চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪

ইংল্যান্ডকে হারাতে প্রস্তুত টাইগাররা

আজ দু’দলের প্রতিপক্ষ হতে পারে বৃষ্টি

স্পোর্টস ডেস্ক

৮ জুন, ২০১৯ | ২:৩২ পূর্বাহ্ণ

ক্রিকেটের বিশ^যুদ্ধে আজ সম্মুখ সমরে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট শিরোপা প্রত্যাশী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। দুই দলই টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। তবে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ১৪ রানে হারে ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডের কাছে ২ উইকেটে হারে বাংলাদেশ। তাই আজ জয়ে ফিরতে বদ্ধপরিকর মাশরাফি মর্তুজা ও ইয়ান মরগান বাহিনী। কার্ডিফে বিকাল সাড়ে তিনটায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল এখন বিশ্বসেরা তকমা পাওয়া দল। এবারের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরুর অনেক আগে থেকেই সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নের তালিকায় এক নম্বরে ইংল্যান্ডের নাম। অন্যদিকে ওয়ানডে ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে টাইগাররা। বিশ^কাপের প্রথম ম্যাচেই তার প্রমাণ রেখেছে তারা। অন্যদিকে মাশরাফিদের মূল লক্ষ্য ‘ম্যাচ-বাই-ম্যাচ’ ভেবে সেমিফাইনালের পথে হাঁটা। তবে সোফিয়া গার্ডেনে আজ দুই দলের প্রতিপক্ষ হতে পারে বৃষ্টি। গতকাল সকাল থেকেই শুরু হয় বৃষ্টি। সময় গড়ানোর সাথে বেড়েছে বৃষ্টির বৈরী আচরণও।
আর বৃষ্টির কারণে খোলা মাঠে অনুশীলন করা হয়নি টাইগারদের। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের ভক্তদের জন্য আরও খারাপ খবর অপেক্ষা করছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসও ভালো না। আবহাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী ম্যাচের দিনও কার্ডিফে সারাদিন ভারী বর্ষণ আর বাতাসের বেগ থাকবে বলে জানা গেছে। এরকম হলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি ভেস্তে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে পয়েন্ট ভাগাভাগি নিয়েই সন্তুষ্ঠ থাকতে হবে দুই দলকে। তবে পয়েন্ট নয়, মাঠে খেলে জয় তুলে নিতে চায় টাইগাররা।
এ ম্যাচের ভেন্যুর ইতিহাসও বাংলাদেশের পক্ষেই। কার্ডিফ মানেই বাংলাদেশের জয়। ২০০৫ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে এ কার্ডিফের মাঠে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালের জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে দুই জয় অর্থাৎ কার্ডিফে বাংলাদেশের জয়ের হার শতভাগ। আজ কার্ডিফে ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যকার ম্যাচটি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই দলের চতুর্থ ম্যাচ। এর আগে তিনবার দেখা হয় দুই দলের। যার মধ্যে দু’বার জয় বাংলাদেশের, একবার ইংল্যান্ডের। ২০০৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড বাংলাদেশকে চার উইকেটে হারালেও ২০১১ সালে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ইংল্যান্ডকে হারায় দুই উইকেটে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপেও ১৫ রানে হেরে যায় ইংল্যান্ড। সর্বশেষ ছয় ম্যাচে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড জিতেছে সমান সমান দুই দলেরই তিনটি করে জয়।
আজকের ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ভরসা রাখতে পারেন দুই অধিনায়কই। বিশ^কাপের আগে থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে আছেন জস বাটলার ও জো রুটরা। অন্যদিকে পিছিয়ে নেই সাকিব-সৌম্যরাও। পেস বোলিংয়ে মুস্তাফিজ একাই ধসিয়ে দিতে পারে বিশে^র যে কোন ব্যাটিং লাইনআপ। সাথে মাশরাফি সাইফুদ্দিনরাও ভালো খেলছেন। ইংল্যান্ডের পেস বোলিংয়ের মূল অস্ত্র লিয়াম প্লাঙ্কেট কিংবা জোফরা আর্চার, বিপিএলের সুবাদে এরা সবাই টাইগারদের কাছে বেশ পরিচিত মুখ। ২০১৭ সালের বিপিএলে খুলনা টাইটান্সের হয়ে খেলেছেন তিনি। তামিম মুশফিকদের তাই তাদের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে সমস্যা হওয়ার কথা না। স্পিনে মঈন আলী ও আদিল রশিদদের বিপরীতে ভালোই জবাব দিতে পারবেন সাকিব-মিরাজরা। এছাড়া বিশ^কাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগের দুই জয়ী ম্যাচের নায়ক মাহমুদউল্লাহ আছেন দলে। ২০১১ সালে চট্টগ্রামে ম্যাচ সেরা না হলেও ব্যাট হাতে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছিলেন মাহামুদউল্লাহ। ২০১৫ সাথে এডিলেডে আবারো তার দুর্দান্ত শতকে পরাজিত হয়েছিল ইংল্যান্ড। এবারও ইংল্যান্ড বধে সবার নজর থাকবে মাহমুদউল্লাহর ওপর।
গতকাল মাঠের অনুশীলন না করলেও ইংলিশ বধের রণকৌশল সাজিয়ে রেখেছেন স্টিভ রোডস। বিশ্বকাপে ১০ দলের মধ্যে তিনিই একমাত্র ইংলিশ হেড কোচ। আবার কোচ হিসেবেও এটাই তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ। আর সেটাও ইংল্যান্ডের মাটিতেই। নিজের দেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগে টাইগারদের এ কোচ বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার অনুভূতি আমি এখনো জানি না। তারা হট ফেবারিট। আর আমি আন্ডারডগ থাকতেই পছন্দ করি। হারানোর কিছু নেই। আবার যদি জিতে যাই তাহলে সেটা বড় দলের কাছ থেকে কোন কিছু ছিনতাই করে নেয়ার মতো ব্যাপার’। তিনি যোগ করেন, ‘দেখুন আমি আপাদমস্তক ইংলিশ হলেও বাংলাদেশের হয়ে তাদের হারাতে চাইবো’।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট