চট্টগ্রাম রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪

পর্ব-৩ঃ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে যাত্রা

ফারুক ইসলাম

১১ জুন, ২০২০ | ১২:১৪ অপরাহ্ণ

সকাল সাড়ে নয়টায় রেডি হয়ে হোটেল থেকে নিচে নেমে এলাম। নামার আগে হোটেলের ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করলাম হোটেল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দূরত্ব কতটুকু। তিনি বললেন, হেঁটে গেলে পাঁচ মিনিটের পথ।
নিচে নেমে রাস্তা পার হয়ে হাঁটা আরম্ভ করলাম। অল্প কিছুক্ষণ হাঁটার পর দেখলাম আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ঢাকায় অনেকবার যাওয়া হলেও অধিদপ্তরে এবারই আমার প্রথম যাওয়া। কাজ ছিল না বলেই আগে কখনো যাওয়া হয়নি অধিদপ্তরে। ভেতরে প্রবেশ করে দেখলাম অনেক অপরিচিত মুখ। সবাই রাতের ফ্লাইটে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সফরে ফিলিপাইন ও চীন যাবেন।

আমি যখন অধিদপ্তরে প্রবেশ করি তখন এক ব্যাচের মিটিং চলছিল। ওই ব্যাচের সবাই চীন যাবে। প্রথম ব্যাচের মিটিং শেষ হলে আমরা অধিদপ্তরের নিচ তলার একটা সেমিনার কক্ষে প্রবেশ করলাম। এবার দুইজন পরিচিত মুখ দেখে কিছুটা স্বস্তি পেলাম। কারণ ওনাদের সাথে চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের পরীক্ষায় আমার দেখা হয়েছিল। একজন হলেন কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নাছির ভাই এবং অন্যজন লক্ষ্মীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বেলায়েত হোসেন ভাই। নাছির ভাইয়ের পাশের চেয়ারে বসে পরিচিত হলাম। ওনার পাশেই ছিলেন কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা শাহনাজ আপা। যথারীতি মিটিং আরম্ভ হলো। সবার সাথে পরিচয় পর্ব হলো। সবার উদ্দেশে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ)

মো. জোবায়েদুর রহমান স্যার। এছাড়া অধিদপ্তরের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে আমাদের টিম লিডার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাহারুল ইসলাম স্যারের সাথে সবার পরিচয় হলো।  এদিকে, ট্রাভেল এজেন্সি এ. কে ট্রাভেলসের লোকজন আমাদের ট্যুর সম্পর্কে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিলেন। তাদের ব্রিফিং শেষে প্রত্যেককে আসা-যাওয়ার বিমান টিকিট এবং এক সপ্তাহের ট্যুরের পুরো গাইড লাইনের কপি হস্তান্তর করলেন। ট্রাভেল এজেন্সির কাজ শেষ হলে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিমান ভাড়া ব্যতীত আমাদের ট্যুরের খরচ বাবদ আটাশি হাজার তিনশত নিরানব্বই টাকার চেক প্রদান করা হয়। আমাদের আসা-যাওয়ার বিমান ভাড়া ছিল ৪৪ হাজার টাকা। ওই টাকা আগেই কেটে রাখা হয়েছিল। মিটিং শেষে সবাই বাইরে এসে আমাদের টিম লিডার বাহারুল ইসলাম স্যারের সাথে কথা বললাম। স্যার ফিলিপাইনে যারা আমাদের প্রশিক্ষণ দিবেন তাদের শুভেচ্ছা উপহার প্রদানের জন্য কিছু কেনাকাটা করতে কয়েকজনকে দায়িত্ব দেন। বাকিদের রাত দশটায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উপস্থিত হতে বলে আমাদের বিদায় দেন। সবাই চেক ক্যাশ করে ডলার নেয়ার জন্য ব্যাংকে গেলেন। ব্যাংকের শাখাটা ছিল আমার হোটেলের নিচ তলায়। যেহেতু আমি চট্টগ্রাম থেকেই ডলার নিয়ে গেছি তাই আমার তেমন তাড়াহুড়ো ছিল না। আমি একই বিল্ডিংয়ের নিচে কৃষি ব্যাংকে গিয়ে চেকের টাকাটা আমার কৃষি ব্যাংকের একাউন্টে জমা করে হোটেলের রুমে চলে যাই। রুমে যখন প্রবেশ করি তখন গরমে অবস্থা খারাপ। পুনরায় ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। ভেবেছিলাম ঘুম থেকে উঠে প্রয়াত সংগীত পরিচালক বোয়ালখালীর কৃতি সন্তান বাসুদেব ঘোষ দাদার বাসায় গিয়ে ওনাদের সাথে দেখা করে আসবো। কিন্তু পরবর্তীতে সবকিছু গোছাতে গিয়ে আর যাওয়া হয়ে উঠেনি। এতে দাদা কষ্ট পেয়েছিলেন। আসলে যাওয়ার খুব ইচ্ছে ছিল কিন্তু কাজের চাপে আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি। বিকেলের দিকে হোটেলের নিচে এসে কিছু শুকনো খাবার কিনলাম। আর পার্শ্ববর্তী মার্কেট থেকে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনেছিলাম। শুকনো খাবার কেনার পেছনে কারণও ছিল। কারণ আমাদের দেশের মতো বাঙালি খাবার সে দেশে নাও থাকতে পারে। তাই খাবারের সমস্যা হলে এসব খেয়েই দিন কাটিয়ে দিবো এই চিন্তা মাথায় নিয়েই ঢাকা থেকে কিছু খাবার কিনে নিয়েছিলাম।

সন্ধ্যার দিকে বোয়ালখালী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ কড়লডেঙ্গার বাসিন্দা ওসমান গনি ভাই ওনার ভাঙ্গা পা নিয়ে কষ্ট করে আমার সাথে দেখা করতে আসেন। একসাথে নাস্তা করে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে ওনাকে বিদায় দিলাম। হোটেলে গিয়ে এয়ারপোর্টে যাবার প্রস্তুতি নিলাম। রুম ছেড়ে দিয়ে একটা সিএনজি নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। তবে যাত্রা পথের ভোগান্তি ছিল চরমে। ঢাকা শহরের জ্যামের কথা ভুক্তভোগীরা জানেন। জ্যামে আটকা পড়ে অবস্থা খারাপ। ড্রাইভার বললেন, এই জ্যাম রাত ১১ টার আগেও ক্লিয়ার হয় কিনা সন্দেহ আছে। কিছুটা ঘাবড়ে গেলাম। কারণ দশটায় এয়ারপোর্টে উপস্থিত হবার নির্দেশনা ছিল। দেরি হলে যদি কোন সমস্যা হয়! আল্লাহর রহমতে জ্যামে বেশিক্ষণ আটকে থাকতে হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এয়ারপোর্টে পৌঁছে গিয়েছিলাম।…(চলবে)

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট