কিন্তু প্রোগ্রাম ম্যানেজারের দেখা নাই। একে একে সব যাত্রী বিমান বন্দর ত্যাগ করছিলেন। বিমান বন্দর প্রায় ফাঁকা। আছি শুধু আমরা। ভেবেছিলাম প্লে-কার্ড নিয়ে উৎ. ঔঁহ অপবফড় আমাদের জন্য অপেক্ষা করবেন একদম বিমান বন্দরের দরজার কাছাকাছি। কিন্তু তাকে না দেখে আমরা একটু টেনশনে পড়ে গেলাম। এভাবে প্রায় ২৫ মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পর আমরা একটা রাস্তা ধরে বিমান বন্দরের একদম বাইরের রাস্তায় চলে আসলাম। বাইরে এসে দেখি সাদা টি-শার্ট ও জিন্সের প্যান্ট পরা এক ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে আছেন। আমাদের বাহারুল ইসলাম স্যারকে দেখে তিনি এগিয়ে এসে আমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছি কিনা জিজ্ঞেস করলেন। অবশ্য আমাদের প্রত্যেকের গলায় পরিচয়পত্র ঝুলানো ছিলো। বাহারুল ইসলাম স্যারের সাথে পরিচয় পর্ব শেষে উনি বললেন, উনি অনেক আগে থেকেই বাইরে অপেক্ষারত। কিন্তু বিমান বন্দরের ওখানে যাননি। এদিকে, বিমান বন্দর থেকে বের হয়ে আমাদের গ্রুপের অনেকেই ফিলিপাইনের মোবাইল সিম কিনলেন। কারণ বিদেশে এসে দেশের বাড়ির সবার সাথে তো যোগাযোগ রাখতেই হবে। তবে খুব কম সংখ্যক সদস্যই সিম কিনেছিলেন। কারণ আমাদের প্রোগ্রাম ম্যানেজার উৎ. ঔঁহ অপবফড় বলেছিলেন, হোটেল এবং ট্রেনিং সেন্টারে ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের ব্যবস্থা আছে। তাই আমরা মোবাইল সিম কেনা থেকে বিরত ছিলাম। সবার কাজ শেষে আমাদের জন্য অপেক্ষারত এসি গাড়িতে আমরা চেপে বসলাম।(চলবে)

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট