
ভারতে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এদিকে কয়েক দফা বৈঠক ও আলোচনার পরও ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসি।
বিসিবি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই পদক্ষেপ খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, এবার টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩০ কোটি ২১ লাখ টাকা) আয়ের সুযোগ হারাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলে আই সিসির বার্ষিক রাজস্বের ভাগ (আইসিসির মোট আয়ের ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ) হিসেবে এই অর্থ আয়ের সুযোগ থাকত।
ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই অবস্থানে তারা অনড় আছেন। যে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
তিনি আরও বলেন, স্বভাবতই, আমরা সবাই চেয়েছি, আমরা যেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারি। কিন্তু আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ভারতে খেলার ক্ষেত্রে, সেই ঝুঁকির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটা কোনো বায়বীয় বিশ্লেষণ বা ধারণা থেকে হয়নি। এটা একটা সত্যিকারের ঘটনা থেকে হয়েছে।
আসিফ নজরুলের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনিও জানিয়েছেন, এখনও বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কাতেই খেলতে চান তারা। এজন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এদিকে বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, নিজেদের অটল অবস্থানের কথা জানিয়ে আবারও আইসিসি বরাবর ই-মেইল করেছে বিসিবি। তাতে অনুরোধ করা হয়েছে, বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবির বিষয়টি যেন আইসিসির স্বাধীন ডিসপিউট রেজোল্যুশন কমিটির কাছে পাঠানো হয়। আইসিসির কোনো বিষয় নিয়ে বিতর্ক উঠলে স্বাধীন আইনজীবীদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি সেটির সুরাহা করে।
পূর্বকোণ/কায়ছার/পারভেজ