চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪

সর্বশেষ:

আমেরিকা নামের সোনার হরিণ

শাহজিয়া হক

৭ জুন, ২০২৪ | ৬:০৩ অপরাহ্ণ

অনেকে ভাবে যে আমেরিকার লাইফ তো শুধু টাকা আর টাকা। টাকার ছড়াছড়ি। কত আনন্দ। যারা এখানে থাকেন তাদের কোন কষ্ট নাই, তেমন দুঃখ ও নাই। চারিদিকে শুধু সুখ আর সুখ। হ্যাঁ কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য তো আছেই। কিন্তু আমার ভাই ও বোনেরা আমি আমার জীবনের বেশিরভাগ সময় এদেশে কাটিয়েছি। এখানে কাজ আর কাজ ছাড়া কোন কথা নাই। অনেকটা মেশিনের মতো জীবন। সবাই বেশিরভাগ মানুষই ৬ থেকে ৭ দিন কাজ করে। একদিন ছুটি পায়। সেই দিনের জন্য আমরা সবাই অপেক্ষা করি। শনি ও রবিবার ২ দিন ছুটি কাটানো বা বাইরে ঘুরতে যাওয়া অনেক কম লোকের পক্ষেই সম্ভব। যারা পারেন তারা ভাগ্যবান। এদেশে অবকাঠামো এমনভাবে তৈরি- আপনি কাজ না করে পারবেন না। কলুর বলদের মতো খাটনি। বাসার বিল, গাড়ির বিল, নিজের পরিবার এবং সংসার জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ ছাড়াও অন্যান্য কিছু এক্সট্রা খরচ সবাই করি। দেশে যেমন- পেঁয়াজ, আলু আর কাঁচা মরিচের দাম কত সেটা নিয়ে সবাই টেনশনে পরে যায়। এখানে লেটেস্ট ফোন , কম্পিউটার, গাড়ি, বাড়ি, জামা কাপড়, অন্যদের দেখাদেখি আপনি না কিনে পারবেন না। অনেকটা কম্পিটিশনের মতো। মানুষ কিনতে না পারলে টেনশনে পরে যায়। আর এইসব দামী জিনিসগুলোর পেমেন্ট দিতে গিয়ে কাজ করতে করতে জীবন শেষ। আবার অনেকে দেশে পরিবার বা আত্মীয়-স্বজনদের টাকা পাঠান- সেটা তো আছেই। আর এই কাজ করতে গিয়ে স্বামী-স্ত্রী এবং পরিবারের সন্তানদের দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় হাতে থাকে না কারোই। তাই দেশের মতো এইখানে পারিবারিক বন্ধনটা অতটা মজবুত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বাবা-মাকেও সন্তানরা সময় দিতে পারে না। সবাই চরকির মতো ঘুরছে একই চক্করে। দেশেও মানুষ কাজ করে। কিন্তু এখানে বহুগুণ বেশি কাজ করতে হয়। অন্যকে দেওয়ার মতো সময় সবারই খুবই কম থাকে। জীবনের সময়গুলো এভাবেই চলে যায় অতিদ্রুত। তাই বুঝলাম জীবনে সব কিছু পাওয়া যায় না। একটা পেলে আরেকটা হারাতে হয়। এটাই মনে হয় পৃথিবীর নিয়ম । মাঝে মাঝে মনে হয় সোনার হরিণের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে আমরা সবাই ক্লান্ত। দেশের মতো একটি গাছের ছায়া দরকার। যেখানে বসলে মনটা শীতল হয়ে যাবে- সেখানে আর কিছু থাকুন বা না থাকুক মানুষের কথা বলার সময় আছে, বেঁচে আছি কি- মরে গেছি খোঁজখবর নেওয়ার সময় আছে। সেই সময়টা এখানে কারো নেই।

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট