চট্টগ্রাম সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

৫ মে, ২০১৯ | ১:২৮ পূর্বাহ্ণ

মো. দেলোয়ার হোসেন

চন্দনাইশে সুস্বাদু পুষ্টিকর বাঙ্গি

অল্প খরচে বেশি উৎপাদন

চন্দনাইশ উপজেলার চর-বরমার শঙ্খ নদীর তীরবর্তী এলাকায় দিগন্ত জোড়া সবুজ-হলুদের সংমিশ্রণে বৈশাখের বাহারী মৌসুমী ফল বাঙ্গির সমারোহ। প্রায় সাড়ে ৩ মাস পরিচর্যার পর মাঠে মাঠে এখন চলছে বাঙ্গি ফল তোলার উৎসব। দাম ভাল থাকায় চাষীদের চোখে-মুখে এখন হাসির ঝিলিক।
অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টি সমৃদ্ধ মৌসুমী ফল বাঙ্গির চাহিদা রয়েছেও প্রচুর। অল্প সময় ও কম খরচে ভাল লাভ হওয়ায় বাঙ্গি চাষের দিকে ঝুঁকছেন এলাকার কৃষকেরা। অন্য মৌসুমী সবজির সাথে ‘সাথী ফসল’ হিসেবে সহজে বাঙ্গির চাষ করা সম্ভব হওয়ায় কৃষকদের মাঝে আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আমন ধান কাটার পর জমি যখন পতিত পড়ে থাকে ও কৃষকদের হাতে কোন কাজ থাকে না ঠিক তখনই বাঙ্গির চাষ করা হয়। এ কারণে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে কৃষকেরা। চন্দনাইশের বাজারে এখন পুরোদমে বাঙ্গি চর-বরমাসহ শঙ্খ নদীর তীরবর্তী এলাকায় উৎপাদিত বাঙ্গি আসতে শুরু করেছে।
যেসব কৃষক অধিক লাভের আশায় আগাম চাষ করেছে তারা ইতোমধ্যে বাঙ্গি বিক্রি শেষ করেছে। তারা বাঙ্গি বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাঙ্গির সুমিষ্ট ঘ্রাণ ক্রেতাদের কাছে টানছে। এসব বাঙ্গির দামও তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় চাষীরাও মহাখুশি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র মতে, উপজেলার চর-বরমা, বরমা, বৈলতলী, দোহাজারী, চাগাচরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাঙ্গি চাষ হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চর-বরমা, বরমা, বৈলতলী, দোহাজারী, চাগাচরসহ শঙ্খ নদীর তীরবর্তী এলাকার মাঠ জুড়ে বাঙ্গি চাষ করা হয়েছে। কিছু জমিতে শুধুমাত্র বাঙ্গি চাষ করা হয়েছে।
রাতে বাঙ্গি পাহারা দেয়ার জন্য ক্ষেতের মাঝখানে তৈরি করা হয়েছে ছোট টং ঘর। ক্ষেতে মাটির ওপর ছড়িয়ে রয়েছে বাঙ্গির সবুজ লতা-পাতা। এসব লতা-পাতার ফাঁকে ফাঁকে শোভা পাচ্ছে ছোট বড় অসংখ্য বাঙ্গি। পুরো ক্ষেত জুড়ে হলুদ রঙের পাকা, সবুজ রঙের কাঁচা বাঙ্গি আর ফুলে দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। ক্ষেতের পাশ দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় বাতাসে মিলবে পাকা বাঙ্গির সুঘ্রাণ।
দেখতে সুন্দর ও সাইজে বড় বাঙ্গি প্রতিটি ৮০-১০০ টাকা, মাঝারি ও ছোট সাইজের বাঙ্গি প্রতিটি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সমগ্র চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাট-বাজারে এখানকার বাঙ্গির আলাদা সুনাম রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রাণী সরকার জানান, উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় বাঙ্গি চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে চর-বরমা, বরমা, বৈলতলী, দোহাজারী ও চাগাচর এলাকার কৃষকেরা বাঙ্গি চাষ করেছেন। উপজেলার কয়েকটি এলাকার মাটি বাঙ্গি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। বাঙ্গি চাষীদেরকে কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়।
দেহের ওজন কমাতে ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে বাঙ্গির ভূমিকা অপরিহার্য। বাঙ্গিতে রয়েছে উচ্চমাত্রার বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন সি, প্রচুর পরিমাণ পানি; যা গরমে শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট