চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪

তোমাকে ভালোবাসি মা

অনলাইন ডেস্ক

১৩ মে, ২০২৪ | ৭:০৯ অপরাহ্ণ

মা স্বর্গীয় সম্পদ
মোহাম্মদ শাহজাহান

মা হচ্ছেন একজন পূর্ণাঙ্গ নারী, যিনি গর্ভধারণ, সন্তানের জন্ম তথা সন্তানকে বড় করে তোলেন, আবার তিনিই অভিভাবকের ভূমিকা পালনে সক্ষম ও মা হিসেবে সর্বত্র পরিচিত। তাই মা যে কত বড় অমূল্য সম্পদ, তা না জানার কারণেই যতসব ভ্রান্তি আর ভুলেভরা আমাদের এই জগৎ সংসার। অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত থেকে আমরা অনেকেই বৃদ্ধ মায়ের প্রতি অন্যায় আচরণ করে থাকি।

সব মা চান সন্তানের মঙ্গল। এখানে সন্তানের খাবার, ঘুম, জ্বর-সর্দি নিয়েই মায়ের যতো ভাবনা। কিন্তু সেই সন্তান যখন বড় হতে থাকে, তখন ভাবনা-চিন্তার ডালপালা অনেকখানি বড় হয়ে যায়। সে স্কুলে কাদের সঙ্গে মিশছে? বন্ধুরা কেমন? সে আবার নেশার খপ্পরে পড়ছে কি না? বন্ধুদের সঙ্গে তাকে ঘুরতে যেতে দেওয়া ঠিক কি না, এমনি নানান জিজ্ঞাসা মায়ের মনে উঁকি দেয়। এভাবে সন্তানের জন্মলাভ করার পর মানবসন্তানকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মা যে কতো কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করেন, পৃথিবীর কোনো কিছু দিয়ে তার পরিমাপ করা যায় না। প্রতি মুহূর্তে সন্তানের পরিচর্যায় মা-কে গলদঘর্ম হতে হয়। সন্তানের অসুস্থতায় মায়ের নির্ঘুম রাত কাটে। এত কষ্টের পরও মায়ের সঙ্গে সন্তানের থাকে স্বর্গীয় একটি সম্পর্ক।

মা’কে কাছে পেয়ে যে সন্তান বেহেশত কিনে নিতে পারলো না, তার চেয়ে পৃথিবীতে হতভাগা কেউ নেই। অর্থাৎ মায়ের মনে কষ্ট না দেয়া, মাকে খুশি করা, সন্তুষ্ট রাখাই সন্তানের প্রথম এবং প্রধান কাজ। বড়ই পরিতাপের বিষয় যে, মায়ের নিঃস্বার্থ ত্যাগে, মায়ের আদর-যত্নে বড় হয়ে আমরা নিজের জীবন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অধিক ব্যস্ত হয়ে পড়ি। যার অপরিমেয় সেবায় নিজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলাম, ভালোমন্দ বুঝতে শিখলাম, তাঁর ভালো-মন্দ, তাঁর সুবিধা- অসুবিধা আমাদের বিবেচনায় তেমনভাবে ঠাঁই পায় না। যেখানে মা নিজের সুখ-শান্তি, আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে সন্তানের যত্নে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। মায়ের স্নেহ-মায়া-মমতা-ভালোবাসার কোনো তুলনা হয় না। সন্তানের কল্যাণে একমাত্র মা-ই নিজের জীবন বলিদানে প্রস্তুত থাকেন। তাই মায়ের শ্রেষ্ঠত্ব অমর, অক্ষয়।

লেখক : ব্যাংকার ও প্রাবন্ধিক

 

 

মাকে এক নজরে দেখলে পৃথিবীর সব ভুলে যাই

সাজ্জাদ হোসেন সিবলু

মাকে ভালোবাসার জন্য কোন দিবসের প্রয়োজন হয় না, কারণ মা প্রত্যেকটা সন্তানের নিঃশ্বাসের সাথে সম্পৃক্ত। নিজে খেয়ে সন্তানদের খাওয়াতে পারলেই যার খাওয়া হয়ে যায় এই রকম অনুভূতি পৃথিবীতে শুধু মা ছাড়া আর কারো কাছে নেই। সন্তানের সুখেই যার সুখ, সন্তানের কষ্টেই যার কষ্ট, সন্তানের জন্য নামাজের জায়নামাজে বসে খোদার কাছে দুই হাত তুলে কান্নাকাটি করেন যিনি ন্তানদের মঙ্গল ভিক্ষা চান তিনিই মা।

তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, আমরা দুষ্টামির ছলে শয়তানের প্ররোচনায় সবসময় অন্যের মা’কে নিয়ে গালি দেই এবং মা’দিবসে নিজের মা’কে নিয়ে ভালোবাসার স্ট্যাটাস দেই।আজকের এই বিশেষ দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক, আসুন নিজের মা’সহ বিশ্বের সকল মা’কে ভালোবাসি এবং অন্যের মা’কে গালি দেওয়া বন্ধ করি।

লেখক: আইনজীবী

 

মা যে আমার নয়ন মনি,
মা যে আমার আলো,
মা না থাকিলে আমার
হয়তো জীবনে আসবে কালো

সফিউল ইসলাম

“মা” এক মধুজড়িত শব্দ,যতই ডাকি উত্তপ্ত গ্রীষ্মের প্রখর রোদে তাপে পানির তৃষ্ণার মতো তৃষ্ণা মেটে না। মায়ের ঋণের কথা বললে তবে কি হবে শেষ। আমার মায়ের কথাই বলি একটু, বাবা অসুস্থ দীর্ঘ তেরোটি বছর, মা বাবার সেবার পাশাপাশি আগলে রেখেছে আমাদের চার ভাই বোনকে। লেখা পড়ার খরচ জোগাতে পরিবারের ব্যস্ত সময়ের পরও রাতের আঁধারে নিভু নিভু আলো জ্বেলে বানিয়েছেন গৃহস্থালি কাজের অনেক পণ্য, যা সাপ্তাহিক বাজারের দিন এক জোড় করে নিয়ে যান বাজারে, নিজের কাঁধে বয়ে তা বিক্রি করে যা যা জরুরি প্রয়োজন তা নিয়ে বাকিটা শাড়ির আঁচলে বেঁধে আবার হেঁটে আসতেন বাড়িতে, সকালে উঠেই নামাজ শেষে কোলে করে নিয়ে যেতেন মক্তবে, আবার ছুটির সময় হওয়ার আগেই পৌঁছে যেতেন।

 

সবাই তো বলে জন্মদানের কষ্টের কথা, সেই কথা বলতে গেলে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে, যেই দিন আমার জন্য হয়, জন্মের আগে মায়ের কানে ভেসে আসলো হাসপাতালের কেবিনে, ডাক্তার বলতেছিলো আমার পরিবারে লোকজনকে, রোগীর যে কন্ডিশন,সেই বিবেচনায় আমরা একজনকে বাঁচাতে পারবো। মা আমার ভিতর থেকে ডেকে বলেছিলেন সেদিন, আমার বাঁচার দরকার নেই, অনেক দিন তো আমি বেঁচেছিলাম, আমার মনিক ধনটা তো পৃথিবীর আলো এখনো দেখতে পাইনি, তাঁকে দুনিয়ার আলো দেখান। সেই দিন মা রক্তাক্ত হয়ে জন্ম দিলেন আমাকে, অবশেষে আল্লাহর রহমতে মা বাচ্চা দুইজনই বাঁচলাম।

 

কিন্তু মায়ের কষ্ট তো বেড়ে গেছে, ডাক্তার বলে দিয়েছে, ভারী কোনো কাজ মায়ের দারা হবে না। এই দিকে আমার দাদু মারা যান, কিছু দিন পর একা পরিবারের সকলের দেখবাল, রান্না ইত্যাদি কাজ মা একাই করেছেন। অনেক সময় এমনও হতো মা ব্যথায় কাঁদতো,কিন্ত বাবাকেও বুঝতে দিতেন না। মায়ের কথা বলতে গেলে তবে কি কখনো শেষ হওয়ার! জোয়ান হেরিস বলেছিলেন – “সন্তানরা ধারালো চাকুর মতো। তারা না চাইলেও মায়েদের কষ্ট দেয়। আর মায়েরা তাদের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত সন্তানদের সঙ্গে লেগে থাকে”।

 

অন্য আরেক ব্রিটিশ লেখিকা জেকে রাউলিং বলেছিলেন- “মায়ের ভালোবাসা এতটাই শক্তিশালী যে এটি সব সময় নিজের চিহ্ন রেখে যায়। এত বেশি গভীর আর শক্তিধর সেই ভালোবাসা, যা সারা জীবন সুরক্ষা কবজের মতো আমাদের ঘিরে থাকে” । তাই আজ মা দিবসে আমর মাসহ বিশ্বের সকল মায়েদের কে স্যালুট জানাই।

লেখক: শিক্ষার্থী, ফেনী সরকারি কলেজ

 

 

পূর্বকোণ/এএইচ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট