চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

শান্তর অনবদ্য সেঞ্চুরিতে স্মরণীয় জয় বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক

১৩ মে, ২০২৩ | ১২:১৯ অপরাহ্ণ

হ্যারি টেক্টরের ১৪০ রানের তাণ্ডবে বাংলাদেশ শিবিরে দুশ্চিন্তা ভর করেছিল। ইংল্যান্ডের চেমসফোর্ডে দারুণ ব্যাটিংয়ে হ্যারি টেক্টরকে সঙ্গ দেন জর্জ ডকরেল, আয়ারল্যান্ড পায় ৩১৯ রানের বড় সংগ্রহ। কিন্তু সেই রানও ৩ বল হাতে রেখে উতরে গেলো তামিম ইকবালের দল। নাজমুল হোসেন শান্তর অবিস্মরণীয় সেঞ্চুরিতে ৩ উইকেটে দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতলো বাংলাদেশ।

 

টস জিতে বোলিংয়ে নামা বাংলাদেশকে প্রথম ওভারেই সাফল্য এনে দেন হাসান মাহমুদ। তার ভেতরে ঢোকা এক বল স্টার্লিংয়ের ব্যাটে লেগে যায় মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে। আম্পায়ার আউট না দেওয়ায় রিভিউ নেয় বাংলাদেশ, শূন্য রানে ফিরতে হয় স্টার্লিংকে। হাসান মাহমুদের হাত ধরেই বাংলাদেশ পায় দ্বিতীয় সাফল্যও।

 

এবার তিনি ফেরান আরেক উদ্বোধনী ব্যাটার স্টিফেন ডোহানিকে। ২১ বলে ১২ রান করা এই ব্যাটার পয়েন্ট অঞ্চলে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর হ্যারি টেক্টরের সঙ্গে ভালো একটা জুটি গড়ে তুলেছিলেন অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবার্নি। ১০৪ বলে তাদের ৯৮ রানের জুটি ভাঙেন শরিফুল ইসলাম।

 

৫৭ বলে ৪২ রান করে তার ওভারে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন আইরিশ অধিনায়ক। মাঝে লরকান টাকারকে শরিফুল ও কার্টিস ক্যাম্পারকে আউট করেন তাইজুল ইসলাম। কিন্তু তখনও ক্রিজের একপাশে ছিলেন হ্যারি টেক্টর। এক পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশের বোলারদের তুলোধোনা শুরু করেন।

 

বড় রান তাড়া করতে নেমে লিটন দাসকে নিয়ে সাবধানী শুরুর চেষ্টা করেন তামিম ইকবাল। চতার্থ ওভারের তৃতীয় বলেই আউট হয়ে যান তামিম। মার্ক অ্যাডায়ারের হাফ ভলিতে মিডউইকেটে ক্যাচ দেন তিনি। ১৩ বল খেলে বাংলাদেশ অধিনায়ক করেন কেবল ৭ রান।

 

এরপর লিটন দাসকে দেখে স্বাচ্ছন্দ্যই মনে হচ্ছিল কিছুটা। কিন্তু ২ চার ও ১ ছক্কার ইনিংসে ২১ বলে ২১ রান করে গ্রাহাম হিউমের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। পরে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ৬১ রানের জুটি গড়ে উঠে নাজমুল হোসেন শান্তর। ২৭ বলে ২৬ রান করে কার্টিস ক্যাম্পারের বলে সাকিব আউট হলে ভেঙে যায় এই জুটি। এরপর ক্রিজে আসেন তাওহীদ হৃদয়।

 

শান্তর সঙ্গে তার জুটি জমে ওঠে বেশ। দুজন মিলে মারতে শুরু করেন। খেলছিলেন দুর্দান্ত সব শটও। হৃদয়ের কবজির ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মতো। জর্জ ডকরেলের বল তুলে মারতে গিয়ে আউট হন তিনি। ততক্ষণে ১০২ বলে ১৩১ রানের দারুণ এক জুটি হয়ে গেছে। ৫ চার ও ৩ ছক্কার দারুণ ইনিংসে ৫৮ বলে ৬৮ রান করেন হৃদয়।

 

তার আগে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। শান্তকে ফিরতে হয়েছে কার্টিস ক্যাম্পারের শর্ট বলে, ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে। ১২ চার ও ৩ ছক্কায় ৯৩ বলে ১১৭ রান করেন শান্ত। একসঙ্গে দুই সেট ব্যাটারকে হারিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়ে যায় বাংলাদেশ, সেটি আরও বাড়ে মেহেদী হাসান মিরাজের বিদায়ে। ৩ চারে ১২ বলে ১৯ রান করে জর্জ ডকরেলের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি।

 

এরপর দলের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম। তিনি অবশ্য রান নাগালের ভেতর রাখতে তাইজুল ইসলামকে নিয়মিতই স্ট্রাইক দিয়ে যাচ্ছিলেন। ৪৪তম ওভারে তাইজুল আউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে এসে প্রথম বলেই চার হাঁকান শরিফুল। শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় পাঁচ রানের। এর মধ্যে তৈরি হয় নতুন নাটকীয়তা। মার্ক অ্যাডায়ারের প্রথম দুই বল ডট খেলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু তৃতীয় বলটি তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন তিনি। তবে রিপ্লে দেখে আম্পায়াররা সেটিকে নো বল ঘোষণা করেন। ফ্রি হিটের বলে চার মেরে ম্যাচ শেষ করেন মুশফিক। তিন ম্যাচ সিরিজের দুই ম্যাচ শেষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। একই ভেন্যুতে আগামী রবিবার তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট