চট্টগ্রাম শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

ভারত, অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড নিশ্চিত শেষ চারে ?

বৃষ্টিই আঁধার তবে একমাত্র নয়

স্পোর্টস ডেস্ক

১৫ জুন, ২০১৯ | ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে একটি দলই শিরোপা জিতবে। যদি না আবার বৃষ্টির কারণে রির্জাভ ডে’র পরও খেলা অনুষ্ঠিত হতে না পারে। কিন্তু আসিসি যে কারণে এবারের আসরকে গ্রুপ ভিত্তিক না করে লিগ ফরম্যাটে সাজিয়েছে সেটা কি সত্যিই কোন কাজে আসলো, বৃষ্টি কি সবার চাওয়াকে বাস্তবে রুপ দিতে পেরেছে? বাস্তবিক অর্থে জবাবটি হলো, না। কারণ শেষ চারের পথ অনেক দূরের হলেও সেমির চারটি দল কি এখনই আন্দাজ করে নেয়া যায় না, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। পয়েন্ট তালিকা দেখুন, অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেটে নিশ্চিতভাবে অভাবনীয় কিছু না ঘটলে এই চারটি দলেরই সেমিফাইনাল খেলা অনেকটাই নিশ্চিত। তাহলে বাংলাদেশের ভাগ্যে কি থাকছে। যদি, কিন্তুর দিকে তাকিয়ে থাকা এবং বৃষ্টির মাঝে আধার পেরিয়ে মাঠে নিজেদের কাজটুকু করে রাখা। বিশেষ করে পরশু ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচটি বৃষ্টির পেটে চলে যাওয়াতেই মন্দ ভাগ্য আরও মন্দের দিকে গেছে টাইগারদের। পরশু নটিংহ্যামের ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ায় নিউজিল্যান্ড পেয়ে যায় এক পয়েন্ট। তাতে বাংলাদেশের ক্ষতিটা ব্যাখা করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক এভাবে, কি! ক্ষতিটা যে কি, খানিকপর ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝালেন তিনি। ভারত, অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে ধরেই রেখেছেন মাশরাফি। চার নম্বর জায়গা নিতে হলে তাই নিউজিল্যান্ডে ঠেলে সরাতে হয়। কিন্তু সহজ তিন ম্যাচ থেকে ছয় পয়েন্টের সঙ্গে বৃষ্টিতে ওরা পরশু আরেক পয়েন্ট পেয়ে গেল। সেমির চার জায়গা তো তবে পাকা। পয়েন্ট তালিকায় আছেও সবার উপরে। এই পর্যন্ত যা খেলা হয়েছে তাতে বিশ্বকাপের সব হিসাব নিকাশ যেন এলোমেলো করে দিয়েছে বৃষ্টি। বৃষ্টি কারো কাছে পয়েন্ট পাওয়ার ম্যাচ, কারো কাছে পয়েন্ট হারানোর ম্যাচ, কারো কাছে হিসাব এলোমেলো করে দেওয়ার। ভারতের সঙ্গে খেললে নিউজিল্যান্ডও জিততেই পারত। কিন্তু সাদামাটা হিসেবে ভারতের পাল্লাই ভারি ছিল। নিউজিল্যান্ড প্রথম তিন ম্যাচ জিতলেও প্রতিপক্ষ ছিল তুলনামূলক সহজ শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান আর বাংলাদেশ। অর্থাৎ কিউইদের সামনে এখন থেকে কঠিন প্রতিপক্ষ। বৃষ্টি সেখানেই তাদের সুবিধা করে দিল কিনা চিন্তায় বাংলাদেশ অধিনায়ক। নিউজিল্যান্ডের ঠিক উল্টো পরিস্থিতি বাংলাদেশের। প্রথম তিন ম্যাচের প্রতিপক্ষ ছিল কঠিন। তাতে এক ম্যাচ জেতা, আরেক ম্যাচে কিউইদের কাছেই লড়াই জমিয়েও তালগোল পাকিয়ে হার, অন্য ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে উড়ে যাওয়া। ঠিক চতুর্থ ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের জন্য বেশ সহজ। অথচ ব্রিস্টলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ম্যাচটাই কেড়ে নিয়েছে বৃষ্টি। খেলা হলেই জেতার নিশ্চয়তা ছিল না বটে, তবে নিজেদের শক্তি, সামর্থ্য বিচার করে শ্রীলঙ্কা ম্যাচটাকে তাই বাংলাদেশ দেখছে পয়েন্ট খোয়ানোর ম্যাচ হিসেবে। সেই ধরে নেওয়া পয়েন্ট খুইয়ে ক্রিকেটারদের মনমরা ভাবটা যেন যাচ্ছে না। বড় টুর্নামেন্টের মাঝে দু’দিন ছুটি পেয়ে সবাই ঘুরছেন ফিরছেন, কিন্তু কোথায় যেন বিধে আছে অস্বস্তির কাটা। ‘ওই পয়েন্ট হারানোটাই সর্বনাশ করে দিল। তাও সমস্যা হতো না’, এই কথা বলার পর মাশরাফি ফিরে গেলেন নিউজিল্যান্ডে ম্যাচে। খামতিগুলো কোথায় ছিল? কেন উইলিয়ামসনকে মুশফিকুর রহিমের রান আউট করতে না পারা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। টুর্নামেন্টে প্রত্যাশা পূরণ না হলে কথা হয়ত আরও হবে। কিন্তু বাংলাদেশ অধিনায়কের কথায় মনে হলো, সেদিন উইকেট পড়তেও ভুল করেছিলেন তারা। ‘ওটা কোনভাবেই সাড়ে তিনশো বা তিনশো রানেরও উইকেট ছিল না।’ দল সূত্রে জানা যায়, টিম ম্যানেজমেন্টের সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই বড় রান পাওয়ার দিকে ছুটে ব্যাট চালায় বাংলাদেশ। যাতে ঠিক সায় ছিল না অধিনায়কের। মোহাম্মদ মিথুন যেমন দলের চাহিদা মেটাতে গিয়েই নিজেকে কোরবানি দিয়ে আসেন। মারা যাচ্ছে না, এক-দুই নিয়ে আগানো যেত। কিন্তু দলের ঠিক করা চাহিদা তাতে মিটত না। এমন তালগোল পাকিয়েই ৪ বল আগে আড়াইশোর নিচে আটকে যায় দৌড়। তবু লড়াই হয়েছে শেষ পর্যন্ত। ওই ম্যাচ যদি বাংলাদেশ ২৭০-৮০ রানের জন্য খেলত তাহলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত বলে আফসোস ঝরছে। অনেক মাঠ ঘুরে এই প্রথম সামারসেটের টনটনে বাংলাদেশ। এর আগে বাংলাদেশের আর কোন দলও টনটনে খেলেনি। মেগাসিটি লন্ডন তো বটেই। ১৭ জুনের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটা এখন বাঁচা-মরার। টনটনের ছোট মাঠ, ক্যারিবিয়ানদের বিগ হিটার আর মাঠের আকৃতির কারণে দলে স্পিন শক্তির কার্যকারিতা ভাবাচ্ছে খুব। তবে ছোট মাঠে একটা সুবিধাও দেখছেন মাশরাফি, আন্দ্রে রাসেলদের ছক্কা পেটাতে তো মাঠ ছোট হওয়া লাগে না। যেকোনো মাঠেই তারা অনায়াসে ছক্কা পেটান। মাঠ ছোট হলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদেরও ছক্কা পাওয়ার আশা থাকছে বেশি। শ্রীলঙ্কার মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজও তো বাংলাদেশের তাক করা একটা টার্গেট। এই টার্গেট কোনভাবেই মিস হতে দিতে চায় না বাংলাদেশ। কিন্তু শুরুতেই যে বলা, বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা মনের জোরটা পাবেন কিভাবে। অনেক আগেই যদি শেষ চার প্রায় নিশ্চিত দেখা যায়, নিজেদের নামটি সেখানে সম্ভাবনার শেষ সুতোয়ও দেখা না মিললে মানসিক জোর যে আর থাকে না। বৃষ্টিটা আসলেই সর্বনাশ করে দিল টাইগারদের। এখন শুধু অপরের মন্দ ভাগ্য প্রার্থনা করা ছাড়া করার আর কিইবা আছে। অবশ্য সামান্য আশার আলোও কাজে লাগাতে হলে টাইগারদের পরের ম্যাচগুলোতে জিততে হবে। উইন্ডিজের বিরুদ্ধে খারাপ কিছু বৃষ্টির আঁধারকে ছাপিয়ে যাবে।

শেয়ার করুন