চট্টগ্রাম রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪

পর্ব-২: ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ত্যাগ

মো. ফারুক ইসলাম

১০ জুন, ২০২০ | ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

৯ তারিখের যাত্রার শিডিউল পরিবর্তন হওয়ায় কিছুটা স্বস্তির মধ্যে ঈদ উদযাপন করলাম। এরপরও উৎকণ্ঠা ছিল কখন অধিদপ্তর থেকে ডাক পড়ে। এদিকে কারো সাথে তেমন যোগাযোগও করতে পারছিলাম না। আমি, সানজিদা আর কামরুন নাহার ম্যাডামের মধ্যে প্রতিদিন কথা চলতে থাকে। কামরুন নাহার ম্যাডাম পরিচিত বিভিন্নজনের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে যাত্রার সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কে আমাদের তথ্য দিতে থাকেন। আমাদের ফিলিপাইন ট্যুরের টিম লিডার ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সম্মানিত উপপরিচালক প্রিয় বাহারুল ইসলাম স্যার। কিন্তু স্যারের সাথে যোগাযোগ করার মতো কোন নম্বর না থাকায় আমাদের ট্রাভেল এজেন্সির জুবায়ের নামে একজনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতাম। তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন যে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমাদের মোবাইলে এসএমএস করে যাত্রার তারিখ জানানো হবে। ১৫ তারিখের পর সানজিদা আজাদের যাত্রার শিডিউল কনফার্মড হলো। সে যাবে মালয়েশিয়া। সানজিদা ঢাকা গিয়ে কি কি কাজ করছিল মেসেঞ্জারে সে সম্পর্কে আমাকে আপডেট দিচ্ছিল। আমাদের তিনজনের মধ্যে সানজিদাই প্রথম ট্যুরে যাত্রা করেছিল। বাকি ছিলাম আমি আর চট্টগ্রাম পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট কামরুন নাহার ম্যাডাম। এবার আমরা অপেক্ষা করতে লাগলাম। ১৮ তারিখ দুপরে মোবাইলে এসএমএস আসলো ২৬ জুন আমাদের ফিলিপাইন যাওয়ার তারিখ চূড়ান্ত। ওইদিন রাত ২টার ফ্লাইটে আমরা ফিলিপাইনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবো। যাবার আগে ২৫ তারিখ সকাল ১০টায় ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে মিটিংয়ে অংশ নিতে হবে। এসএমএস পাওয়ার পর কাজের গতিও বেড়ে গেলো। শপিং করা, ডলার কেনা। এক কথায় ফিলিপাইন ট্যুরের যাবতীয় প্রস্তুতি। ডলারের দায়িত্ব দিয়েছিলাম আলমগীর ভাইয়াকে (আপুর স্বামী)। ভাইয়া ডলারের ব্যবস্থা করে দিলেন। তবে আমার অফিসিয়াল পাসপোর্টের কারণে

ডলারের পরিমাণ পাসপোর্টে উল্লেখ করতে হয়নি। ঢাকা যাবার ট্রেনের টিকিটের দায়িত্ব দিয়েছিলাম বন্ধু ইসমাইলকে। ইসমাইল স্টেশন মাস্টারকে বলে টিকিটের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। চট্টগ্রাম থেকে আমি একজন হওয়ায় কিছুটা মন খারাপও ছিল। এরপরও যেতে যেহেতু হবে পুরোপুরি প্রস্তুতিই নিয়েছিলাম। তবে নিজের প্রথম বিদেশ ভ্রমণটাকে স্মরণীয় করে রাখতে আমার একটা পরিকল্পনা ছিল। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে আমি আমার দেশের একটা পতাকা সঙ্গে করে নিয়ে যাবার ইচ্ছে পোষণ করেছিলাম অনেক আগেই। তাই দেশের একটা পতাকা কিনে ব্যাগে নিয়েছিলাম। তাও আবার হাত ব্যাগে। যাতে প্রয়োজনে যেকোন সময় বের করতে পারি। ২৪ তারিখ রাতের ট্রেনে ঢাকা যাবো। ওইদিন সন্ধ্যায় ছোট ভাই লিটন সহ বিকেলে আমার আপুর বাসায় রওনা দিই। আপুর বাসা থেকে রাতের খাবার খেয়ে রাত ৯টার দিকে বাসা থেকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। সাথে ছিলো আমার ভাইয়া, আপু এবং ছোট ভাই লিটন। তাছাড়া স্টেশনে বন্ধু ইসমাইল এবং আমার কর্মস্থল দক্ষিণ কড়লডেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ইলিয়াস ভাই এবং ওনাদের এলাকার আরো কয়েকজন অপেক্ষা করছিলেন। স্টেশনে পৌঁছে সবার সাথে কুশল বিনিময় করে হালকা নাস্তা করে ওনাদের বিদায় দিলাম। বাকিরা ট্রেন না ছাড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে লাগলো। রাত সাড়ে দশটায় ট্রেন ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবার পূর্বে বন্ধু ইসমাইল, ছোট ভাই লিটন, আপু ও ভাইয়ার কাছ থেকে বিদায় নিলাম। ট্রেন ছুটতে লাগলো ঢাকার উদ্দেশ্যে। এদিকে, ট্রেনে উঠার আগে দেখা হলো বোয়ালখালী পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহজাদা এস. এম মিজানুর রহমান ভাই সহ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের আরো কয়েকজনের সাথে। ওনারাও একই ট্রেনে ঢাকা যাচ্ছিলেন। সে সাথে আরো জানলাম বোয়ালখালী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি ভাইও একই ট্রেনের যাত্রী। সারারাতের জার্নি শেষে সকালে ট্রেন কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছল। ট্রেন থেকে নেমে প্যানেল মেয়র মিজান ভাইদের সাথে দেখা। মিজান ভাই নাছোড়বান্দা। ওনাদের সাথে নিয়ে গেলেন আমাকে। ওনারা আমাদের চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব মোছলেম উদ্দিন আহমদের বাসায় যাচ্ছিলেন। এমপি মহোদয়ের বাসার কাছের রেস্টুরেন্টে সবাই সকালের নাস্তা করলাম। নাস্তা শেষ করে মিজান ভাইদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সিএনজি করে যাত্রা করলাম মিরপুরের দিকে। মিরপুর পৌঁছে প্রথমেই অধিদপ্তরের কাছাকাছি একটা হোটেলে উঠলাম। কারণ সারারাতের ট্রেন ভ্রমণ আর প্রচণ্ড গরমে শরীরের অবস্থা তখন নাজুক। হোটেলের রুমে প্রবেশ করে ফ্রেশ হয়ে ঘণ্টাখানেক ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। মিটিং যেহেতু দশটায় তখনো দশটা বাজতে আড়াই ঘণ্টা বাকি ছিল। (চলবে)

 

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট