চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

‘পটিয়া মাদ্রাসার ঐতিহ্যকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ মার্চ, ২০২৪ | ৩:০৮ অপরাহ্ণ

গত ১৪ ফেব্রুয়ারির মজলিসে শুরাকে অবৈধ আখ্যায়িত করে এই শুরার মাধ্যমে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে মহাপরিচালক করে শতবর্ষী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পটিয়া মাদ্রাসার ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাবেক কৃতি শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও নিপীড়িত শিক্ষক-ছাত্রদের সমন্বয়ে গঠিত পটিয়া মাদ্রাসা ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ নেতৃবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান মিলনায়তনে ঐতিহ্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পটিয়া মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত বিতর্কিত মজলিসে শুরায় উপস্থিত মুরব্বিরা মহাপরিচালক মাওলানা ওবাইদুল্লাহ হামযাহর প্রতি সুবিচার করেননি। তারা মাওলানা ওবাইদুল্লাহর কোনো বক্তব্য শ্রবণ কিংবা আত্মপক্ষ সমর্পণের সুযোগ দেননি। এর ফলে তাদের প্রতি অভিভাবকসুলভ যে আস্থা ও বিশ্বাস জাতির ছিল, তা ক্ষুণ্ণ হয়েছে মন্তব্য করে নেতৃবৃন্দ বলেন, পটিয়া মাদ্রাসায় বর্তমানে যে ব্যক্তিকে মহাপরিচালক নিয়োগ করা হয়েছে তিনি একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এহসান এসের চেয়ারম্যান হিসেবে গরিব গ্রাহকদের শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় দুই ডজন মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পটিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদের ফুঁসলিয়ে যে নজিরবিহীন সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটানো হয়েছে, মুরব্বিরা সেগুলোকে অনুমোদন দিয়েছেন এবং অপরাধীদের রক্ষা করেছেন।

সেগুনবাগান তালিমুল কুরআন মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের পরিচালক হাফেজ মোহাম্মদ তৈয়বের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি জামিয়া ইসলামিয়া বায়তুল হুদার মুহতামিম ও জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার মজলিসে শুরার সদস্য হজরত মাওলানা এমদাদুল্লাহ নানুপুরী, শোভনদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল আলীম, জামিয়া দারুল মাআরিফ চট্টগ্রামের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা নুরুল আমীন মাদানি, পটিয়া পৌরসভার সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ ইবরাহীম, ছনহারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার মাহবুবুল আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন, মাওলানা আবদুল আজীজ, মাওলানা আমিনুর রশীদ পটিয়াবী, মাওলানা কুতুবুদ্দীন, মাওলানা হোসাইন আহমদ ও মাওলানা উজাইরুল্লাহ প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ২৮ অক্টোবরের সন্ত্রাসী হামলার পর বিভিন্ন নিপীড়িত শিক্ষক-ছাত্রসহ মাওলানা জামালুদ্দীন, মাওলানা বোরহানুদ্দীন, মাওলানা সগির আহমদ চৌধুরী, হোযাইফা মালিক, জুবাইর ও সোহরাব হোসেন আইমন।

এক প্রশ্নের জবাবে নেতৃবৃন্দ বলেন, হেফাজতে ইসলাম বা পটিয়া মাদ্রাসার কারও সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা পছন্দ-অপছন্দ নেই। হেফাজতে ইসলামের কতিপয় নেতা পটিয়ার ঘটনায় যে অনাধিকার চর্চা ও অনৈতিক হস্তক্ষেপ করছেন তা তাদের ব্যক্তিগত, এতে হেফাজতের সাধারণ কর্মি-সমর্থকদের কোনো সমর্থন নেই। উপর্যুক্ত ব্যক্তিবর্গ হেফাজতকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করছেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে পটিয়া মাদ্রাসায় সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি নতুন শুরা গঠনের নামে প্রহসনমূলক সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সেই সঙ্গে সরকার, প্রশাসন ও সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ জনগণের প্রতি আমাদের দাবি হলো-
পটিয়া মাদ্রাসা ইত্তেহাদুল মাদারিসের সংবিধান অনুযায়ী নিয়মাতিন্ত্রক ও বৈধ মজলিসে শূরার মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দ্বারা পরিচালনার ব্যবস্থা, ২৮ অক্টোবর (২০২৩) মাদ্রাসায় সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাদ্রাসার মহাপরিচালক হিসেবে মাওলানা ওবাইদুল্লাহ হামযাহর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহের সত্যতা যাছাইয়ে নিরপেক্ষ নিরপেক্ষ কমিটি গঠন। তদন্তে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট