চট্টগ্রাম সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৪

মশার নগরীতে পরিণত চট্টগ্রাম

যিকরু হাবিবীল ওয়াহেদ

২০ মার্চ, ২০২৪ | ১১:৫৪ অপরাহ্ণ

‘রাতে মশা,দিনে মাছি, এই নিয়েই আছি।’ এখন রাতদিন মশা আর মশা। যেন মশার নগরীতে পরিণত চট্টগ্রাম। তাছাড়া নগরজীবন যেন দিন দিন কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে প্রতিনিয়ত। কোন মৌসুমেই স্বস্তি নেই নগরবাসীর। শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালি, বর্ষাকালে পড়তে হয় জলাবদ্ধতায়, আর শীতকাল শেষে মশার প্রকোপ যেন নগরবাসীর কপালের লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

এক সময়ের ক্লিন সিটি চট্টগ্রাম এখন এমন যে, রাস্তায় বের হলে পড়তে হয় যানজটে, হাঁটাচলার ফুটপাত দখল করে নির্মাণ হয়েছে দোকান, ধুলোবালিতে আচ্ছন্ন নগরী, ভাঙ্গা গর্তে ভরা রাস্তা, যেখানে সেখানে ময়লার স্তূপ, খোলা নালা খাল, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ভয়াবহ কিশোর গ্যাং ইত্যাদি সমস্যায় জর্জরিত। তবে সবগুলোকে চাপিয়ে মশার যন্ত্রণায় যেন প্রাণ যায় যায় অবস্থা নগরবাসীর।

 

এতো বেশি মশা নগরবাসী অতীতে পরিলক্ষিত করেনি কখনোই। নগরীর খাল নালা, ডাস্টবিনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করা এবং যথাযথভাবে মশার ওষুধ না ছিটানোর কারণে মশার অতি বিস্তার হওয়ার কারণ মনে করছেন নগরবাসী। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে প্রতিবছর মশার ওষুধের জন্য আলাদা বাজেট এবং ব্যবস্থা থাকার পরও কেন এই অবস্থা সেই প্রশ্নও আছে নগরবাসীর।

 

মশার কামড়ে শিশু কিশোর যুবক বৃদ্ধসহ সব বয়সের মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। মশার কামড়ে ডেঙ্গু ম্যালেরিয়া জ্বর চর্মরোগসহ ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে নগরবাসী প্রতিনিয়ত; বিশেষত শিশু নারী এবং বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। মশার যন্ত্রণায় মা বোনেরা ঠিকমতো তাদের রান্নার কাজ করতে পারছেন না, শিক্ষার্থীরা তাদের পড়ালেখা, মুসল্লিরা নামাজ প্রার্থনা, চাকরিজীবীরা তাদের অফিস, আইনজীবী বিচারক বিচারপ্রার্থীরা আদালত, দোকানিরা দোকানদারী, এমনকি নগরবাসী ঠিকমতো তাদের শৌচকার্য পর্যন্ত সারতে পারছেন না মশার যন্ত্রণায়। দিনেও মশারি টাঙিয়ে রেহাই নেই মশার কামড় থেকে।

 

মশার কামড় না খেয়ে এক মিনিট কোথাও দাঁড়ানো পর্যন্ত যায় না এই নগরে। এক কথায় চট্টগ্রাম নগর এখন মশার নগরীতে পরিণত হয়েছে বললেও অত্যুক্তি হবে না।

 

নগর পরিচ্ছন্ন রাখবার সংস্থা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রমও তেমন আর চোখে পড়ে না। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কালেভদ্রে মশার ওষুধ ছিটাতে দেখা যায়। সিটি কর্পোরেশনের রুটিন ওয়ার্ক ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজও যাচ্ছেতাই অবস্থা। যার কারণে মশার বিস্তার ঘটছে রকেটগতিতে।

 

এমতাবস্থায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন তাদের রুটিন ওয়ার্ক নালা খাল ডাস্টবিনগুলো ঠিকমতো প্রতিনিয়ত পরিষ্কার করে, মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করাসহ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে চট্টগ্রাম নগরবাসীকে মশার যন্ত্রণা থেকে রেহাই দিবে এমনটাই প্রত্যাশা নগরবাসীর।

 

লেখক: কলামিস্ট, সংগঠক

 

পূর্বকোণ/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট