চট্টগ্রাম রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪

সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমেই ভয়াবহ তাপপ্রবাহ থেকে মুক্তি সম্ভব

মিতা পোদ্দার

২৫ মে, ২০২৪ | ২:২৯ অপরাহ্ণ

তীব্র গরম ও আর্দ্রতা মোটামোটি সবার কাছেই অস্বস্তিকর। তবে গবেষণা বলছে, এই ধরনের পরিস্থিতি শুধু শারীরিক নয়, মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রেও ক্ষতিকর হতে পারে। অত্যধিক তাপমাত্রা মন ও মেজাজকে প্রভাবিত করতে পারে। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপদাহ, দাবানল ও আবহাওয়া-সম্পর্কিত বিভিন্ন ঘটনাগুলোর পরিমাণ ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর এর বিরূপ প্রভাবও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রীষ্মের উষ্ণতম দিনগুলোয় মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য বছরের শীতলতম দিনগুলোর তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেশি মানুষ জরুরি বিভাগে গমন করেন। জরুরি বিভাগে গমনের কারণগুলোর মধ্যে ছিল, উদ্বেগ, স্ট্রেস, খারাপ মেজাজ, সিজোফ্রেনিয়া, সেলফ-হার্ম, বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যা। যেগুলো তাপমাত্রার অনুপাতে ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে।
তাপ মস্তিষ্কের সংকেত আদান-প্রদানে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া তাপ মস্তিষ্কে প্রদাহের কারণও হতে পারে। তীব্র তাপদাহের মধ্যে, নিজেকে সবসময় রক্ষা করাও বেশ কঠিন। যাদের নিয়মিত বাইরে চলাফেরা করতে হয় তাদের ক্ষেত্রে তো এর ভয়াবহতা আরো ব্যাপক।বিশেষ করে স্কুলমুখী শিক্ষার্থীদের জন্য তীব্র তাপমাত্রা শরীর ও মনের উপর অধিক মাত্রায় চাপ সৃষ্টি করে। আর এই চাপের কারণে তাদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক সমস্যা তৈরি হয় এবং এক পর্যায়ে এইসব শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। গরমের রাতগুলো ঘুমের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করে এবং আমরা মনোবিজ্ঞান ও মনোরোগবিদ্যার একটি বৃহৎ অংশ থেকে জানতে পারি, অপর্যাপ্ত ঘুম, ঘুমের অসুবিধা ও অনিদ্রা সময়ের সঙ্গে খারাপ মানসিক স্বাস্থ্য খুব ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন- তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক হয়। ডায়রিয়াতে আক্রান্ত হয় মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এ সময়টা খুবই শঙ্কার। চর্মরোগ, খিঁচুনি, ক্লান্তিবোধ, মাথাঘোরা, মাথাব্যথা, নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। সাধারণত মে ও জুনে গরমের তাপমাত্রা তীব্র থেকে আরও তীব্র হয়। এ সময় হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া,পানিবাহিত রোগ, জন্ডিস, টাইফয়েড, পেটের সমস্যাতে অনেকেই আক্রান্ত হয়। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। গবেষণায় বলা হয়ে থাকে তাপমাত্রা বাড়লে ‘সোয়েটিং’ হয়। তখন ব্রেইনের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায় আর এর প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে।’

তীব্র দাবদাহ শুধু মানুষের জন্যই ক্ষতিকর নয়, এটি কৃষিক্ষেত্রেও বিরাট বিপর্যয় ডেকে আনে।
তাপমাত্রা বাড়ায় মানুষ তিনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এর সবগুলোই শেষ পর্যন্ত অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।

‘মানুষ অসুস্থ হয়, মানসিকভাবে বিক্ষিপ্ত ও ক্লান্ত থাকে। সে কাজে অনুপস্থিত থাকে। কাজে এলেও তার কার্যক্ষমতা পুরোটা কাজে লাগাতে পারেন না। আর শেষ পর্যন্ত অনেকেই হিটস্ট্রোকসহ অন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এতে তার পুরো পরিবার অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়ে।’

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে দেশের পরিবহন খাতেও। আরামদায়ক ভ্রমণ আর ক্লান্তি এড়াতে এখন স্বল্প দূরত্বের এসি আর বিলাসবহুল পরিবহন বেছে নিচ্ছেন যাত্রীরা।গ্রীষ্মের গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়া যা অনেকের স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলে এসব সমস্যা এড়ানো সম্ভব।বছরের অন্য সময়ের তুলনায় গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা থাকে অত্যধিক। এ সময় শরীরের মূল তাপমাত্রা স্বাভাবিক সীমায় রাখার জন্য শরীর অতিরিক্ত ঘামের মাধ্যমে তাপ নির্গত করে। যার ফলে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যাওয়ায় শরীরে তরলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যাকে আমরা পানিস্বল্পতা বা ডিহাইড্রেশন বলি। পানিস্বল্পতার লক্ষণগুলো হলো- সব সময় তৃষ্ণার্ত অনুভব করা, অল্প এবং গাঢ় আভাযুক্ত প্রস্রাব, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, মাথা শূন্যভাব ও দিশেহারা ভাব। নিয়মিত বিরতিতে প্রচুর পানি পান করে আমরা এ সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করতে পারি। কচি ডাবের পানি, লবণ পানির শরবত বা লাচ্চি পান করা যেতে পারে। তরমুজ, আঙুর, পেঁপে বা আমের মতো অনেক পানিযুক্ত ফল খাওয়া উচিত, যাতে শরীরের পানিশূন্যতা পূরণ হয়।

একমাত্র গণসচেতনতাই পারে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে। তাই আসুন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবাই মিলে সুষ্ঠু পদক্ষেপ গ্রহণ করি।

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট